ঢাকা ০৭:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
দুর্গাপূজায় ইলিশ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অনুরোধ ভারতের আমদানিকারকদের বাংলা-ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে আসছে সামঞ্জস্য, শিক্ষা ব্যবস্থায় অভিন্ন মানদণ্ডের উদ্যোগ দেশে সারের সংকট নেই, মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চলছে: কৃষিমন্ত্রী প্রভাব-প্রতিপত্তি না দেখে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দুদককে রাষ্ট্রপতির নির্দেশ প্রবাসীদের পাসপোর্ট-এনআইডি সেবা আরও দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ পদ্মায় দ্রুত বাড়ছে পানি, আগামী ১–২ দিনে চর ও নিচু এলাকায় বন্যার আশঙ্কা আশুলিয়ায় দম্পতি হত্যার ঘটনায় যুবক গ্রেফতার, আদালতে স্বীকারোক্তির দাবি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন ‘এক দেশ, এক কিউআর’ ব্যবস্থায় গতি বেড়েছে, প্রতিদিন লেনদেন ১২০ কোটি টাকা কিংদাওয়ে কার্গো জাহাজে ভয়াবহ আগুন, নিহত ২০

বাংলা-ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে আসছে সামঞ্জস্য, শিক্ষা ব্যবস্থায় অভিন্ন মানদণ্ডের উদ্যোগ

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৭:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 0

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করতে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীরা যে মাধ্যমেই পড়াশোনা করুক না কেন, তাদের মৌলিক জ্ঞান, দক্ষতা ও শেখার ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন ন্যূনতম মানদণ্ড নিশ্চিত করা জরুরি।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে অক্সফোর্ড একিউএ ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস আয়োজিত ‘স্কুল লিডারস কনফারেন্স ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীর শিক্ষার মাধ্যম ভিন্ন হতে পারে, তবে মৌলিক জ্ঞান ও দক্ষতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈষম্য থাকা উচিত নয়। ভালো ও তুলনামূলক কম ভালো প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মৌলিক মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সরকার বিশ্বের সেরা শিক্ষা চর্চাগুলো শুধু অনুসরণ করতে চায় না, বরং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকেই যেন বিশ্বের অন্যান্য দেশ শিক্ষা ব্যবস্থার ভালো চর্চা গ্রহণ করে, সেটিই সরকারের লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সময়, অর্থ ও কঠোর পরিশ্রমে সরকার প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রাথমিক শিক্ষার মৌলিক বিষয়গুলোতে দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, বিদ্যালয়ের সময় ও কার্যকর লার্নিং আওয়ার, শ্রেণিকক্ষের আয়তনের তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট ন্যূনতম মানদণ্ড নির্ধারণ করা জরুরি। কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়া একজন শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষের দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রযুক্তি ও আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের প্রাথমিক শিক্ষায় অ্যাক্টিভিটি-বেজড লার্নিং এবং খেলাধুলার মাধ্যমে শেখার পদ্ধতিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়গুলোর অভিজ্ঞতা ও লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (LMS) কার্যকর ব্যবহার থেকেও সরকার শিক্ষা নিতে চায়।

নতুন কারিকুলাম প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট সবার মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কারিকুলাম তৈরির ক্ষেত্রে যেন কেউ বলতে না পারেন যে তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা ও মতামত নিয়েই সরকার সামনে এগোতে চায়।

কারিকুলাম, অবকাঠামো, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি—এই চারটি ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একটি সমান সুযোগের পরিবেশে আনার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

অক্সফোর্ড একিউএ’র বাংলাদেশ ও নেপালের কান্ট্রি ডিরেক্টর শাহীন রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন। অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ হাইকমিশন ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রতিনিধিসহ ঢাকার বিভিন্ন ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলা-ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে আসছে সামঞ্জস্য, শিক্ষা ব্যবস্থায় অভিন্ন মানদণ্ডের উদ্যোগ

আপডেট সময় : ০৪:৪৭:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করতে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীরা যে মাধ্যমেই পড়াশোনা করুক না কেন, তাদের মৌলিক জ্ঞান, দক্ষতা ও শেখার ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন ন্যূনতম মানদণ্ড নিশ্চিত করা জরুরি।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে অক্সফোর্ড একিউএ ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস আয়োজিত ‘স্কুল লিডারস কনফারেন্স ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীর শিক্ষার মাধ্যম ভিন্ন হতে পারে, তবে মৌলিক জ্ঞান ও দক্ষতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈষম্য থাকা উচিত নয়। ভালো ও তুলনামূলক কম ভালো প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মৌলিক মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সরকার বিশ্বের সেরা শিক্ষা চর্চাগুলো শুধু অনুসরণ করতে চায় না, বরং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকেই যেন বিশ্বের অন্যান্য দেশ শিক্ষা ব্যবস্থার ভালো চর্চা গ্রহণ করে, সেটিই সরকারের লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সময়, অর্থ ও কঠোর পরিশ্রমে সরকার প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রাথমিক শিক্ষার মৌলিক বিষয়গুলোতে দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, বিদ্যালয়ের সময় ও কার্যকর লার্নিং আওয়ার, শ্রেণিকক্ষের আয়তনের তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট ন্যূনতম মানদণ্ড নির্ধারণ করা জরুরি। কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়া একজন শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষের দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রযুক্তি ও আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের প্রাথমিক শিক্ষায় অ্যাক্টিভিটি-বেজড লার্নিং এবং খেলাধুলার মাধ্যমে শেখার পদ্ধতিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়গুলোর অভিজ্ঞতা ও লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (LMS) কার্যকর ব্যবহার থেকেও সরকার শিক্ষা নিতে চায়।

নতুন কারিকুলাম প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট সবার মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কারিকুলাম তৈরির ক্ষেত্রে যেন কেউ বলতে না পারেন যে তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা ও মতামত নিয়েই সরকার সামনে এগোতে চায়।

কারিকুলাম, অবকাঠামো, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি—এই চারটি ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একটি সমান সুযোগের পরিবেশে আনার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

অক্সফোর্ড একিউএ’র বাংলাদেশ ও নেপালের কান্ট্রি ডিরেক্টর শাহীন রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন। অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ হাইকমিশন ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রতিনিধিসহ ঢাকার বিভিন্ন ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষরা উপস্থিত ছিলেন।