গ্যাস বিলে অনিয়মের মাধ্যমে ৯৮২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, ইউনাইটেড গ্রুপের বিরুদ্ধে দুদকের প্রাথমিক সত্যতা
- আপডেট সময় : ০৫:৫১:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
- / 1

গ্যাসের বিল পরিশোধে অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ৯৮২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইউনাইটেড গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড-এর বিরুদ্ধে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সম্প্রতি আদালতে জমা দেওয়া দুদকের অনুসন্ধান অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ক্যাপাসিটি রেট অনুযায়ী গ্যাস বিল পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও বেআইনিভাবে আইপিপি (ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার) রেটের সুবিধা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কম বিল পরিশোধ করেছে। এতে সরকারের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিষয়টি শুধু গ্যাস বিল সংক্রান্ত নয়। ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈন উদ্দিন হাসান রশিদ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সরকারি অর্পিত সম্পত্তি জাল দলিলের মাধ্যমে দখল, অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার এবং গ্যাস বিলে অনিয়ম—এই চারটি অভিযোগ একসঙ্গে অনুসন্ধান করছে দুদক।
অনুসন্ধানের স্বার্থে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি এবং কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব নথির ভিত্তিতেই অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দুদক।
তদন্তে দেখা গেছে, জানুয়ারি ২০১৮ থেকে মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত তিতাস গ্যাসের কাছে ৪৮৬ কোটি ৪৩ লাখ ৮২ হাজার ৬১১ টাকা ৭৫ পয়সা এবং অক্টোবর ২০১৮ থেকে নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত কর্ণফুলী গ্যাসের কাছে ৪৯৫ কোটি ২৩ লাখ ৯৭ হাজার ৪০৪ টাকা পরিশোধ করা হয়নি। ফলে দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে মোট বকেয়া দাঁড়িয়েছে ৯৮১ কোটি ৬৭ লাখ ৮০ হাজার ১৫ টাকা ৭৫ পয়সা।
দুদক জানিয়েছে, অনুসন্ধানে অভিযোগগুলোর প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়া গেছে। এখন বাকি অনুসন্ধান শেষ করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়া হবে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, একই অভিযোগের তদন্তের স্বার্থে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি আদালত হাসান মাহমুদ রাজা, মঈন উদ্দিন হাসান রশিদ এবং আবুল কালাম আজাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেন।
পরে মঈন উদ্দিন হাসান রশিদ বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করলে আদালত দুদককে তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতেই আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে গ্যাস বিলে অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। অর্থ পাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগ-সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেন ও নথিপত্রও যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অনিয়মের আর্থিক পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।


























