কিউআর লেনদেন বাড়লে বছরে ২ লাখ কোটি টাকা অতিরিক্ত কর আদায় সম্ভব: গভর্নর
- আপডেট সময় : ০৪:১৬:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 70

দেশে কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেনের পরিমাণ বাড়ানো গেলে বছরে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা অতিরিক্ত কর আদায় সম্ভব হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের কর-জিডিপির হার ৭ শতাংশের নিচে, যেখানে একসময় এটি ১০ শতাংশ ছিল।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণ এবং ‘বাংলা কিউআর’ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে আয়োজিত ‘মিট দ্য গভর্নর’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
গভর্নর জানান, আগামী ১ অক্টোবর থেকে কিউআর কোডে লেনদেনের ক্ষেত্রে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) শূন্য করা হবে। এর ফলে কোনো গ্রাহক ১০০ টাকা পরিশোধ করলে ব্যবসায়ী বা মার্চেন্টও পুরো ১০০ টাকাই পাবেন।
তিনি বলেন, দেশে নোট ছাপানো এবং নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার পেছনে প্রতি বছর প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে এই ব্যয়ের অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো যেতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে ‘এক দেশ এক কিউআর, লেনদেনে বাংলা কিউআর’ স্লোগানে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসির সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।
‘বাংলা কিউআর’-এর বিভিন্ন সুবিধা তুলে ধরে মোস্তাকুর রহমান বলেন, নগদ অর্থের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে কিউআর কোড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ লেনদেনের সুযোগ থাকায় এর মাধ্যমে খুচরা টাকার সমস্যাও কমবে। পাশাপাশি লেনদেনের ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রেও এটি ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জিএম মুজিবর রহমান এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এহতেশামুল হক খান। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা ব্যাংকিং ব্যবস্থা, ডিজিটাল লেনদেন এবং ‘বাংলা কিউআর’ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। গভর্নর এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেন।



























