ঢাকা ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি, ব্যয় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার

আইএমএফের শর্ত থেকে সরে যাচ্ছে সরকার, জনবান্ধব নীতিতে নতুন অর্থনৈতিক কৌশল

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 89

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বেশ কয়েকটি মৌলিক শর্ত বাস্তবায়ন থেকে ধীরে ধীরে সরে আসছে সরকার। ডলারের বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখা এবং সুদের হার শিথিল না করার মতো শর্তগুলো বাস্তবায়নে সরকারের অবস্থানে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের দাম সমন্বয় এবং বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি কমানোর ক্ষেত্রেও সরকারের কঠোর পদক্ষেপ এখনো দৃশ্যমান নয়। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার নিট রিজার্ভ প্রকাশ এবং ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমানোর শর্তও পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সরকার আইএমএফের সব শর্তের পরিবর্তে দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কিছু পদক্ষেপ নিতে চাইছে। সম্প্রতি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও বলেছেন, দেশের স্বার্থের পরিপন্থি কোনো শর্ত মেনে আইএমএফের সঙ্গে ঋণচুক্তি করবে না সরকার।

সূত্র জানায়, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আইএমএফের কাছে নতুন ঋণ সহায়তা চেয়ে চিঠি দিয়েছে। একই সঙ্গে আগের ঋণচুক্তি বাতিল করে নতুন চুক্তির দিকে এগোচ্ছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় আইএমএফের একটি মিশন গত ১২ থেকে ১৬ জুলাই ঢাকা সফর করে বাংলাদেশের অর্থনীতির বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে।

এসব তথ্যের ভিত্তিতে আইএমএফ একটি প্রতিবেদন তৈরি করবে এবং নতুন ঋণের জন্য সম্ভাব্য শর্ত নির্ধারণ করবে। আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভার সাইডলাইনে বাংলাদেশের সঙ্গে এসব বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ওই আলোচনাতেই নতুন ঋণচুক্তির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে আইএমএফের কোনো কার্যকর ঋণচুক্তি নেই। আগের আওয়ামী লীগ সরকারের করা চুক্তিটি নতুন সরকার আইএমএফের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বাতিল করেছে। ফলে নতুন করে ঋণচুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে।

তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, আগের ঋণের কোনো কিস্তি পরিশোধ বকেয়া থাকলে আইএমএফের নির্ধারিত শর্তগুলো মানার বাধ্যবাধকতা থাকে। ফলে আগের ঋণের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু শর্ত এখনো বাংলাদেশের জন্য প্রাসঙ্গিক। এসব শর্ত বাস্তবায়নে ব্যর্থতা নতুন ঋণচুক্তির আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে।

আইএমএফের অন্যতম শর্ত ছিল ডলারের বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারনির্ভর করা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি হস্তক্ষেপ বন্ধ রাখা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের বাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি ও হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। আগস্টের শুরুতে ডলারের দাম বেড়ে গেলে আন্তঃব্যাংক বাজারে সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৮২ পয়সা দরে লেনদেনের বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। পরবর্তী সময়ে আন্তঃব্যাংকে ডলারের দাম কমে ১২২ টাকা ৭৭ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যুক্তি, ডলারের দাম বেড়ে গেলে আমদানি ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। বাজারে কারসাজির মাধ্যমে ডলারের দাম বাড়ানোর প্রবণতা ঠেকাতেও নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখার শর্তও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। আগস্টের শুরুতে নীতি সুদের হার কমানো হয়েছে। ঋণের সুদের হার কমাতেও নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ। উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকেও বিনিয়োগ বাড়াতে সুদের হার কমানোর দাবি রয়েছে। সরকারের ধারণা, সুদের হার কমানো হলে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো সম্ভব হবে।

জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করার শর্তেও সরকার আগের মতো কঠোর অবস্থানে নেই। কারণ এসব পণ্যের দাম বাড়ালে সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়বে। একই কারণে বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি কমানোর ক্ষেত্রেও এখন পর্যন্ত বড় কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার নিট রিজার্ভের হিসাব প্রকাশের কথা থাকলেও বর্তমানে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিয়ে সেই হিসাব প্রকাশ করা হচ্ছে না। বিভিন্ন তহবিলে বিনিয়োগ করা অর্থ বাদ দিয়ে রিজার্ভের যে হিসাব প্রকাশ করা হচ্ছে, তাতে গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ৩৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার এবং বিনিয়োগ করা অর্থ বাদে রিজার্ভ ৩১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার।

ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমানোর ক্ষেত্রেও এখনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। বরং আগের সরকারের সময়ে বিতরণ করা বিপুল পরিমাণ ঋণ খেলাপি হিসেবে শ্রেণিভুক্ত হওয়ায় মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বেড়েছে।

সব মিলিয়ে, একদিকে আইএমএফের শর্ত বাস্তবায়নের চাপ, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখে অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে সরকার।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আইএমএফের শর্ত থেকে সরে যাচ্ছে সরকার, জনবান্ধব নীতিতে নতুন অর্থনৈতিক কৌশল

আপডেট সময় : ০৫:০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বেশ কয়েকটি মৌলিক শর্ত বাস্তবায়ন থেকে ধীরে ধীরে সরে আসছে সরকার। ডলারের বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখা এবং সুদের হার শিথিল না করার মতো শর্তগুলো বাস্তবায়নে সরকারের অবস্থানে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের দাম সমন্বয় এবং বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি কমানোর ক্ষেত্রেও সরকারের কঠোর পদক্ষেপ এখনো দৃশ্যমান নয়। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার নিট রিজার্ভ প্রকাশ এবং ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমানোর শর্তও পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সরকার আইএমএফের সব শর্তের পরিবর্তে দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কিছু পদক্ষেপ নিতে চাইছে। সম্প্রতি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও বলেছেন, দেশের স্বার্থের পরিপন্থি কোনো শর্ত মেনে আইএমএফের সঙ্গে ঋণচুক্তি করবে না সরকার।

সূত্র জানায়, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আইএমএফের কাছে নতুন ঋণ সহায়তা চেয়ে চিঠি দিয়েছে। একই সঙ্গে আগের ঋণচুক্তি বাতিল করে নতুন চুক্তির দিকে এগোচ্ছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় আইএমএফের একটি মিশন গত ১২ থেকে ১৬ জুলাই ঢাকা সফর করে বাংলাদেশের অর্থনীতির বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে।

এসব তথ্যের ভিত্তিতে আইএমএফ একটি প্রতিবেদন তৈরি করবে এবং নতুন ঋণের জন্য সম্ভাব্য শর্ত নির্ধারণ করবে। আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভার সাইডলাইনে বাংলাদেশের সঙ্গে এসব বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ওই আলোচনাতেই নতুন ঋণচুক্তির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে আইএমএফের কোনো কার্যকর ঋণচুক্তি নেই। আগের আওয়ামী লীগ সরকারের করা চুক্তিটি নতুন সরকার আইএমএফের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বাতিল করেছে। ফলে নতুন করে ঋণচুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে।

তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, আগের ঋণের কোনো কিস্তি পরিশোধ বকেয়া থাকলে আইএমএফের নির্ধারিত শর্তগুলো মানার বাধ্যবাধকতা থাকে। ফলে আগের ঋণের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু শর্ত এখনো বাংলাদেশের জন্য প্রাসঙ্গিক। এসব শর্ত বাস্তবায়নে ব্যর্থতা নতুন ঋণচুক্তির আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে।

আইএমএফের অন্যতম শর্ত ছিল ডলারের বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারনির্ভর করা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি হস্তক্ষেপ বন্ধ রাখা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের বাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি ও হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। আগস্টের শুরুতে ডলারের দাম বেড়ে গেলে আন্তঃব্যাংক বাজারে সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৮২ পয়সা দরে লেনদেনের বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। পরবর্তী সময়ে আন্তঃব্যাংকে ডলারের দাম কমে ১২২ টাকা ৭৭ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যুক্তি, ডলারের দাম বেড়ে গেলে আমদানি ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। বাজারে কারসাজির মাধ্যমে ডলারের দাম বাড়ানোর প্রবণতা ঠেকাতেও নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রাখার শর্তও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। আগস্টের শুরুতে নীতি সুদের হার কমানো হয়েছে। ঋণের সুদের হার কমাতেও নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ। উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকেও বিনিয়োগ বাড়াতে সুদের হার কমানোর দাবি রয়েছে। সরকারের ধারণা, সুদের হার কমানো হলে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো সম্ভব হবে।

জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করার শর্তেও সরকার আগের মতো কঠোর অবস্থানে নেই। কারণ এসব পণ্যের দাম বাড়ালে সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়বে। একই কারণে বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি কমানোর ক্ষেত্রেও এখন পর্যন্ত বড় কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার নিট রিজার্ভের হিসাব প্রকাশের কথা থাকলেও বর্তমানে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিয়ে সেই হিসাব প্রকাশ করা হচ্ছে না। বিভিন্ন তহবিলে বিনিয়োগ করা অর্থ বাদ দিয়ে রিজার্ভের যে হিসাব প্রকাশ করা হচ্ছে, তাতে গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ৩৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার এবং বিনিয়োগ করা অর্থ বাদে রিজার্ভ ৩১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার।

ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমানোর ক্ষেত্রেও এখনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। বরং আগের সরকারের সময়ে বিতরণ করা বিপুল পরিমাণ ঋণ খেলাপি হিসেবে শ্রেণিভুক্ত হওয়ায় মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বেড়েছে।

সব মিলিয়ে, একদিকে আইএমএফের শর্ত বাস্তবায়নের চাপ, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখে অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে সরকার।