ঢাকা ০৯:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতির চাপে কমল স্বর্ণের দর, নজর ফেডের সুদের হার সিদ্ধান্তে লিবিয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গোলাবারুদ বিস্ফোরণ, নিহত ৮ ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে উয়েফার ৪২ প্রশ্ন, ২ নভেম্বরের মধ্যে জবাব চায় ফিফার ইউরোপীয় সংস্থা

৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৫১:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 13

চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে সারা দেশে ২৮৮টি ঘটনায় ৫১৮ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনায় ২৯৭ জন সাংবাদিক আহত, ৮৭ জন লাঞ্ছিত এবং ৭৭ জন হুমকির মুখে পড়েছেন। এ সময়ে আটক হয়েছেন ২০ সাংবাদিক। পাশাপাশি সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬-এর অধীনে ৫১ সাংবাদিককে আসামি করে ১৯টি মামলা করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনটি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের ১৬টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ, সংগঠনটির নিজস্ব তথ্য সংগ্রহ এবং অনুসন্ধানের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।

রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৭৩

এইচআরএসএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত নয় মাসে সারা দেশে ১ হাজার ১৩টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৭৩ জন এবং আহত হয়েছেন ৬ হাজার ৪৭৩ জন। মোট ঘটনার ৯১ শতাংশই বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং দলটির সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে ঘটেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ৩৪২টি ঘটনায় ৪০ জন নিহত ও ২ হাজার ৬৩২ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষের ৩২১টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১১ জন এবং আহত হয়েছেন ২ হাজার ১৯০ জন। অন্যদিকে, বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষের ৯৩টি ঘটনায় ৯ জন নিহত ও ৫৪৫ জন আহত হয়েছেন। রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপির ৪৬ জন, জামায়াতের ৮ জন এবং আওয়ামী লীগের ৬ জন রয়েছেন।

মব সহিংসতায় প্রাণ গেছে ১৮৭ জনের

গত নয় মাসে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাগবিতণ্ডা, আধিপত্য বিস্তার, ধর্মীয় অবমাননা, ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টাসহ বিভিন্ন অভিযোগকে কেন্দ্র করে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ৩৯৮টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১৮৭ জন নিহত এবং ৪০১ জন আহত হয়েছেন।

এ ছাড়া নির্বাচনকেন্দ্রিক ৪০২টি সহিংসতার ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ২ হাজার ৬২৩ জন আহত হয়েছেন। নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ছয় শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ও নির্বাচনি কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারাগারে ৯৫ বন্দির মৃত্যু

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে কারাগারে ৯৫ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪০ জন কয়েদি এবং ৫৫ জন হাজতি। মৃত বন্দিদের পরিচয়ের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ২০ জন, বিএনপির একজন এবং সাধারণ বন্দি হিসেবে নথিভুক্ত ৭৪ জন রয়েছেন।

একই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে ও নির্যাতনের শিকার হয়ে ১২ জন, গুলিবিদ্ধ হয়ে দুজন এবং বন্দুকযুদ্ধে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধাওয়া খেয়ে পালানোর সময় বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার ২ হাজার ৪০৪ নারী ও কন্যাশিশু

এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত নয় মাসে ২ হাজার ৪০৪ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৬৫৭ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৯২ জনের বয়স ১৮ বছরের কম। এ সময়ে ১৩০ নারী ও কন্যাশিশু সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৯ জনকে। পাশাপাশি ৬৯৬ জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

পারিবারিক সহিংসতায় একই সময়ে ৪৫৭ জন নারী নিহত, ২৭৯ জন আহত এবং ২১৯ জন আত্মহত্যা করেছেন। এ ছাড়া নয় মাসে ১ হাজার ৮১০ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ৪৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংখ্যালঘু ও শ্রমিক নির্যাতনের চিত্র

গত নয় মাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ৫৬টি হামলার ঘটনায় ৬২ জন আহত হয়েছেন। এ সময়ে ২১টি মন্দির, ২০টি প্রতিমা এবং ৪৭টি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে, শ্রমিক নির্যাতনের ৫৮২টি ঘটনায় ১৪৫ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৬৩ জন আহত হয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও সুরক্ষাসামগ্রীর অভাবে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৯০ শ্রমিক।

এ সময়ে দেশের নদী, খাল, জঙ্গল ও পরিত্যক্ত স্থান থেকে ৪৯১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ৪৩টি হামলার ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ৩৯ জন আহত হয়েছেন। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তেও সহিংসতা ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেছেন, মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে রাষ্ট্র ও সমাজের সব পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও মব সহিংসতা, সাংবাদিক নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যুর মতো ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস

আপডেট সময় : ০৩:৫১:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে সারা দেশে ২৮৮টি ঘটনায় ৫১৮ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনায় ২৯৭ জন সাংবাদিক আহত, ৮৭ জন লাঞ্ছিত এবং ৭৭ জন হুমকির মুখে পড়েছেন। এ সময়ে আটক হয়েছেন ২০ সাংবাদিক। পাশাপাশি সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬-এর অধীনে ৫১ সাংবাদিককে আসামি করে ১৯টি মামলা করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনটি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের ১৬টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ, সংগঠনটির নিজস্ব তথ্য সংগ্রহ এবং অনুসন্ধানের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।

রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৭৩

এইচআরএসএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত নয় মাসে সারা দেশে ১ হাজার ১৩টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৭৩ জন এবং আহত হয়েছেন ৬ হাজার ৪৭৩ জন। মোট ঘটনার ৯১ শতাংশই বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং দলটির সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে ঘটেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ৩৪২টি ঘটনায় ৪০ জন নিহত ও ২ হাজার ৬৩২ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষের ৩২১টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১১ জন এবং আহত হয়েছেন ২ হাজার ১৯০ জন। অন্যদিকে, বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষের ৯৩টি ঘটনায় ৯ জন নিহত ও ৫৪৫ জন আহত হয়েছেন। রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপির ৪৬ জন, জামায়াতের ৮ জন এবং আওয়ামী লীগের ৬ জন রয়েছেন।

মব সহিংসতায় প্রাণ গেছে ১৮৭ জনের

গত নয় মাসে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাগবিতণ্ডা, আধিপত্য বিস্তার, ধর্মীয় অবমাননা, ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টাসহ বিভিন্ন অভিযোগকে কেন্দ্র করে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ৩৯৮টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১৮৭ জন নিহত এবং ৪০১ জন আহত হয়েছেন।

এ ছাড়া নির্বাচনকেন্দ্রিক ৪০২টি সহিংসতার ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ২ হাজার ৬২৩ জন আহত হয়েছেন। নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ছয় শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ও নির্বাচনি কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারাগারে ৯৫ বন্দির মৃত্যু

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে কারাগারে ৯৫ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪০ জন কয়েদি এবং ৫৫ জন হাজতি। মৃত বন্দিদের পরিচয়ের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ২০ জন, বিএনপির একজন এবং সাধারণ বন্দি হিসেবে নথিভুক্ত ৭৪ জন রয়েছেন।

একই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে ও নির্যাতনের শিকার হয়ে ১২ জন, গুলিবিদ্ধ হয়ে দুজন এবং বন্দুকযুদ্ধে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধাওয়া খেয়ে পালানোর সময় বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার ২ হাজার ৪০৪ নারী ও কন্যাশিশু

এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত নয় মাসে ২ হাজার ৪০৪ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৬৫৭ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৯২ জনের বয়স ১৮ বছরের কম। এ সময়ে ১৩০ নারী ও কন্যাশিশু সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৯ জনকে। পাশাপাশি ৬৯৬ জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

পারিবারিক সহিংসতায় একই সময়ে ৪৫৭ জন নারী নিহত, ২৭৯ জন আহত এবং ২১৯ জন আত্মহত্যা করেছেন। এ ছাড়া নয় মাসে ১ হাজার ৮১০ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ৪৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংখ্যালঘু ও শ্রমিক নির্যাতনের চিত্র

গত নয় মাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ৫৬টি হামলার ঘটনায় ৬২ জন আহত হয়েছেন। এ সময়ে ২১টি মন্দির, ২০টি প্রতিমা এবং ৪৭টি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে, শ্রমিক নির্যাতনের ৫৮২টি ঘটনায় ১৪৫ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৬৩ জন আহত হয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও সুরক্ষাসামগ্রীর অভাবে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৯০ শ্রমিক।

এ সময়ে দেশের নদী, খাল, জঙ্গল ও পরিত্যক্ত স্থান থেকে ৪৯১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ৪৩টি হামলার ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ৩৯ জন আহত হয়েছেন। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তেও সহিংসতা ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেছেন, মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে রাষ্ট্র ও সমাজের সব পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও মব সহিংসতা, সাংবাদিক নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যুর মতো ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।