ঢাকা ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি, ব্যয় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার

আইএমএফের কাছে নতুন ঋণ চায় বাংলাদেশ, শর্ত ও চাপ নিয়ে বাড়ছে আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:১৪:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • / 108

আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচিতে স্থবিরতার মধ্যেই নতুন করে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার ঋণ চাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ—এমন খবরে অর্থনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকেও প্রায় এক বিলিয়ন ডলার ঋণ চাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর ওয়াশিংটন সফরের সময় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠকে এ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং আলোচনার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

এই আলোচনা এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন ২০২৩ সালে শুরু হওয়া ঋণ কর্মসূচির ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ এখনো আটকে রয়েছে। জুনের মধ্যে প্রায় এক দশমিক তিন বিলিয়ন ডলার পাওয়ার কথা থাকলেও তা পাওয়া যায়নি। ফলে আগামী বাজেটের পর সংস্থাটির প্রতিনিধিদল ঢাকায় এসে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন ঋণের ক্ষেত্রে আগের শর্তগুলোই আবার সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ভর্তুকি কমানো, রাজস্ব খাতে সংস্কার, ব্যাংকিং খাতে পরিবর্তন এবং করনীতি সংশোধন। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, চলমান ঋণ কর্মসূচির কিস্তি ছাড় না হলে নতুন ঋণের আলোচনা এগোনো কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে সরকারের সংস্কার বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো প্রশ্ন তুলতে পারে।

সরকারি সূত্রগুলো জানায়, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতিতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতেই নতুন ঋণের চিন্তা করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন ঋণ নেওয়ার আগে অর্থ ব্যবহারের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা উপস্থাপন করা জরুরি।

বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ না বাড়িয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আইএমএফের কাছে নতুন ঋণ চায় বাংলাদেশ, শর্ত ও চাপ নিয়ে বাড়ছে আলোচনা

আপডেট সময় : ০৫:১৪:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচিতে স্থবিরতার মধ্যেই নতুন করে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার ঋণ চাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ—এমন খবরে অর্থনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকেও প্রায় এক বিলিয়ন ডলার ঋণ চাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর ওয়াশিংটন সফরের সময় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠকে এ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং আলোচনার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

এই আলোচনা এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন ২০২৩ সালে শুরু হওয়া ঋণ কর্মসূচির ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ এখনো আটকে রয়েছে। জুনের মধ্যে প্রায় এক দশমিক তিন বিলিয়ন ডলার পাওয়ার কথা থাকলেও তা পাওয়া যায়নি। ফলে আগামী বাজেটের পর সংস্থাটির প্রতিনিধিদল ঢাকায় এসে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন ঋণের ক্ষেত্রে আগের শর্তগুলোই আবার সামনে আসতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ভর্তুকি কমানো, রাজস্ব খাতে সংস্কার, ব্যাংকিং খাতে পরিবর্তন এবং করনীতি সংশোধন। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, চলমান ঋণ কর্মসূচির কিস্তি ছাড় না হলে নতুন ঋণের আলোচনা এগোনো কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে সরকারের সংস্কার বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো প্রশ্ন তুলতে পারে।

সরকারি সূত্রগুলো জানায়, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতিতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতেই নতুন ঋণের চিন্তা করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন ঋণ নেওয়ার আগে অর্থ ব্যবহারের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা উপস্থাপন করা জরুরি।

বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ না বাড়িয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।