ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে ধাপে ধাপে রাজধানীর ভবন যাচাই করবে রাজউক
- আপডেট সময় : ০৬:০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
- / 7

রাজধানীর ভবনগুলোর ত্রুটি চিহ্নিত করে ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা) আয়োজিত ‘ভূমিকম্প ঝুঁকিতে দেশ: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, ভূমিকম্পে ভবন ধসের জন্য শুধু ভবনের উচ্চতা দায়ী নয়। ত্রুটিপূর্ণ নকশা, দুর্বল মাটি, নির্মাণে অনিয়ম এবং প্রকৌশলগত মান না মানার কারণেও ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই ভবন নির্মাণে অনুমোদিত নকশা, মাটি পরীক্ষা ও প্রকৌশলগত মান নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি জানান, রাজধানীতে বিপুলসংখ্যক ভবন থাকায় একসঙ্গে সব ভবনের ঝুঁকি নিরূপণ করা সম্ভব নয়। এ কারণে ধাপে ধাপে র্যাপিড ভিজ্যুয়াল অ্যাসেসমেন্ট, প্রিলিমিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট এবং ডিটেইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ভূমিকম্প মোকাবিলায় রাজউকের সক্ষমতা বাড়াতে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভূমিকম্পের আগে ভবন ও এলাকার ঝুঁকি নিরূপণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
ভবন নির্মাণে অনিয়মের বিষয়ে রিয়াজুল ইসলাম বলেন, অনুমোদিত ছয়তলা ভবন নিয়মবহির্ভূতভাবে ১০ তলা করা কিংবা অনুমোদিত নকশা পরিবর্তন করে নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। এ ধরনের ভবনের ক্ষেত্রে কারিগরি ও আইনগত যাচাই ছাড়া অনুমোদন দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, ভবনের নকশা প্রণয়নকারী স্থপতি ও প্রকৌশলীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শুধু নকশায় স্বাক্ষর করলেই হবে না, নির্মাণকাজের বাস্তবায়ন ও তদারকিতেও তাদের দায়িত্ব নিতে হবে। অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ভবন মালিকদের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মাণকাজ সম্পন্ন এবং অকুপেন্সি সার্টিফিকেট নেওয়ার আহ্বান জানান রাজউক চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনিয়মের তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ভূমিকম্পের ঝুঁকি শুধু ভবনের নকশা ও নির্মাণমানের ওপর নির্ভর করে না; ভবনটি কোথায় এবং কী ধরনের মাটির ওপর নির্মিত হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দুর্বল ও জলাভূমি এলাকায় অপরিকল্পিত আবাসন প্রকল্প ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভূমিকম্প মোকাবিলায় কোনো একক সংস্থার পক্ষে কার্যকরভাবে কাজ করা সম্ভব নয়। ঢাকার আশপাশের ৪১টি ফায়ার স্টেশনকে এয়ারমার্ক করা হয়েছে এবং বিশেষ রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি সব সংস্থার সমন্বিত প্রস্তুতি প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, ভবন নির্মাণে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) ও সংশ্লিষ্ট আইন মেনে চলার পাশাপাশি ফায়ার সেফটি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং পরিবার, কমিউনিটি ও জাতীয় পর্যায়ে আগাম প্রস্তুতি জোরদার করা জরুরি।






















