নির্ধারিত দামের বেশি এলপিজি বিক্রি বন্ধে ডিসিদের বাজার তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ
- আপডেট সময় : ১১:০৭:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
- / 32

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) বাজার তদারকি জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সরবরাহ ও বিতরণের বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম শনাক্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের কার্যক্রম নিয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
তিনি জানান, নির্ধারিত দামের বেশি মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সরবরাহ থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যায়ে বিতরণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের তথ্য সংগ্রহ করে অনিয়ম ও অসংগতি চিহ্নিত করতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে জ্বালানি বিভাগ সব জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অনলাইনে মতবিনিময় সভা করেছে। সভায় এলপিজির সরবরাহ ও বিতরণ পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি বাজার নজরদারি বাড়ানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি জেলায় এলপিজির সব ডিস্ট্রিবিউটর ও ডিলারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট অপারেটর থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজি, মাস্টার ফ্র্যাঞ্চাইজি, ডিস্ট্রিবিউটর ও ডিলার পর্যায়ে কত পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে, তার বিস্তারিত হিসাবও সংগ্রহ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকদের দ্রুত নিজ নিজ এলাকার এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর ও ডিলারদের সঙ্গে বৈঠক করে সরবরাহ, বিতরণ এবং বাজারজাতকরণের প্রকৃত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে।
সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পর্যায় থেকে পাওয়া তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। অপারেটর, ফ্র্যাঞ্চাইজি কিংবা ডিস্ট্রিবিউটরের দেওয়া হিসাবের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে ডিলারদের কাছে পৌঁছানো এলপিজির পরিমাণে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া গেলে তা আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে হবে। কোনো এলাকায় গ্যাসের সরবরাহ অস্বাভাবিকভাবে কমে গেলে কিংবা সরবরাহের বিভিন্ন ধাপে বড় ধরনের অসংগতি দেখা দিলে বিষয়টি জ্বালানি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।
জাহেদ উর রহমান আরও জানান, জেলা পর্যায় থেকে সংগৃহীত তথ্য সমন্বয়ের মাধ্যমে অপারেটর থেকে ডিলার পর্যায় পর্যন্ত এলপিজি সরবরাহের একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর ফলে সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, ঘাটতির কারণ অনুসন্ধান এবং বাজারে অনিয়ম শনাক্ত করা সহজ হবে। সরকারের এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো এলপিজির সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, ভোক্তাদের জন্য বিইআরসি নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রি বজায় রাখা এবং সরবরাহে ঘাটতি কিংবা অনিয়ম দেখা দিলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।
























