ঢাকা ০৯:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
দুর্গাপূজায় ইলিশ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অনুরোধ ভারতের আমদানিকারকদের বাংলা-ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে আসছে সামঞ্জস্য, শিক্ষা ব্যবস্থায় অভিন্ন মানদণ্ডের উদ্যোগ দেশে সারের সংকট নেই, মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চলছে: কৃষিমন্ত্রী প্রভাব-প্রতিপত্তি না দেখে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দুদককে রাষ্ট্রপতির নির্দেশ প্রবাসীদের পাসপোর্ট-এনআইডি সেবা আরও দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ পদ্মায় দ্রুত বাড়ছে পানি, আগামী ১–২ দিনে চর ও নিচু এলাকায় বন্যার আশঙ্কা আশুলিয়ায় দম্পতি হত্যার ঘটনায় যুবক গ্রেফতার, আদালতে স্বীকারোক্তির দাবি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন ‘এক দেশ, এক কিউআর’ ব্যবস্থায় গতি বেড়েছে, প্রতিদিন লেনদেন ১২০ কোটি টাকা কিংদাওয়ে কার্গো জাহাজে ভয়াবহ আগুন, নিহত ২০

বনাঞ্চলে গাছে বেঁধে আগুন, দুই মাস পর ইনফ্লুয়েন্সারের মৃত্যু; পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৩২:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / 28

পাঞ্জাবের এক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারকে বনাঞ্চলে নিয়ে গাছে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় দুই মাস মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গত ২৬ আগস্ট মারা গেছেন মনজিৎ কৌর নামের ওই তরুণী। এ ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে মামলা করলেও তদন্তে পাঞ্জাব পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মামলার তথ্যের বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, গত ৩ ও ৪ জুলাইয়ের মধ্যবর্তী রাতে মনজিতের পরিচিত শুভি ও পিন্ডা নামে দুই ব্যক্তি তাকে চণ্ডীগড়ের সেক্টর ৩৪ এলাকায় ডেকে পাঠান। সেখানে যাওয়ার পর তাকে মারধর করে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। পরে তাকে পাঞ্জাবের মোরিন্ডার কাছের একটি বনাঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে মনজিৎকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। পরে তার আরেক পরিচিত ব্যক্তি ঘটনাস্থলে পৌঁছে কম্বল দিয়ে আগুন নেভান। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় মনজিৎকে প্রথমে মোরিন্ডার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে মোহালির ম্যাক্স হাসপাতালে এবং সর্বশেষ চণ্ডীগড়ের পিজিআইএমইআরে স্থানান্তর করা হয়।

তবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনজিৎ সচেতন ছিলেন এবং নিজের বক্তব্য দিতে চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু পুলিশ সে সময় তার জবানবন্দি রেকর্ড করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

গত ২৬ আগস্ট পিজিআইএমইআরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনজিৎ মারা যান। তার মৃত্যুর পর পিজিআই পুলিশ পোস্ট থেকে খারার সদর থানায় পুনরায় বার্তা পাঠানো হয়। এরপর তদন্তকারী কর্মকর্তা হাসপাতালে গিয়ে নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন।

পরবর্তীতে মনজিতের মাকে চণ্ডীগড়ের সেক্টর ৩৪ থানায় নিয়ে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। বুধবার রাতে এ ঘটনায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। বৃহস্পতিবার পিজিআইএমইআরে মনজিতের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে পুলিশের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাঞ্জাব পুলিশ। তাদের দাবি, মনজিতকে অপহরণের ঘটনা চণ্ডীগড়ে ঘটেছিল। তাই ওই ঘটনার আইনি ব্যবস্থা নেওয়া চণ্ডীগড় পুলিশের দায়িত্ব ছিল।

পাঞ্জাব পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, খারার পুলিশ মনজিতের মাকে সহযোগিতা করেছে এবং এফআইআর দায়েরের প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে চণ্ডীগড়ে অপহরণ থেকে শুরু করে মোরিন্ডায় হামলার ঘটনাটি পুনর্নির্মাণ করা হবে।

একই সঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনজিতের জবানবন্দি নেওয়ার যে সুযোগগুলো হাতছাড়া হয়েছে, সেগুলোও তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বনাঞ্চলে গাছে বেঁধে আগুন, দুই মাস পর ইনফ্লুয়েন্সারের মৃত্যু; পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৫:৩২:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

পাঞ্জাবের এক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারকে বনাঞ্চলে নিয়ে গাছে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় দুই মাস মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গত ২৬ আগস্ট মারা গেছেন মনজিৎ কৌর নামের ওই তরুণী। এ ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে মামলা করলেও তদন্তে পাঞ্জাব পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মামলার তথ্যের বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, গত ৩ ও ৪ জুলাইয়ের মধ্যবর্তী রাতে মনজিতের পরিচিত শুভি ও পিন্ডা নামে দুই ব্যক্তি তাকে চণ্ডীগড়ের সেক্টর ৩৪ এলাকায় ডেকে পাঠান। সেখানে যাওয়ার পর তাকে মারধর করে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। পরে তাকে পাঞ্জাবের মোরিন্ডার কাছের একটি বনাঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে মনজিৎকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। পরে তার আরেক পরিচিত ব্যক্তি ঘটনাস্থলে পৌঁছে কম্বল দিয়ে আগুন নেভান। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় মনজিৎকে প্রথমে মোরিন্ডার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে মোহালির ম্যাক্স হাসপাতালে এবং সর্বশেষ চণ্ডীগড়ের পিজিআইএমইআরে স্থানান্তর করা হয়।

তবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনজিৎ সচেতন ছিলেন এবং নিজের বক্তব্য দিতে চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু পুলিশ সে সময় তার জবানবন্দি রেকর্ড করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

গত ২৬ আগস্ট পিজিআইএমইআরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনজিৎ মারা যান। তার মৃত্যুর পর পিজিআই পুলিশ পোস্ট থেকে খারার সদর থানায় পুনরায় বার্তা পাঠানো হয়। এরপর তদন্তকারী কর্মকর্তা হাসপাতালে গিয়ে নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন।

পরবর্তীতে মনজিতের মাকে চণ্ডীগড়ের সেক্টর ৩৪ থানায় নিয়ে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। বুধবার রাতে এ ঘটনায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। বৃহস্পতিবার পিজিআইএমইআরে মনজিতের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে পুলিশের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাঞ্জাব পুলিশ। তাদের দাবি, মনজিতকে অপহরণের ঘটনা চণ্ডীগড়ে ঘটেছিল। তাই ওই ঘটনার আইনি ব্যবস্থা নেওয়া চণ্ডীগড় পুলিশের দায়িত্ব ছিল।

পাঞ্জাব পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, খারার পুলিশ মনজিতের মাকে সহযোগিতা করেছে এবং এফআইআর দায়েরের প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে চণ্ডীগড়ে অপহরণ থেকে শুরু করে মোরিন্ডায় হামলার ঘটনাটি পুনর্নির্মাণ করা হবে।

একই সঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনজিতের জবানবন্দি নেওয়ার যে সুযোগগুলো হাতছাড়া হয়েছে, সেগুলোও তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।