প্রতি দুই মানুষের জন্য একটি ছাগল! বিস্ময়কর দ্বীপদেশ কেপ ভার্দের অজানা গল্প
- আপডেট সময় : ০৬:১০:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
- / 18

আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে অবস্থিত ছোট্ট দ্বীপদেশ কেপ ভার্দে নানা কারণেই বিশ্বের নজর কাড়ে। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্যগুলোর একটি হলো— দেশটিতে প্রতি দুইজন মানুষের বিপরীতে রয়েছে একটি করে ছাগল। স্থানীয় অর্থনীতি ও খাদ্যসংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই প্রাণী দেশটির জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
আনুষ্ঠানিক নাম রিপাবলিক অব কেপ ভার্দে হলেও বিশ্বজুড়ে দেশটি কেপ ভার্দে নামেই বেশি পরিচিত। পশ্চিম আফ্রিকার উপকূল থেকে প্রায় ৩০০ মাইল দূরে অবস্থিত দেশটি ১০টি দ্বীপ ও ৫টি ছোট উপদ্বীপ নিয়ে গঠিত। পর্তুগিজ ভাষায় ‘কেপ ভার্দে’ শব্দের অর্থ ‘সবুজ অন্তরীপ’।
২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১ হাজার ৫৫৭ বর্গমাইল আয়তনের এ দেশে বসবাস করে প্রায় ৫ লাখ ২৭ হাজার মানুষ। ১০টি দ্বীপের মধ্যে ৯টিতে মানুষের বসতি থাকলেও সান্তা লুজিয়া দ্বীপটি প্রায় দুই শতাব্দী ধরে জনমানবশূন্য রয়েছে।
ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, ১৪৫৬ সালে পর্তুগিজ অভিযাত্রীরা প্রথম এই দ্বীপমালার সন্ধান পান। পরবর্তীতে এটি আফ্রিকা থেকে আমেরিকায় দাস পাচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ধারণা করা হয়, প্রায় ৫ লাখ আফ্রিকান দাস এই দ্বীপপুঞ্জের মাধ্যমে আমেরিকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
সান্তিয়াগো দ্বীপের প্রাচীন শহর সিদাদে ভেলহা আজও সেই ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বর্তমানে এটি কেপ ভার্দের একমাত্র ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। সেখানে রয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন দুর্গ, দাসপ্রথার স্মৃতিচিহ্ন এবং বিখ্যাত অভিযাত্রীদের পদচারণার নানা নিদর্শন।
১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই পর্তুগালের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে কেপ ভার্দে। স্বাধীনতার পর দেশটি ধীরে ধীরে পশ্চিম আফ্রিকার অন্যতম স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে এবং জীবনযাত্রার মানের দিক থেকেও অঞ্চলটির শীর্ষ দেশগুলোর একটি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকেও কেপ ভার্দে অনন্য। একদিকে রয়েছে মনোমুগ্ধকর সৈকত, অন্যদিকে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি ও আগ্নেয় শিলায় গঠিত পাহাড়ি অঞ্চল। দেশটির সর্বোচ্চ শৃঙ্গ পিকো দো ফোগো একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হিসেবে পরিচিত।
তবে সৌন্দর্যের পাশাপাশি রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জও। বিশ্বের অন্যতম শুষ্ক অঞ্চলের একটি হওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই খরা দেখা দেয়। কৃষিযোগ্য জমি কম থাকায় প্রয়োজনীয় খাদ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। সুপেয় পানির সংকটও দীর্ঘদিনের সমস্যা।
কেপ ভার্দের সংস্কৃতিও বেশ বৈচিত্র্যময়। দেশটির সরকারি ভাষা পর্তুগিজ হলেও ক্রিওলু ভাষা ব্যাপকভাবে প্রচলিত। জনসংখ্যার বড় অংশই ক্রেওল ও আফ্রিকান বংশোদ্ভূত।
এ দেশের আরেকটি ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য হলো ছাগলনির্ভর জীবনযাত্রা। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত দুধ, মাংস ও পনিরের প্রধান উৎস এসব ছাগল। ফলে প্রতি দুইজন মানুষের জন্য একটি ছাগলের হিসাব এখানে শুধু পরিসংখ্যান নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব চিত্র।
এছাড়া লগারহেড কচ্ছপের অন্যতম বৃহৎ প্রজননক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত কেপ ভার্দে। নির্দিষ্ট সময়ে দেশটির উপকূলে হাম্পব্যাক তিমির উপস্থিতিও পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছেও দেশটির বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। ‘মোর্না’ নামের বিষাদঘন ঐতিহ্যবাহী সংগীতধারা কেপ ভার্দের সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিংবদন্তি শিল্পী সিজারিয়া ইভোরা এই সংগীতকে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন।
সূত্র: রাস্টিক পাথওয়েজ, আওয়ার এনস্যাসটর্স

























