ঢাকা ১০:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি, ব্যয় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার

খেলাপি ঋণ বেড়ে ব্যাংক খাতে মূলধন ঘাটতি ও লোকসানের ঝুঁকি

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • / 106

জালিয়াতি ও পাচার হওয়া ঋণের অর্থ আদায় না হওয়ায় দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ঋণ বিতরণ এবং পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে এসব ঋণ এখন আর আয় সৃষ্টি করছে না, বরং ব্যাংকগুলোর বড় ধরনের আর্থিক সংকট তৈরি করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি বৃদ্ধি পেয়ে তা এখন ঋণাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে ব্যাংক খাতের সামগ্রিক আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে অনেক উদ্যোক্তা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছেন, যা খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর মূলধন কাঠামোও ভেঙে পড়েছে—২০২৪ সালে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের বিপরীতে যেখানে মূলধন ছিল ৩.০৮ শতাংশ, তা ২০২৫ সালে নেমে ঋণাত্মক ২.৬৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি ও বিশেষায়িত ব্যাংকসহ ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের হার তুলনামূলক বেশি। পাঁচটি ব্যাংকেই রয়েছে মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৫২ শতাংশ, যা পুরো খাতকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।

এছাড়া অনেক ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত জামানত না থাকায় আদায়ের সম্ভাবনাও কমে গেছে। ফলে ব্যাংকগুলোর সম্পদের গুণগত মান কমে গিয়ে আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলোর সম্পদ থেকে আয় ঋণাত্মক ৪.৪১ শতাংশে নেমেছে। একইভাবে মূলধন থেকেও বড় ধরনের লোকসান হয়েছে, যা ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

খেলাপি ঋণ বেড়ে ব্যাংক খাতে মূলধন ঘাটতি ও লোকসানের ঝুঁকি

আপডেট সময় : ০৪:৫৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

জালিয়াতি ও পাচার হওয়া ঋণের অর্থ আদায় না হওয়ায় দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ঋণ বিতরণ এবং পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে এসব ঋণ এখন আর আয় সৃষ্টি করছে না, বরং ব্যাংকগুলোর বড় ধরনের আর্থিক সংকট তৈরি করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি বৃদ্ধি পেয়ে তা এখন ঋণাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে ব্যাংক খাতের সামগ্রিক আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে অনেক উদ্যোক্তা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছেন, যা খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর মূলধন কাঠামোও ভেঙে পড়েছে—২০২৪ সালে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের বিপরীতে যেখানে মূলধন ছিল ৩.০৮ শতাংশ, তা ২০২৫ সালে নেমে ঋণাত্মক ২.৬৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি ও বিশেষায়িত ব্যাংকসহ ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের হার তুলনামূলক বেশি। পাঁচটি ব্যাংকেই রয়েছে মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৫২ শতাংশ, যা পুরো খাতকে ঝুঁকিতে ফেলেছে।

এছাড়া অনেক ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত জামানত না থাকায় আদায়ের সম্ভাবনাও কমে গেছে। ফলে ব্যাংকগুলোর সম্পদের গুণগত মান কমে গিয়ে আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলোর সম্পদ থেকে আয় ঋণাত্মক ৪.৪১ শতাংশে নেমেছে। একইভাবে মূলধন থেকেও বড় ধরনের লোকসান হয়েছে, যা ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।