ঢাকা ০৬:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেন অভিনেতা জাহের আলভী ‘ছাগল কাণ্ডে’ আলোচিত সাদিক এগ্রোর চেয়ারম্যান ইমরান গ্রেফতার, হত্যাচেষ্টা মামলায় কারাগারে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌর বিদ্যুতে জোর, প্রধানমন্ত্রীর তিন নির্দেশনা গ্যাস বিলে অনিয়মের মাধ্যমে ৯৮২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, ইউনাইটেড গ্রুপের বিরুদ্ধে দুদকের প্রাথমিক সত্যতা ‘৫ বছর ক্ষমতায় থাকতে দেব না’—এমন ভাষা শেখ হাসিনাও ব্যবহার করতেন: মির্জা ফখরুল ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে কত মুনাফা? জেনে নিন কারা কিনতে পারবেন ও কী কী সুবিধা মিলবে জ্বালানির দাম বাড়তেই যুক্তরাজ্যে পেট্রোলপাম্পে চুরি বেড়েছে, প্রতিদিন উধাও ৩ কোটি টাকার বেশি জ্বালানি জর্জিনা রদ্রিগেজের হিব্রু ক্যাপশন ঘিরে তুমুল আলোচনা, প্রশ্নের মুখে রোনালদো পরিবার রামগোপাল ভার্মা-ঊর্মিলা কি গোপনে বিয়ে করেছিলেন? প্রবীণ সাংবাদিকের বিস্ফোরক দাবি ব্র্যাক ব্যাংকে ‘অফিসার’ পদে নিয়োগ, আবেদন চলছে ১০ আগস্ট পর্যন্ত

জ্বালানির দাম বাড়তেই যুক্তরাজ্যে পেট্রোলপাম্পে চুরি বেড়েছে, প্রতিদিন উধাও ৩ কোটি টাকার বেশি জ্বালানি

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:২৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / 0

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সংঘাত শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে যুক্তরাজ্যেও। দাম বাড়ার পাশাপাশি দেশটিতে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে পেট্রোলপাম্প থেকে জ্বালানি চুরির ঘটনাও। শিল্পসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত পাঁচ মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার পাউন্ড, অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ২২ লাখ টাকার জ্বালানি চুরি হয়েছে।

জ্বালানি খাতে অপরাধ প্রতিরোধে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ফোরকোর্ট আই-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির পরবর্তী পাঁচ মাসে পেট্রোলপাম্প থেকে অর্থ পরিশোধ না করেই জ্বালানি নিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনা আগের পাঁচ মাসের তুলনায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয়। এর ফলে পাইকারি তেলের দাম বাড়ে এবং সেই প্রভাব যুক্তরাজ্যের খুচরা বাজারেও পড়ে। যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় চুরি হওয়া জ্বালানির আর্থিক মূল্য ৪৮ শতাংশ বেড়ে দৈনিক গড়ে ১ লাখ ৯৪ হাজার পাউন্ডে পৌঁছেছে। একই সময়ে চুরি হওয়া জ্বালানির পরিমাণও ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার ৯০০ লিটার হয়েছে।

ফোরকোর্ট আই যুক্তরাজ্যের ৫৫০টি পেট্রোলপাম্পের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। পরে তা দেশটির মোট ৮ হাজার ৩৫৯টি পেট্রোল স্টেশনের তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতীয় চিত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ হাজার ৪০০টি জ্বালানি চুরির ঘটনা ঘটত, বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৮৭২টিতে পৌঁছেছে। এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে অর্থ পরিশোধ না করেই গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যাওয়া এবং জ্বালানি নেওয়ার পর মূল্য পরিশোধে অক্ষমতার দাবি করা।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে পেট্রোলপাম্পের কর্মীরাও বাড়তি চাপের মুখে পড়েছেন। ফোরকোর্ট আই জানিয়েছে, ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের কাছ থেকে কর্মীরা মৌখিক গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এমনকি সহিংস আচরণেরও শিকার হচ্ছেন।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানটি মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ফেসওয়াচ-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ শুরু করেছে। আগামী শরৎকাল থেকে দুই হাজারের বেশি খুচরা বিক্রেতাকে বিনামূল্যে অপরাধ শনাক্তকরণ ও রিপোর্টিং প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে।

এদিকে, এপ্রিল মাসে জ্বালানির দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালেও জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনের একটি কাঠামোগত সমঝোতার পর কিছুটা কমে আসে। তবে শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর আবারও দাম বাড়তে শুরু করেছে। গত সপ্তাহে পেট্রোলের দাম মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুরুর পর সর্বোচ্চ এবং ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, ইরান-সংকটকে অজুহাত করে কেউ অযৌক্তিকভাবে জ্বালানির দাম বাড়ালে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে দেশটির প্রতিযোগিতা ও বাজার কর্তৃপক্ষ বলেছে, এখন পর্যন্ত ব্যাপক আকারে মূল্য কারসাজির প্রমাণ মেলেনি। যদিও কয়েকটি সুপারমার্কেট ও খুচরা বিক্রেতার অতিরিক্ত মুনাফার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ব্রিটিশ রিটেইল কনসোর্টিয়াম বলেছে, বাজারে প্রতিযোগিতার কারণেই জ্বালানির দাম যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। তাদের মতে, জাতীয় বীমা অবদান বৃদ্ধি, প্যাকেজিং কর এবং পুরোনো ব্যবসায়িক করব্যবস্থার মতো অতিরিক্ত ব্যয়ও মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

সূত্র: বিবিসি

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

জ্বালানির দাম বাড়তেই যুক্তরাজ্যে পেট্রোলপাম্পে চুরি বেড়েছে, প্রতিদিন উধাও ৩ কোটি টাকার বেশি জ্বালানি

আপডেট সময় : ০৫:২৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সংঘাত শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে যুক্তরাজ্যেও। দাম বাড়ার পাশাপাশি দেশটিতে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে পেট্রোলপাম্প থেকে জ্বালানি চুরির ঘটনাও। শিল্পসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত পাঁচ মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার পাউন্ড, অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ২২ লাখ টাকার জ্বালানি চুরি হয়েছে।

জ্বালানি খাতে অপরাধ প্রতিরোধে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ফোরকোর্ট আই-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির পরবর্তী পাঁচ মাসে পেট্রোলপাম্প থেকে অর্থ পরিশোধ না করেই জ্বালানি নিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনা আগের পাঁচ মাসের তুলনায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয়। এর ফলে পাইকারি তেলের দাম বাড়ে এবং সেই প্রভাব যুক্তরাজ্যের খুচরা বাজারেও পড়ে। যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় চুরি হওয়া জ্বালানির আর্থিক মূল্য ৪৮ শতাংশ বেড়ে দৈনিক গড়ে ১ লাখ ৯৪ হাজার পাউন্ডে পৌঁছেছে। একই সময়ে চুরি হওয়া জ্বালানির পরিমাণও ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার ৯০০ লিটার হয়েছে।

ফোরকোর্ট আই যুক্তরাজ্যের ৫৫০টি পেট্রোলপাম্পের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। পরে তা দেশটির মোট ৮ হাজার ৩৫৯টি পেট্রোল স্টেশনের তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতীয় চিত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ হাজার ৪০০টি জ্বালানি চুরির ঘটনা ঘটত, বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৮৭২টিতে পৌঁছেছে। এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে অর্থ পরিশোধ না করেই গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যাওয়া এবং জ্বালানি নেওয়ার পর মূল্য পরিশোধে অক্ষমতার দাবি করা।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে পেট্রোলপাম্পের কর্মীরাও বাড়তি চাপের মুখে পড়েছেন। ফোরকোর্ট আই জানিয়েছে, ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের কাছ থেকে কর্মীরা মৌখিক গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এমনকি সহিংস আচরণেরও শিকার হচ্ছেন।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানটি মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ফেসওয়াচ-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ শুরু করেছে। আগামী শরৎকাল থেকে দুই হাজারের বেশি খুচরা বিক্রেতাকে বিনামূল্যে অপরাধ শনাক্তকরণ ও রিপোর্টিং প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে।

এদিকে, এপ্রিল মাসে জ্বালানির দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালেও জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনের একটি কাঠামোগত সমঝোতার পর কিছুটা কমে আসে। তবে শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর আবারও দাম বাড়তে শুরু করেছে। গত সপ্তাহে পেট্রোলের দাম মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুরুর পর সর্বোচ্চ এবং ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, ইরান-সংকটকে অজুহাত করে কেউ অযৌক্তিকভাবে জ্বালানির দাম বাড়ালে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে দেশটির প্রতিযোগিতা ও বাজার কর্তৃপক্ষ বলেছে, এখন পর্যন্ত ব্যাপক আকারে মূল্য কারসাজির প্রমাণ মেলেনি। যদিও কয়েকটি সুপারমার্কেট ও খুচরা বিক্রেতার অতিরিক্ত মুনাফার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ব্রিটিশ রিটেইল কনসোর্টিয়াম বলেছে, বাজারে প্রতিযোগিতার কারণেই জ্বালানির দাম যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। তাদের মতে, জাতীয় বীমা অবদান বৃদ্ধি, প্যাকেজিং কর এবং পুরোনো ব্যবসায়িক করব্যবস্থার মতো অতিরিক্ত ব্যয়ও মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

সূত্র: বিবিসি