ঢাকা ০১:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
সরকার ব্যর্থ হলে দেশের ভবিষ্যৎ সংকটে পড়বে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন রাজপথে অস্থিতিশীলতা নয়, দেশ গড়ার আহ্বান তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টি অব্যাহত, কোথাও কোথাও হতে পারে ভারি বর্ষণ ‘১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি চোখ সংসদের দিকে’— প্রত্যাশার কথা জানালেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে সরকারের প্রতিশ্রুতি: শিমুল বিশ্বাস রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৩১, উদ্ধার বিপুল মাদক ও স্বর্ণালংকার ডলার শক্তিশালী হওয়ায় স্বর্ণের দামে বড় পতন, তবু পাঁচ মাস পর মাসিক লাভের পথে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসায় নতুন নিয়ম, ৫০ দেশের নাগরিকদের গুনতে হতে পারে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড আবারও সাফের সভাপতি হচ্ছেন কাজী সালাহউদ্দিন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত প্রায় নিশ্চিত ‘টক্সিক’ নিয়ে সমালোচনার জবাব দিলেন কিয়ারা, ‘চ্যালেঞ্জিং চরিত্রই খুঁজি’

‘১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি চোখ সংসদের দিকে’— প্রত্যাশার কথা জানালেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 3

জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, বর্তমান জাতীয় সংসদের প্রতি দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তার ভাষায়, দেশের ১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি চোখ এখন সংসদের কার্যক্রমের দিকে নিবদ্ধ। জনগণ চান, সংসদ সদস্যরা জ্ঞানভিত্তিক আলোচনা, গঠনমূলক সমালোচনা ও যুক্তিনির্ভর বিতর্কের মাধ্যমে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন, যা দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

কায়সার কামাল বলেন, বর্তমান সংসদের অধিকাংশ সদস্যই অতীতে গুম, নির্যাতন, কারাবরণ, নির্বাসন কিংবা ফাঁসির মঞ্চের মতো কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এসেছেন। তার দাবি, ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের প্রায় ৯৯ শতাংশ এমন অভিজ্ঞতার সাক্ষী হওয়ায় এটি বিশ্বের ইতিহাসেও একটি ব্যতিক্রমধর্মী সংসদ। এ কারণেই তিনি বর্তমান সংসদকে ‘মজলুমের সংসদ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে সংসদের প্রতিটি অধিবেশন দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের কৃষক, শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনুসরণ করছেন। তাই সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব আরও বেড়েছে। তাদের উচিত যুক্তিসংগত আলোচনা ও গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখা।

সংসদ পরিচালনায় নিজের অবস্থান তুলে ধরে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, তিনি সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেই দায়িত্ব পালন করতে চান। যতদিন দায়িত্বে থাকবেন, ততদিন ন্যায়পরায়ণতা ও নিরপেক্ষতার নীতি থেকে বিচ্যুত হবেন না বলেও জানান তিনি।

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকার ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান কায়সার কামাল। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, মানবাধিকার, সাম্য, আইনের শাসন ও সাংবিধানিক শাসনের স্বপ্ন অর্জিত হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে সংসদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার তিনটি প্রধান অঙ্গ—আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের মধ্যে জাতীয় সংসদই আইন প্রণয়নের কেন্দ্রবিন্দু। তাই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার কেন্দ্রবিন্দুও হওয়া উচিত জাতীয় সংসদ।

সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের গঠনমূলক বিতর্ককে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশে আলোচনা-সমালোচনার ভিত্তিতেই রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিমালা নির্ধারিত হয়। বাংলাদেশেও সেই সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রত্যাশা পূরণে জাতীয় সংসদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার।

সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়েও কথা বলেন। স্বাধীনতার পর একদলীয় শাসন, পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, এরশাদ সরকারের পতন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন নির্বাচন নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন।

এছাড়া তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে এবং ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হিসেবে নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রার সূচনা করেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

‘১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি চোখ সংসদের দিকে’— প্রত্যাশার কথা জানালেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল

আপডেট সময় : ০৫:৪৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, বর্তমান জাতীয় সংসদের প্রতি দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তার ভাষায়, দেশের ১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি চোখ এখন সংসদের কার্যক্রমের দিকে নিবদ্ধ। জনগণ চান, সংসদ সদস্যরা জ্ঞানভিত্তিক আলোচনা, গঠনমূলক সমালোচনা ও যুক্তিনির্ভর বিতর্কের মাধ্যমে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন, যা দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

কায়সার কামাল বলেন, বর্তমান সংসদের অধিকাংশ সদস্যই অতীতে গুম, নির্যাতন, কারাবরণ, নির্বাসন কিংবা ফাঁসির মঞ্চের মতো কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এসেছেন। তার দাবি, ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের প্রায় ৯৯ শতাংশ এমন অভিজ্ঞতার সাক্ষী হওয়ায় এটি বিশ্বের ইতিহাসেও একটি ব্যতিক্রমধর্মী সংসদ। এ কারণেই তিনি বর্তমান সংসদকে ‘মজলুমের সংসদ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে সংসদের প্রতিটি অধিবেশন দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের কৃষক, শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনুসরণ করছেন। তাই সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব আরও বেড়েছে। তাদের উচিত যুক্তিসংগত আলোচনা ও গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখা।

সংসদ পরিচালনায় নিজের অবস্থান তুলে ধরে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, তিনি সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেই দায়িত্ব পালন করতে চান। যতদিন দায়িত্বে থাকবেন, ততদিন ন্যায়পরায়ণতা ও নিরপেক্ষতার নীতি থেকে বিচ্যুত হবেন না বলেও জানান তিনি।

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকার ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান কায়সার কামাল। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, মানবাধিকার, সাম্য, আইনের শাসন ও সাংবিধানিক শাসনের স্বপ্ন অর্জিত হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে সংসদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার তিনটি প্রধান অঙ্গ—আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের মধ্যে জাতীয় সংসদই আইন প্রণয়নের কেন্দ্রবিন্দু। তাই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার কেন্দ্রবিন্দুও হওয়া উচিত জাতীয় সংসদ।

সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের গঠনমূলক বিতর্ককে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশে আলোচনা-সমালোচনার ভিত্তিতেই রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিমালা নির্ধারিত হয়। বাংলাদেশেও সেই সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের প্রত্যাশা পূরণে জাতীয় সংসদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার।

সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়েও কথা বলেন। স্বাধীনতার পর একদলীয় শাসন, পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, এরশাদ সরকারের পতন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন নির্বাচন নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন।

এছাড়া তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে এবং ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হিসেবে নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রার সূচনা করেছে।