ঢাকা ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
ভারতীয় ভিসার নামে প্রতারণা, সতর্কবার্তা দিল ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন ‘বাংলাদেশ একবারই স্বাধীন হয়েছে, জুলাই ছিল সেই স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই’— ইশরাক হোসেন মৌসুমি বায়ু সক্রিয়, টানা পাঁচ দিন দেশজুড়ে বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস ‘ভারতও চাপে, শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের সময় এসেছে’— দাবি এনসিপির মুখপাত্র আসিফ সজীব ভুঁইয়ার ২ লাখ টনের বেশি কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি, দেশে এসেছে মাত্র ২৬.৫ মেট্রিক টন দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দরে একের পর এক বিস্ফোরণ, কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা অনুমোদনহীন লিগে খেলায় সাবেক ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে কঠোর পিসিবি, হতে পারে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা ইসরাইলপন্থী গান নিয়ে বিতর্ক: ‘জিসাস ক্রাইস্ট সুপারস্টার’ থেকে সরে দাঁড়ালেন বয় জর্জ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে নিয়োগ: সেফটি অফিসার পদে আবেদন চলছে, থাকছে আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা ‘৩৬ জুলাই’: ক্যালেন্ডারে নেই, ইতিহাসে আছে—জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতীকী বিজয়ের দিন

টানা বৃষ্টিতে মিরসরাইয়ের সব ঝরনায় পর্যটক প্রবেশ বন্ধ, শুক্রবার পর্যন্ত জারি নিষেধাজ্ঞা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:১৯:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • / 10

টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার সব ঝরনায় পর্যটকদের ভ্রমণ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে বন বিভাগ। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বারৈয়ারঢালা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে উপজেলার সব ঝরনার ইজারাদারদের পর্যটন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মিরসরাইয়ের ঝরনাগুলোর ইজারাদার প্রতিষ্ঠান ‘থ্রি-বি’র স্বত্বাধিকারী ওহিদুল ইসলাম জানান, বন বিভাগের নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকেই তাদের ইজারাভুক্ত সব ঝরনায় পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মীদের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি তদারকি করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বারৈয়ারঢালা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম বলেন, ভারি বৃষ্টির সময় পাহাড়ি ঢলের কারণে ঝরনার ঝিরিপথে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়। অনেক পর্যটক ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন না হয়ে দুর্ঘটনায় পড়েন। তাই জননিরাপত্তার স্বার্থে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত সব ঝরনায় ভ্রমণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে টানা বর্ষণের কারণে বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র এবং রাঙামাটির সাজেক ভ্যালিতেও পর্যটকদের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন প্রায় ২ হাজার ৯৩৫ একর আয়তনের বারৈয়ারঢালা জাতীয় উদ্যানে খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া, রূপসী, সোনাইছড়ি ও ভাওয়াছড়াসহ একাধিক জনপ্রিয় ঝরনা রয়েছে। এর মধ্যে খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া ও রূপসী ঝরনায় সারা বছরই সবচেয়ে বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটে।

ঝরনাগুলোর নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার জন্য ২০১০ সাল থেকে বন বিভাগ ইজারা দিয়ে আসছে। চলতি বছরের ২৩ মে থেকে আগামী বছরের ২৪ মে পর্যন্ত এক বছরের জন্য ৪০ লাখ ১০০ টাকায় এসব ঝরনার ইজারা পেয়েছে প্রতিষ্ঠান ‘থ্রি-বি’। ইজারার শর্ত অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের কাছ থেকে ২০ টাকা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছ থেকে ১০ টাকা প্রবেশ ফি নেওয়া হয়।

বন বিভাগ জানিয়েছে, বর্ষাকালে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় ঝরনাগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। সরকারি ছুটি ও উৎসবের দিনে শুধু খৈয়াছড়া ঝরনাতেই দুই হাজারের বেশি পর্যটকের উপস্থিতি দেখা যায়।

তবে ঝরনায় পৌঁছাতে পাথুরে ঝিরিপথ ও পাহাড়ি পথ অতিক্রম করতে হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেশি থাকে। অনভিজ্ঞতা, অসতর্কতা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে উঠে ছবি বা সেলফি তোলার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। মিরসরাই ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় বছরে উপজেলার বিভিন্ন ঝরনায় ছোট-বড় ৩৭টি দুর্ঘটনায় সাতজন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৫১ জন।

দুর্ঘটনা এড়াতে বন বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিস পর্যটকদের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ঝরনা ভ্রমণ থেকে বিরত থাকা, পিচ্ছিল ও ডুবোগর্তপূর্ণ ঝিরিপথে সতর্কভাবে চলাচল, ঝরনার চূড়ায় না ওঠা, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সেলফি না তোলা, স্থানীয় গাইড সঙ্গে রাখা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

টানা বৃষ্টিতে মিরসরাইয়ের সব ঝরনায় পর্যটক প্রবেশ বন্ধ, শুক্রবার পর্যন্ত জারি নিষেধাজ্ঞা

আপডেট সময় : ০৪:১৯:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার সব ঝরনায় পর্যটকদের ভ্রমণ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে বন বিভাগ। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

মঙ্গলবার (৮ জুলাই) চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বারৈয়ারঢালা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে উপজেলার সব ঝরনার ইজারাদারদের পর্যটন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মিরসরাইয়ের ঝরনাগুলোর ইজারাদার প্রতিষ্ঠান ‘থ্রি-বি’র স্বত্বাধিকারী ওহিদুল ইসলাম জানান, বন বিভাগের নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকেই তাদের ইজারাভুক্ত সব ঝরনায় পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মীদের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি তদারকি করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বারৈয়ারঢালা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম বলেন, ভারি বৃষ্টির সময় পাহাড়ি ঢলের কারণে ঝরনার ঝিরিপথে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়। অনেক পর্যটক ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন না হয়ে দুর্ঘটনায় পড়েন। তাই জননিরাপত্তার স্বার্থে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত সব ঝরনায় ভ্রমণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে টানা বর্ষণের কারণে বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র এবং রাঙামাটির সাজেক ভ্যালিতেও পর্যটকদের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন প্রায় ২ হাজার ৯৩৫ একর আয়তনের বারৈয়ারঢালা জাতীয় উদ্যানে খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া, রূপসী, সোনাইছড়ি ও ভাওয়াছড়াসহ একাধিক জনপ্রিয় ঝরনা রয়েছে। এর মধ্যে খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া ও রূপসী ঝরনায় সারা বছরই সবচেয়ে বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটে।

ঝরনাগুলোর নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার জন্য ২০১০ সাল থেকে বন বিভাগ ইজারা দিয়ে আসছে। চলতি বছরের ২৩ মে থেকে আগামী বছরের ২৪ মে পর্যন্ত এক বছরের জন্য ৪০ লাখ ১০০ টাকায় এসব ঝরনার ইজারা পেয়েছে প্রতিষ্ঠান ‘থ্রি-বি’। ইজারার শর্ত অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের কাছ থেকে ২০ টাকা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছ থেকে ১০ টাকা প্রবেশ ফি নেওয়া হয়।

বন বিভাগ জানিয়েছে, বর্ষাকালে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় ঝরনাগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। সরকারি ছুটি ও উৎসবের দিনে শুধু খৈয়াছড়া ঝরনাতেই দুই হাজারের বেশি পর্যটকের উপস্থিতি দেখা যায়।

তবে ঝরনায় পৌঁছাতে পাথুরে ঝিরিপথ ও পাহাড়ি পথ অতিক্রম করতে হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেশি থাকে। অনভিজ্ঞতা, অসতর্কতা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে উঠে ছবি বা সেলফি তোলার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। মিরসরাই ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় বছরে উপজেলার বিভিন্ন ঝরনায় ছোট-বড় ৩৭টি দুর্ঘটনায় সাতজন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৫১ জন।

দুর্ঘটনা এড়াতে বন বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিস পর্যটকদের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ঝরনা ভ্রমণ থেকে বিরত থাকা, পিচ্ছিল ও ডুবোগর্তপূর্ণ ঝিরিপথে সতর্কভাবে চলাচল, ঝরনার চূড়ায় না ওঠা, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সেলফি না তোলা, স্থানীয় গাইড সঙ্গে রাখা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।