ঢাকা ০২:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
আজ সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির আশা: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনাময় খাত খুঁজতে হবে, হালাল ইকোসিস্টেম গড়ার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ভারতের তৈরি ১৯ এলএইচবি কোচের প্রথম রেক প্রস্তুত বিএলআরআইয়ের উদ্ভাবিত এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ও গোটপক্স ভ্যাকসিন যাবে খামারি পর্যায়ে যোগ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে জ্বালানি তেল আমদানি-বিক্রির সুযোগ দিতে নীতিমালা: জ্বালানিমন্ত্রী বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের আভাস, বাড়তে পারে বৃষ্টি ও ভারি বর্ষণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি, সিদ্ধান্ত নেবেন তারেক রহমান ইরানের হামলার আশঙ্কায় ট্রাম্পকে গোপনে বিমানে তুলল যুক্তরাষ্ট্র, এয়ার ফোর্স ওয়ান ছিল ‘ডেকয়’ জাতীয় দলের ফুটবলারদের ‘খেপ’ খেলা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সালমান-শাবনূরের প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন নীলা চৌধুরী

গ্যাস-কয়লা সংকটে দেশজুড়ে ভয়াবহ লোডশেডিং, কোথাও কোথাও ১০ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ নেই

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:২৬:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 10

দেশজুড়ে তীব্র গরমের মধ্যে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও সংকটজনক। দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিনের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সময় পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও টানা ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার কথাও জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলমান বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে প্রধানত গ্যাস ও কয়লার ঘাটতি, ভারত থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়া এবং সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা দায়ী।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম হচ্ছে। বিশেষ করে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। পাশাপাশি কয়লার সংকট ও বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের যান্ত্রিক সমস্যাও উৎপাদন ঘাটতি বাড়িয়েছে।

পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, গ্যাস ও কয়লার সংকটের কারণে লোডশেডিং বেড়েছে। তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও দীর্ঘ সময় চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে ধাপে ধাপে তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।

এদিকে ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। পিডিবি জানিয়েছে, কয়লা পরিবহনে সমস্যার কারণে আদানির বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। তবে তাদের দেওয়া তথ্যের সত্যতা পিডিবি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) হিসাবে, রোববার বিকেল ৩টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৫৯ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১২ হাজার ৩৮৮ মেগাওয়াট। বিকেল ৫টার দিকে সরবরাহ কিছুটা বেড়ে প্রায় ১৩ হাজার মেগাওয়াট হলেও তখনও লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৯৬৭ মেগাওয়াট।

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে গড়ে উৎপাদন হচ্ছে সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট। দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ১০০ কোটি ঘনফুটের বেশি হলেও সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ৭০ কোটি ঘনফুট। ফলে গ্যাসের ঘাটতির কারণে অন্তত ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে।

অন্যদিকে, কয়লা সংকট ও বিভিন্ন যান্ত্রিক সমস্যার কারণে বড়পুকুরিয়া, মাতারবাড়ী, পায়রা, রামপালসহ কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রেও উৎপাদন কমেছে। সব মিলিয়ে কয়লা ও অন্যান্য কারণে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে স্বাভাবিক উৎপাদনের তুলনায় অন্তত ১ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছে পিডিবি।

এ ছাড়া সঞ্চালন লাইনের সমস্যা এবং বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত জটিলতাও লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, একটি বিভাগে একটি মাত্র বিতরণ কোম্পানি থাকলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হতে পারে এবং লোডশেডিং উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

গ্যাস সংকটের পেছনেও সাম্প্রতিক একটি ঘটনা বড় ভূমিকা রেখেছে। গত ২১ জুলাই মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর দৈনিক প্রায় ৫১ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে গ্যাসের সংকট তীব্র হয়।

মেরামতের পর গত ৫ আগস্ট রাতে টার্মিনালটি থেকে আংশিকভাবে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে সোমবার রাত অথবা মঙ্গলবার থেকে টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করতে পারে।

জ্বালানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তীব্র গরমের মধ্যে দেশজুড়ে লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও কিছুটা অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

গ্যাস-কয়লা সংকটে দেশজুড়ে ভয়াবহ লোডশেডিং, কোথাও কোথাও ১০ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ নেই

আপডেট সময় : ০৫:২৬:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

দেশজুড়ে তীব্র গরমের মধ্যে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও সংকটজনক। দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিনের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সময় পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও টানা ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার কথাও জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলমান বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে প্রধানত গ্যাস ও কয়লার ঘাটতি, ভারত থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়া এবং সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা দায়ী।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম হচ্ছে। বিশেষ করে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। পাশাপাশি কয়লার সংকট ও বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের যান্ত্রিক সমস্যাও উৎপাদন ঘাটতি বাড়িয়েছে।

পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, গ্যাস ও কয়লার সংকটের কারণে লোডশেডিং বেড়েছে। তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও দীর্ঘ সময় চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে ধাপে ধাপে তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।

এদিকে ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। পিডিবি জানিয়েছে, কয়লা পরিবহনে সমস্যার কারণে আদানির বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। তবে তাদের দেওয়া তথ্যের সত্যতা পিডিবি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) হিসাবে, রোববার বিকেল ৩টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৫৯ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১২ হাজার ৩৮৮ মেগাওয়াট। বিকেল ৫টার দিকে সরবরাহ কিছুটা বেড়ে প্রায় ১৩ হাজার মেগাওয়াট হলেও তখনও লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ৯৬৭ মেগাওয়াট।

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে গড়ে উৎপাদন হচ্ছে সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট। দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ১০০ কোটি ঘনফুটের বেশি হলেও সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ৭০ কোটি ঘনফুট। ফলে গ্যাসের ঘাটতির কারণে অন্তত ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে।

অন্যদিকে, কয়লা সংকট ও বিভিন্ন যান্ত্রিক সমস্যার কারণে বড়পুকুরিয়া, মাতারবাড়ী, পায়রা, রামপালসহ কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রেও উৎপাদন কমেছে। সব মিলিয়ে কয়লা ও অন্যান্য কারণে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে স্বাভাবিক উৎপাদনের তুলনায় অন্তত ১ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছে পিডিবি।

এ ছাড়া সঞ্চালন লাইনের সমস্যা এবং বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত জটিলতাও লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, একটি বিভাগে একটি মাত্র বিতরণ কোম্পানি থাকলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হতে পারে এবং লোডশেডিং উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

গ্যাস সংকটের পেছনেও সাম্প্রতিক একটি ঘটনা বড় ভূমিকা রেখেছে। গত ২১ জুলাই মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর দৈনিক প্রায় ৫১ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে গ্যাসের সংকট তীব্র হয়।

মেরামতের পর গত ৫ আগস্ট রাতে টার্মিনালটি থেকে আংশিকভাবে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে সোমবার রাত অথবা মঙ্গলবার থেকে টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করতে পারে।

জ্বালানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তীব্র গরমের মধ্যে দেশজুড়ে লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও কিছুটা অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।