প্রবাসীদের পাসপোর্ট-এনআইডি সেবা আরও দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ
- আপডেট সময় : ০৭:১৮:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 4

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত সেবা আরও দ্রুত, সহজ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের টেবিলে উপস্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে যেসব বাংলাদেশি মিশনে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু রয়েছে, সেসব মিশনের মাধ্যমে অনলাইনে পাসপোর্টের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসীরা নিজেদের সুবিধাজনক সময়ে বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট করতে পারছেন এবং আবেদনের অগ্রগতিও জানতে পারছেন।
তিনি জানান, দূতাবাসগুলো পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ করলেও পাসপোর্ট ঢাকায় ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে ইস্যু করা হয়। তাই দ্রুততম সময়ে পাসপোর্ট ডেলিভারি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশি মিশনগুলো নিয়মিত ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে থাকে। পাসপোর্ট ডেলিভারির জন্য প্রস্তুত হলে আবেদনকারীকে এসএমএস বা ই-মেইলের মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত ১৭টি দেশে অবস্থিত ২৭টি বাংলাদেশি মিশনের মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দূতাবাসে জাতীয় পরিচয়পত্রের আবেদন গ্রহণ করা হলেও এনআইডি প্রদান করা হয় নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে।
তিনি বলেন, মোট ৪১টি দেশে পর্যায়ক্রমে ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের সেবা সম্প্রসারণে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পাসপোর্ট সেবা সহজীকরণের লক্ষ্যে বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত প্রবাসীদের পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। স্বল্পমেয়াদি বিশেষ কর্মসূচি বা ক্র্যাশ প্রোগ্রামের আওতায় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত বাংলাদেশি মিশনগুলোতে ঢাকা থেকে কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন দল পাঠিয়ে পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে কনস্যুলার সেবা আরও সহজ করতে অনলাইন সত্যায়ন ও ই-অ্যাপোস্টিল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে সেবাপ্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করে ডিজিটাল সনদ গ্রহণ করতে পারছেন। এতে তাদের সময়, ব্যয় ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কর্মপরিকল্পনায় পাসপোর্ট, ভিসা এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদের তথ্য যাচাই সহজ করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে একটি অনলাইন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি প্রতিটি বাংলাদেশি মিশনে অনলাইন ‘গ্রিভ্যান্স রিড্রেস সিস্টেম’ চালু রয়েছে। অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারণ, দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং সেবাগ্রহীতাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
























