১৮০ দিনের অর্জন-সীমাবদ্ধতা জনগণের সামনে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৩:১৯:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
- / 2

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড ও অগ্রগতি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম পর্যালোচনা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই জনগণের সামনে সরকারের অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্য উপদেষ্টা জানান, সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম মূল্যায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের সমন্বয়ে একটি কমিটি কাজ করছে। তিনি নিজেও ওই কমিটির সদস্য। মন্ত্রণালয়গুলোর কর্মকাণ্ড ও অগ্রগতি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
রেলপথ সম্প্রসারণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, ইশতেহারে ঘোষিত আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেন সেবা সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে ‘অভিযাত্রিক কমিউটার’ নামে নতুন এক জোড়া ট্রেন চালু করা হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে এক বছরের আলোচনার পর সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের ৮ হাজার ৪২৮টি পণ্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। একইভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার ১ হাজার ৫৪টি পণ্য বাংলাদেশের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সিলেট সিটি করপোরেশন জেলায় প্রথম বায়ো-ড্রাইং প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে। এটি চালু হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি বর্জ্য থেকে বিকল্প জ্বালানি উৎপাদন ও বৃত্তাকার অর্থনীতি গড়ে তুলতেও প্ল্যান্টটি ভূমিকা রাখবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণ ও নারীর ক্ষমতায়নে সামাজিক সুরক্ষার অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, পরীক্ষামূলকভাবে গত ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু হয়। জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৭০ হাজার ৮৬১টি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে তথ্য সংগ্রহ শেষে আগামী ১০ অক্টোবর থেকে ধারাবাহিকভাবে সারা দেশে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম শেষে প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, ১৮০ দিনের কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রী জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারেন। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

























