বাবার নির্যাতন থেকে ৫০০ টাকা হাতে মুম্বাই, শৈশবের ভয়াবহ স্মৃতি জানালেন রবি কিষাণ
- আপডেট সময় : ০৪:৪৩:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
- / 3

পর্দায় হাসিখুশি উপস্থিতি ও অভিনয় দিয়ে দর্শকের ভালোবাসা পাওয়া ভোজপুরি ও বলিউড অভিনেতা এবং সংসদ সদস্য রবি কিষাণের শৈশব কেটেছে কঠোর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে। সম্প্রতি ভারতের জনপ্রিয় পডকাস্টার রাজ শামানির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সেই কঠিন সময়ের নানা অজানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন তিনি।
রবি কিষাণ জানান, তার বাবা ছিলেন একজন পুরোহিত এবং ছোটবেলা থেকেই কঠোর অনুশাসনের মধ্যে তাকে বড় হতে হয়েছে। ঈশ্বরের প্রতি বাবার অন্ধ ভক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা কিংবা রামলীলায় দেবী সীতার চরিত্রে অভিনয় করায় প্রায়ই বাবার রোষের মুখে পড়তেন তিনি।
শৈশবের সেই নির্যাতনের স্মৃতিচারণ করে রবি বলেন, তার বাবা কখনো মুখে ভালোবাসা বা অনুভূতি প্রকাশ করতে পারতেন না। তাদের মধ্যে কখনো আলিঙ্গনের মতো স্বাভাবিক আবেগের প্রকাশও ছিল না। ফলে বাবার কঠোর আচরণকেও তিনি তখন ভালোবাসা প্রকাশের এক ধরনের মাধ্যম হিসেবে দেখতেন।
অভিনয়ের প্রতি আগ্রহও মেনে নিতে পারেননি তার বাবা। তিনি চেয়েছিলেন ছেলে চাষাবাদ, দুধ বিক্রি কিংবা সরকারি চাকরির মতো পেশায় যুক্ত হোক। কিন্তু অভিনয় ও নাচের প্রতি রবির আগ্রহ বাবার সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি এতটাই কঠিন হয়ে ওঠে যে, রবি কিষাণকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হয়। তিনি জানান, একদিন বাবার নির্যাতনের মাত্রা চরমে পৌঁছালে তার মা তাকে রক্ষা করেন। মা হাতে ৫০০ টাকা দিয়ে তাকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেন। সেই সামান্য অর্থ নিয়েই অভিনয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে মুম্বাইয়ের উদ্দেশে পাড়ি জমান তিনি।
মুম্বাইয়ে শুরুর দিনগুলোও সহজ ছিল না। খাবার ও পোশাকের সংকটসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তাকে এগোতে হয়েছে। তবে নিজের স্বপ্নের প্রতি বিশ্বাস হারাননি। দীর্ঘ ৩৩ বছরের সংগ্রামের পর ধীরে ধীরে সাফল্য পান এবং প্রতিষ্ঠিত তারকা হিসেবে নিজের জায়গা তৈরি করেন।
সফলতা পাওয়ার পর বাবার জীবনও বদলে দেওয়ার চেষ্টা করেন রবি। বাবাকে আরাম-আয়েশের জীবন দেওয়ার পর একসময় তার বাবা আবেগাপ্লুত হয়ে ছেলের কাছে ক্ষমা চান। নিজের ভুল স্বীকার করে বাবার সেই ক্ষমাপ্রার্থনা গ্রহণ করেন রবি কিষাণও।
শৈশবের তিক্ত অভিজ্ঞতার পরও জীবনের শেষ সময়ে বাবার সঙ্গে তার সম্পর্কের উন্নতি হয়েছিল বলে জানান এই অভিনেতা। কঠিন অতীত পেরিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে শেষ পর্যন্ত একটি মধুর সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল।


























