ঢাকা ০৬:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি, ব্যয় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার

‘৩৬ জুলাই’: ক্যালেন্ডারে নেই, ইতিহাসে আছে—জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতীকী বিজয়ের দিন

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৪১:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / 44

ক্যালেন্ডারের হিসাবে ৫ আগস্ট হলেও, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় এই দিনটি আন্দোলনকারীদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে ‘৩৬ জুলাই’ নামে। শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও দেশত্যাগের মধ্য দিয়ে আন্দোলনের চূড়ান্ত সাফল্যের দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এই প্রতীকী নাম ব্যবহার করা হয়, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে রাজপথ—সবখানেই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

২০২৪ সালের ১ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। ১৬ জুলাই থেকে আন্দোলনে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে থাকে। ওই দিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ছয়জন নিহত হন। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি এবং সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কোটা সংস্কারের সিদ্ধান্ত এলেও আন্দোলন থেমে থাকেনি। একপর্যায়ে এটি সরকার পতনের এক দফা দাবিতে রূপ নেয়।

আন্দোলনকারীদের ভাষ্য ছিল, শহীদদের আত্মত্যাগের ন্যায্য পরিণতি না হওয়া পর্যন্ত তাদের কাছে ‘জুলাই’ শেষ হবে না। সেই প্রতীকী অবস্থান থেকেই আগস্ট মাসকে নতুন মাস হিসেবে না দেখে জুলাইয়ের ধারাবাহিকতা হিসেবে গণনা শুরু হয়। ফলে ১ আগস্টকে বলা হয় ‘৩১ জুলাই’, ৪ আগস্ট ‘৩৪ জুলাই’ এবং ৫ আগস্ট—যেদিন শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেন—সেই দিনটি পরিচিতি পায় ‘৩৬ জুলাই’ নামে।

আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের মতে, ‘৩৬ জুলাই’ শুধু একটি প্রতীকী তারিখ নয়; এটি শহীদদের আত্মত্যাগ, গণঅভ্যুত্থানের বিজয় এবং দীর্ঘ আন্দোলনের স্মৃতিকে ধারণ করে। তাদের বিশ্বাস, এই দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

‘৩৬ জুলাই’: ক্যালেন্ডারে নেই, ইতিহাসে আছে—জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতীকী বিজয়ের দিন

আপডেট সময় : ০৪:৪১:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

ক্যালেন্ডারের হিসাবে ৫ আগস্ট হলেও, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় এই দিনটি আন্দোলনকারীদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে ‘৩৬ জুলাই’ নামে। শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও দেশত্যাগের মধ্য দিয়ে আন্দোলনের চূড়ান্ত সাফল্যের দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এই প্রতীকী নাম ব্যবহার করা হয়, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে রাজপথ—সবখানেই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

২০২৪ সালের ১ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। ১৬ জুলাই থেকে আন্দোলনে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে থাকে। ওই দিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ছয়জন নিহত হন। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি এবং সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কোটা সংস্কারের সিদ্ধান্ত এলেও আন্দোলন থেমে থাকেনি। একপর্যায়ে এটি সরকার পতনের এক দফা দাবিতে রূপ নেয়।

আন্দোলনকারীদের ভাষ্য ছিল, শহীদদের আত্মত্যাগের ন্যায্য পরিণতি না হওয়া পর্যন্ত তাদের কাছে ‘জুলাই’ শেষ হবে না। সেই প্রতীকী অবস্থান থেকেই আগস্ট মাসকে নতুন মাস হিসেবে না দেখে জুলাইয়ের ধারাবাহিকতা হিসেবে গণনা শুরু হয়। ফলে ১ আগস্টকে বলা হয় ‘৩১ জুলাই’, ৪ আগস্ট ‘৩৪ জুলাই’ এবং ৫ আগস্ট—যেদিন শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেন—সেই দিনটি পরিচিতি পায় ‘৩৬ জুলাই’ নামে।

আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের মতে, ‘৩৬ জুলাই’ শুধু একটি প্রতীকী তারিখ নয়; এটি শহীদদের আত্মত্যাগ, গণঅভ্যুত্থানের বিজয় এবং দীর্ঘ আন্দোলনের স্মৃতিকে ধারণ করে। তাদের বিশ্বাস, এই দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।