যুক্তরাষ্ট্রের ভিসায় নতুন নিয়ম, ৫০ দেশের নাগরিকদের গুনতে হতে পারে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড
- আপডেট সময় : ০৪:৫৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
- / 5

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বা ব্যবসায়িক ভিসা পেতে নতুন শর্ত আরোপ করতে যাচ্ছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন নীতিমালার আওতায় নির্ধারিত ৫০টি দেশের নাগরিকদের সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ জমা দিতে হতে পারে। এই কর্মসূচি স্থায়ীভাবে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) প্রকাশিত এক ফেডারেল বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নতুন এই নিয়ম মূলত ব্যবসা ও পর্যটনের জন্য ইস্যু করা বি-১ এবং বি-২ নন-ইমিগ্রান্ট ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তালিকাভুক্ত ৫০টি দেশের মধ্যে ৩০টিই আফ্রিকার দেশ।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কনস্যুলার কর্মকর্তারা তাদের বিবেচনায় নির্দিষ্ট আবেদনকারীদের ভিসা অনুমোদনের শর্ত হিসেবে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে বলতে পারবেন। এই বন্ডের উদ্দেশ্য হলো ভিসাধারীরা যেন নির্ধারিত সময় শেষে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন এবং ভিসার শর্ত লঙ্ঘন না করেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ২০২৫ সালে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা ‘ভিসা বন্ড পাইলট প্রকল্প’ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বন্ড ব্যবস্থা ভিসার শর্ত মানতে আবেদনকারীদের বাধ্য করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এবার কর্মসূচিটি স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পাইলট প্রকল্পে ৫ হাজার, ১০ হাজার এবং ১৫ হাজার ডলারের বন্ডের ব্যবস্থা থাকলেও নতুন নিয়মে ৫ হাজার ডলারের বিকল্প বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগামী ৩ আগস্ট ফেডারেল রেজিস্টারে চূড়ান্ত নীতিমালা প্রকাশের পর থেকেই এটি কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান বা ‘ওভারস্টে’ কমানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে অভিবাসন অধিকারকর্মীরা এই নীতির সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, নতুন বন্ড ব্যবস্থা বৈধ ভ্রমণকে নিরুৎসাহিত করবে এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
সমালোচকদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি বাক্স্বাধীনতা ও আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যম যাচাইসহ নতুন বিধিনিষেধ জাতিগত বৈষম্যের আশঙ্কাও বাড়াচ্ছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং অভিবাসন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন ভিসা ক্যাটাগরিতে অতিরিক্ত ফি আরোপ এবং আবেদনকারীদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অভিবাসীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও আরও কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সূত্র: আল আরাবিয়া ইংলিশ





















