ধামা ইলিয়াছের তথ্যে গ্রেফতার ডেভিড ইমন, উদ্ধার বিদেশি পিস্তলসহ অস্ত্রের মজুদ
- আপডেট সময় : ০৬:৩৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
- / 0

চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং আরও কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
তিনি জানান, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত আলোচিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করা হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ২২ জুলাই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছকে গ্রেফতার করা হয়।
পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ধামা ইলিয়াছ সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের মজুদ এবং সহযোগীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, ধামা ইলিয়াছ কুখ্যাত সন্ত্রাসী রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ২১টি মামলা রয়েছে।
রিমান্ডে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ জুলাই যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকায় যশোর জেলা পুলিশের সহায়তায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে পৃথক আরেকটি অভিযানে আরও একজনকে আটক করা হয়।
রাউজানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এসপি মাসুদ আলম বলেন, ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম মহানগর, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে খুন, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ও চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়া রাউজান, রাঙ্গুনিয়া এবং চট্টগ্রাম মহানগরের একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেফতারদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসী চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস, অর্থায়ন এবং পুরো নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
গ্রেফতার হওয়া পাঁচজন হলেন— মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন (২৫), মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছ (৪৯), শামীম (২৮), আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫) এবং সাফায়েত হোসেন (২৪)।

























