ঢাকা ০৮:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতির চাপে কমল স্বর্ণের দর, নজর ফেডের সুদের হার সিদ্ধান্তে লিবিয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গোলাবারুদ বিস্ফোরণ, নিহত ৮ ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে উয়েফার ৪২ প্রশ্ন, ২ নভেম্বরের মধ্যে জবাব চায় ফিফার ইউরোপীয় সংস্থা লাল পেড়ে সাদা শাড়িতে পূজা চেরীর মুগ্ধতা, মহাষ্টমীর সাজে মুগ্ধ ভক্তরা শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকে চাকরির সুযোগ, আবেদন করা যাবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও ইনডেক্স কর্তনের নির্দেশ

চাঁদাবাজ-দখলদার-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, বিএনপিতেও শুদ্ধি অভিযানের বার্তা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:২৩:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 51

সরকারের পক্ষ থেকে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চাঁদাবাজ, দখলদার ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা অপরাধীদের বিরুদ্ধে সরকারের কথিত ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ বাস্তবায়নের উদ্যোগও দৃশ্যমান হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে ইতোমধ্যে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অপরাধী যে পরিচয়েরই হোক না কেন, রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

এর পাশাপাশি বিএনপির ভেতরেও শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে বলে দলটির সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে। সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনাকে এ অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিএনপি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অপকর্মে জড়িতদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় তাদের আইনি ব্যবস্থা থেকে রক্ষা করবে না। শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে সংসদ সদস্য মিষ্টিকে পদত্যাগ করানো হয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

সূত্রের ভাষ্য, বিলুপ্ত কমিটির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক এবং ইসিবি চত্বরে হামলার ঘটনায় কর্মীদের পাঠিয়ে মদদ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিএনপির বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটি বিলুপ্ত এবং মিষ্টির পদত্যাগের পর দলটির বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত নেতাদের অনেকেই সতর্ক হয়ে পড়েছেন। চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিতদের মধ্যেও এক ধরনের ভীতির পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে দাবি সূত্রগুলোর।

এদিকে আন্ডারওয়ার্ল্ডে সক্রিয় গ্যাং ও অপরাধী চক্রগুলোর ওপর নজরদারি বাড়াতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সক্রিয় করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেফতারে বিশেষ টিম কাজ শুরু করেছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের এসব কঠোর পদক্ষেপের কারণে অপরাধী মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল বা সরকারের কোনো পদ-পদবি তাকে রক্ষা করবে না। পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কারণে পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে স্বস্তি তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক কারণে অপরাধীদের আর প্রশ্রয় দেওয়া হবে না—এমন একটি ধারণা পুলিশ সদস্যদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বলেও তারা জানিয়েছেন।

দায়িত্বশীল এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বার্তা তাদের কাজের গতি ও সাহস বাড়িয়েছে। তার মতে, রাজনৈতিক প্রভাবের তোয়াক্কা না করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এখন সহজ হবে।

স্পেশাল অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ যুগান্তরকে বলেন, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য এবং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারীদের আস্তানা শনাক্ত করে অভিযান চালানো হচ্ছে। জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে এসআরবির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ যুগান্তরকে বলেন, অপরাধী যত প্রভাবশালী কিংবা যে দলেরই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। তাদের পালানোর পথ ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানান কমিশনার।

উত্তরা পূর্ব থানার ওসি মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম যুগান্তরকে বলেন, এলাকায় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি করে অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। শীর্ষ পর্যায় থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পাওয়ার পর অপরাধীরা আত্মগোপনে চলে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। মাঠপর্যায়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধী যে-ই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। সাধারণ মানুষের স্বস্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

চাঁদাবাজ-দখলদার-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, বিএনপিতেও শুদ্ধি অভিযানের বার্তা

আপডেট সময় : ০৫:২৩:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

সরকারের পক্ষ থেকে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চাঁদাবাজ, দখলদার ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা অপরাধীদের বিরুদ্ধে সরকারের কথিত ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ বাস্তবায়নের উদ্যোগও দৃশ্যমান হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে ইতোমধ্যে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অপরাধী যে পরিচয়েরই হোক না কেন, রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

এর পাশাপাশি বিএনপির ভেতরেও শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে বলে দলটির সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে। সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনাকে এ অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিএনপি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অপকর্মে জড়িতদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় তাদের আইনি ব্যবস্থা থেকে রক্ষা করবে না। শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে সংসদ সদস্য মিষ্টিকে পদত্যাগ করানো হয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

সূত্রের ভাষ্য, বিলুপ্ত কমিটির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক এবং ইসিবি চত্বরে হামলার ঘটনায় কর্মীদের পাঠিয়ে মদদ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিএনপির বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটি বিলুপ্ত এবং মিষ্টির পদত্যাগের পর দলটির বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত নেতাদের অনেকেই সতর্ক হয়ে পড়েছেন। চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিতদের মধ্যেও এক ধরনের ভীতির পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে দাবি সূত্রগুলোর।

এদিকে আন্ডারওয়ার্ল্ডে সক্রিয় গ্যাং ও অপরাধী চক্রগুলোর ওপর নজরদারি বাড়াতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সক্রিয় করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেফতারে বিশেষ টিম কাজ শুরু করেছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের এসব কঠোর পদক্ষেপের কারণে অপরাধী মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল বা সরকারের কোনো পদ-পদবি তাকে রক্ষা করবে না। পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কারণে পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে স্বস্তি তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক কারণে অপরাধীদের আর প্রশ্রয় দেওয়া হবে না—এমন একটি ধারণা পুলিশ সদস্যদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বলেও তারা জানিয়েছেন।

দায়িত্বশীল এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বার্তা তাদের কাজের গতি ও সাহস বাড়িয়েছে। তার মতে, রাজনৈতিক প্রভাবের তোয়াক্কা না করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এখন সহজ হবে।

স্পেশাল অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ যুগান্তরকে বলেন, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য এবং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারীদের আস্তানা শনাক্ত করে অভিযান চালানো হচ্ছে। জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে এসআরবির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ যুগান্তরকে বলেন, অপরাধী যত প্রভাবশালী কিংবা যে দলেরই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। তাদের পালানোর পথ ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানান কমিশনার।

উত্তরা পূর্ব থানার ওসি মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম যুগান্তরকে বলেন, এলাকায় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি করে অভিযান জোরদার করা হচ্ছে। শীর্ষ পর্যায় থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পাওয়ার পর অপরাধীরা আত্মগোপনে চলে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। মাঠপর্যায়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধী যে-ই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। সাধারণ মানুষের স্বস্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।