ঢাকা ০৭:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
দুর্গাপূজায় ইলিশ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অনুরোধ ভারতের আমদানিকারকদের বাংলা-ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে আসছে সামঞ্জস্য, শিক্ষা ব্যবস্থায় অভিন্ন মানদণ্ডের উদ্যোগ দেশে সারের সংকট নেই, মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চলছে: কৃষিমন্ত্রী প্রভাব-প্রতিপত্তি না দেখে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দুদককে রাষ্ট্রপতির নির্দেশ প্রবাসীদের পাসপোর্ট-এনআইডি সেবা আরও দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ পদ্মায় দ্রুত বাড়ছে পানি, আগামী ১–২ দিনে চর ও নিচু এলাকায় বন্যার আশঙ্কা আশুলিয়ায় দম্পতি হত্যার ঘটনায় যুবক গ্রেফতার, আদালতে স্বীকারোক্তির দাবি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন ‘এক দেশ, এক কিউআর’ ব্যবস্থায় গতি বেড়েছে, প্রতিদিন লেনদেন ১২০ কোটি টাকা কিংদাওয়ে কার্গো জাহাজে ভয়াবহ আগুন, নিহত ২০

জ্বালানি সংকট কাটাতে সরকারের ৫ দফা কর্মপরিকল্পনা, বাড়বে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৯:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 26

দেশে চলমান জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণে সরকার পাঁচ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে রয়েছে—দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, সাইসমিক জরিপ, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) শক্তিশালীকরণ, প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) ও বিডিং এবং এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে সেলিনা সুলতানা (৩৩৫ মহিলা আসন-৩৫) এর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান ও আমদানিনির্ভরতার কারণে দেশে যে বর্তমান জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, তা থেকে দেশকে বের করে আনতে সরকার পাঁচ দফা সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় তৈরি করা পরিকল্পনার মাধ্যমে জ্বালানি খাতকে রীতিমতো পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল।’ দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান না করা এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে সৃষ্ট বর্তমান সংকট মোকাবিলায় বর্তমান সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি।

সরকারের কর্মপরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ইতোমধ্যে ৩০টি কূপ খনন সম্পন্ন হয়েছে। এসব কূপের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে ১৪০ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে চলমান সাতটি কূপের খননকাজ শেষ হলে জাতীয় গ্রিডে আরও ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হবে। অবশিষ্ট কূপগুলো খননের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।

দেশীয় গ্যাসের নতুন উৎস অনুসন্ধানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্যে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সিসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সিসমিক সার্ভে পরিচালনার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

বাপেক্সকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বাড়াতে আরও দুটি নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এ ছাড়া অফশোর গ্যাস অনুসন্ধানে অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬ অনুমোদনের পর বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। পাশাপাশি অনশোর মডেল পিএসসি অনুমোদনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অফশোর ও অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানের মাধ্যমে নতুন গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেলে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের বিষয়ে তিনি বলেন, কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে কুতুবজোমে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আশা করা হচ্ছে, ডিসেম্বর ২০২৮ সালের মধ্যে ওই টার্মিনাল থেকে রিগ্যাসিফাইড এলএনজি বা গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি আরও ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়বে। পাশাপাশি পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলে জরুরি ভিত্তিতে নতুন এক থেকে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালগুলো স্থাপন করা হলে সামগ্রিকভাবে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য নির্ধারিত ছিল।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

জ্বালানি সংকট কাটাতে সরকারের ৫ দফা কর্মপরিকল্পনা, বাড়বে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন

আপডেট সময় : ০৬:৫৯:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে চলমান জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণে সরকার পাঁচ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে রয়েছে—দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, সাইসমিক জরিপ, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) শক্তিশালীকরণ, প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) ও বিডিং এবং এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণ।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে সেলিনা সুলতানা (৩৩৫ মহিলা আসন-৩৫) এর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান ও আমদানিনির্ভরতার কারণে দেশে যে বর্তমান জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, তা থেকে দেশকে বের করে আনতে সরকার পাঁচ দফা সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় তৈরি করা পরিকল্পনার মাধ্যমে জ্বালানি খাতকে রীতিমতো পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল।’ দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান না করা এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে সৃষ্ট বর্তমান সংকট মোকাবিলায় বর্তমান সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি।

সরকারের কর্মপরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ইতোমধ্যে ৩০টি কূপ খনন সম্পন্ন হয়েছে। এসব কূপের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে ১৪০ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে চলমান সাতটি কূপের খননকাজ শেষ হলে জাতীয় গ্রিডে আরও ৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস যুক্ত হবে। অবশিষ্ট কূপগুলো খননের জন্য পর্যায়ক্রমে প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।

দেশীয় গ্যাসের নতুন উৎস অনুসন্ধানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্যে ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সিসমিক সার্ভে এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সিসমিক সার্ভে পরিচালনার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

বাপেক্সকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বাড়াতে আরও দুটি নতুন রিগ কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এ ছাড়া অফশোর গ্যাস অনুসন্ধানে অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬ অনুমোদনের পর বিড রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। পাশাপাশি অনশোর মডেল পিএসসি অনুমোদনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অফশোর ও অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানের মাধ্যমে নতুন গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেলে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের বিষয়ে তিনি বলেন, কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে কুতুবজোমে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আশা করা হচ্ছে, ডিসেম্বর ২০২৮ সালের মধ্যে ওই টার্মিনাল থেকে রিগ্যাসিফাইড এলএনজি বা গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে এলএনজি আমদানি আরও ৬০০ এমএমসিএফডি বাড়বে। পাশাপাশি পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলে জরুরি ভিত্তিতে নতুন এক থেকে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালগুলো স্থাপন করা হলে সামগ্রিকভাবে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য নির্ধারিত ছিল।