বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাংকের ১.১ বিলিয়ন ডলারের জরুরি সহায়তা, কৃষি ও জীবিকা সুরক্ষায় বড় অর্থায়ন
- আপডেট সময় : ০৫:৪০:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
- / 16

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষি উৎপাদন সচল রাখা, জীবিকা রক্ষা এবং বৈশ্বিক সার ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা) জরুরি সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক।
শুক্রবার (২৬ জুন) দুটি পৃথক প্রকল্পের আওতায় এই অর্থায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে বিশ্বব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেসমে বলেন, এই সহায়তার মাধ্যমে ধান চাষের জন্য প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা, মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকা রক্ষা এবং জরুরি সেবা কার্যক্রম সচল রাখতে সহায়তা করা হবে।
অনুমোদিত অর্থের মধ্যে ‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি প্রজেক্ট’-এর আওতায় ৩০ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে ২০২৬ সালের আমন ও ২০২৬-২৭ মৌসুমের বোরো চাষের জন্য প্রয়োজনীয় সার আমদানিতে অর্থায়ন করা হবে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট সারের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ৬ লাখ টন সার আমদানির অর্থায়ন করা হবে, যার অর্ধেকই ইউরিয়া। এর ফলে প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর জমিতে ক্ষুদ্র কৃষকদের ধান উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সহায়তা মিলবে।
প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার ও বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ সুলেমান কৌলিবালি বলেন, দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে আমন ও বোরো মৌসুম থেকে। এছাড়া দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাই সারের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য পরিস্থিতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে ‘কনটিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় আরও ৭১ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৮ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ দ্রুত ছাড় করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নগদ সহায়তা, জীবিকা পুনরুদ্ধার এবং জরুরি সেবার জন্য ব্যয় করা হবে।
এ অর্থ দিয়ে খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহসহ জরুরি সেবা অব্যাহত রাখতে জ্বালানি খাতেও ব্যয় করা হবে। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, প্রকল্পের অর্থ আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ছাড় করা হবে।
বিশ্বব্যাংকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ লেসলি জিন ইউ করদেরো বলেন, চলমান প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে দ্রুত এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে মানুষ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মসংস্থানকে অর্থনৈতিক চাপ থেকে সুরক্ষা দেওয়া সহজ হবে।
























