বিএলআরআইয়ের উদ্ভাবিত এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও গোটপক্স ভ্যাকসিন যাবে খামারি পর্যায়ে
- আপডেট সময় : ০৮:০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
- / 4

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) উদ্ভাবিত এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও গোটপক্স ভ্যাকসিন বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করে খামারি পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিএলআরআই উদ্ভাবিত দুটি ভ্যাকসিন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন এবং খামারি পর্যায়ে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রাণিসম্পদ ও পোলট্রি খাত দেশের কৃষি অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ খাতে রোগব্যাধি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে খামারিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। বিশেষ করে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো রোগ পোলট্রি উৎপাদন ও খামার ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দেশীয়ভাবে কার্যকর ভ্যাকসিন উদ্ভাবন ও উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
তিনি বলেন, ভ্যাকসিন হস্তান্তরের এই উদ্যোগ শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং গবেষণাগারে অর্জিত জ্ঞান ও উদ্ভাবনকে মাঠপর্যায়ের খামারিদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দেশীয় প্রযুক্তি ও উপকরণ ব্যবহার করে উদ্ভাবিত এসব ভ্যাকসিন প্রাণিসম্পদ ও পোলট্রি খাতে রোগ নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং আমদানি নির্ভরতা হ্রাসে ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিনের গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বিএলআরআইয়ের বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা এসব ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেছেন। গবেষণাগারে কোনো উদ্ভাবন সম্পন্ন হওয়ার পর তা সাধারণ মানুষের কাজে না এলে গবেষণার পূর্ণ সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। তাই এখন এসব ভ্যাকসিনের বাণিজ্যিক উৎপাদন ও খামারি পর্যায়ে ব্যবহার নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য।
কৃষি ও কৃষকবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। কৃষির উন্নতি হলে দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। তাই কৃষক ও কৃষিকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে সামগ্রিক অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন ও স্বাদ ধরে রাখতে নদী পুনঃখনন, পানির প্রবাহ বৃদ্ধি, জাটকা নিধন বন্ধ এবং কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি জেলেদের শুধু খাদ্য সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিকল্প কর্মসংস্থানের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশীয়ভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হওয়ায় আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং ধীরে ধীরে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যাবে দেশ। ওষুধ ও ভ্যাকসিন উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বাড়লে উৎপাদন ব্যয়ও কমবে, যার ইতিবাচক প্রভাব খাদ্য ও প্রাণিসম্পদজাত পণ্যের দামেও পড়বে।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে সামনে রেখে দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক, বিজ্ঞানী, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, শিল্প উদ্যোক্তা, খামারি প্রতিনিধি এবং ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
























