‘৩৬ জুলাই’: ক্যালেন্ডারে নেই, ইতিহাসে আছে—জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতীকী বিজয়ের দিন
- আপডেট সময় : ০৪:৪১:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
- / 0

ক্যালেন্ডারের হিসাবে ৫ আগস্ট হলেও, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় এই দিনটি আন্দোলনকারীদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে ‘৩৬ জুলাই’ নামে। শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও দেশত্যাগের মধ্য দিয়ে আন্দোলনের চূড়ান্ত সাফল্যের দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এই প্রতীকী নাম ব্যবহার করা হয়, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে রাজপথ—সবখানেই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
২০২৪ সালের ১ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। ১৬ জুলাই থেকে আন্দোলনে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে থাকে। ওই দিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ছয়জন নিহত হন। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি এবং সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কোটা সংস্কারের সিদ্ধান্ত এলেও আন্দোলন থেমে থাকেনি। একপর্যায়ে এটি সরকার পতনের এক দফা দাবিতে রূপ নেয়।
আন্দোলনকারীদের ভাষ্য ছিল, শহীদদের আত্মত্যাগের ন্যায্য পরিণতি না হওয়া পর্যন্ত তাদের কাছে ‘জুলাই’ শেষ হবে না। সেই প্রতীকী অবস্থান থেকেই আগস্ট মাসকে নতুন মাস হিসেবে না দেখে জুলাইয়ের ধারাবাহিকতা হিসেবে গণনা শুরু হয়। ফলে ১ আগস্টকে বলা হয় ‘৩১ জুলাই’, ৪ আগস্ট ‘৩৪ জুলাই’ এবং ৫ আগস্ট—যেদিন শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেন—সেই দিনটি পরিচিতি পায় ‘৩৬ জুলাই’ নামে।
আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের মতে, ‘৩৬ জুলাই’ শুধু একটি প্রতীকী তারিখ নয়; এটি শহীদদের আত্মত্যাগ, গণঅভ্যুত্থানের বিজয় এবং দীর্ঘ আন্দোলনের স্মৃতিকে ধারণ করে। তাদের বিশ্বাস, এই দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
























