আগামী ১০ বছরের বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপন করা হবে: তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ০৬:৪২:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 0

আগামী ১০ বছরে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেশের শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের সমুদ্রসৈকতে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে কিছুদিন ধরে একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। বিএনপি সরকার তাদের পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপন করবে। অন্যদেরও নিজেদের পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট করা উচিত নয়।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেছে। এখন জনগণের জন্য কাজ করার এবং দেশ গঠনে মনোযোগ দেওয়ার সময়। বাংলাদেশের পর স্বাধীন হওয়া অনেক দেশ কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এগিয়ে গেছে। তাই আর পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই। জনগণের জীবনমান ও দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে কাজ করতে হবে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময়ে এ খাত গুটিকয়েক ব্যক্তির স্বার্থে পরিচালিত হয়েছে এবং বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, যা দেশের মানুষের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। এখন জনগণের স্বার্থে পুরো ব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে সাজাতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। ইতোমধ্যে এ কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়িতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি যানবাহনের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসের ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আনোয়ারায় চীনের জন্য বড় একটি শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে কয়েকশ মিল-কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে চট্টগ্রামের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বাড়বে।
সমাবেশে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এর মধ্যে বাঁশখালী উপজেলায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এ কার্ড পাবে।
পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু ধান, পাট, শাকসবজি বা অন্যান্য ফসল চাষিরাই নয়, লবণচাষিরাও কৃষক কার্ডের আওতায় আসবেন।
লবণচাষিদের স্বাবলম্বী করতে লবণের মূল্য নির্ধারণের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তারেক রহমান। নির্ধারিত মূল্য শিগগিরই সবাইকে জানানো হবে এবং এর ফলে লবণচাষিদের অর্থনৈতিক দুর্ভোগ কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ ছাড়া বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।























