ঢাকা ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি, ব্যয় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার

মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতায় মামলা কমেছে ৬২ শতাংশ, জানালেন আইনমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:২৬:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • / 32

মামলা দায়েরের আগেই বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতার (প্রি-কেস মেডিয়েশন) উদ্যোগ বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত, সহজ ও কম খরচে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, এই কার্যক্রম চালুর ফলে আদালতে নতুন মামলা দায়েরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা বিচারব্যবস্থায় ইতোমধ্যেই আশাব্যঞ্জক ফল দেখাতে শুরু করেছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে ভার্চুয়ালি ১০ জেলায় মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা বিচারব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। এ অবস্থায় আদালতে মামলা করার আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা গেলে বিচারপ্রার্থীদের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমবে, পাশাপাশি আদালতের মামলার চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, ২০ জেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রি-কেস মেডিয়েশন চালুর পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের তুলনায় ২০২৬ সালের একই সময়ে বিভিন্ন আইনে মামলা দায়েরের সংখ্যা গড়ে ৬২ দশমিক ০২ শতাংশ কমেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পারিবারিক আদালত আইনে মামলা ৩ হাজার ৫৫৯টি থেকে কমে ১ হাজার ৭৪৪টিতে, বণ্টন সংক্রান্ত মামলা ২ হাজার ১টি থেকে ৬৬১টিতে, স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি আইনের প্রিম্পশন মামলা ১৭টি থেকে ২টিতে, নন-এগ্রিকালচারাল টেন্যান্সি আইনে ৩১টি থেকে ১৪টিতে, যৌতুক নিরোধ আইনে ৫ হাজার ৬০৫টি থেকে ১ হাজার ৮১০টিতে এবং পিতামাতার ভরণ-পোষণ আইনে ৪৩টি থেকে ৩৫টিতে নেমে এসেছে।

তিনি বলেন, আদালতে মামলা প্রবাহ এভাবে কমাতে পারলে বিচারাধীন মামলার জট দ্রুত কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেসব বিচারাধীন মামলা আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা সম্ভব, সেগুলো জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে মধ্যস্থতার জন্য পাঠানো হলে বিচারপ্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে।

আইনমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আদালত, জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, আইনজীবী এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ সম্মিলিতভাবে কাজ করলে আগামী এক বছরের মধ্যে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

গণমাধ্যমের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত লিগ্যাল এইড কার্যক্রমের মাধ্যমে অসহায় ও প্রান্তিক মানুষ বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা ও দ্রুত বিচার পাচ্ছেন। এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

কক্সবাজারে বর্তমানে এক লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট বিচারক ও কর্মকর্তাদের আগামী তিন মাসের মধ্যে দৃশ্যমানভাবে মামলাজট কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি জানান, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।

প্রি-কেস মেডিয়েশন বাস্তবায়নে জাইকা (JICA), জিআইজেড (GIZ) ও ইউএনডিপি (UNDP)-এর সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি উন্নয়ন সহযোগীদের ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারীদের জনসেবার মানসিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই কার্যক্রমে কোনো ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।

অনুষ্ঠান শেষে আইনমন্ত্রী একযোগে বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নাটোর, যশোর, শরীয়তপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইল জেলায় মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী এখন থেকে এসব জেলায় সাতটি নির্দিষ্ট আইনের আওতায় আদালতে মামলা করার আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেওয়া বাধ্যতামূলক হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতায় মামলা কমেছে ৬২ শতাংশ, জানালেন আইনমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৩:২৬:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

মামলা দায়েরের আগেই বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতার (প্রি-কেস মেডিয়েশন) উদ্যোগ বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত, সহজ ও কম খরচে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, এই কার্যক্রম চালুর ফলে আদালতে নতুন মামলা দায়েরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা বিচারব্যবস্থায় ইতোমধ্যেই আশাব্যঞ্জক ফল দেখাতে শুরু করেছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে ভার্চুয়ালি ১০ জেলায় মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা বিচারব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। এ অবস্থায় আদালতে মামলা করার আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা গেলে বিচারপ্রার্থীদের সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমবে, পাশাপাশি আদালতের মামলার চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, ২০ জেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রি-কেস মেডিয়েশন চালুর পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের তুলনায় ২০২৬ সালের একই সময়ে বিভিন্ন আইনে মামলা দায়েরের সংখ্যা গড়ে ৬২ দশমিক ০২ শতাংশ কমেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পারিবারিক আদালত আইনে মামলা ৩ হাজার ৫৫৯টি থেকে কমে ১ হাজার ৭৪৪টিতে, বণ্টন সংক্রান্ত মামলা ২ হাজার ১টি থেকে ৬৬১টিতে, স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি আইনের প্রিম্পশন মামলা ১৭টি থেকে ২টিতে, নন-এগ্রিকালচারাল টেন্যান্সি আইনে ৩১টি থেকে ১৪টিতে, যৌতুক নিরোধ আইনে ৫ হাজার ৬০৫টি থেকে ১ হাজার ৮১০টিতে এবং পিতামাতার ভরণ-পোষণ আইনে ৪৩টি থেকে ৩৫টিতে নেমে এসেছে।

তিনি বলেন, আদালতে মামলা প্রবাহ এভাবে কমাতে পারলে বিচারাধীন মামলার জট দ্রুত কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেসব বিচারাধীন মামলা আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা সম্ভব, সেগুলো জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে মধ্যস্থতার জন্য পাঠানো হলে বিচারপ্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে।

আইনমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আদালত, জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, আইনজীবী এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ সম্মিলিতভাবে কাজ করলে আগামী এক বছরের মধ্যে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

গণমাধ্যমের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত লিগ্যাল এইড কার্যক্রমের মাধ্যমে অসহায় ও প্রান্তিক মানুষ বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা ও দ্রুত বিচার পাচ্ছেন। এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

কক্সবাজারে বর্তমানে এক লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট বিচারক ও কর্মকর্তাদের আগামী তিন মাসের মধ্যে দৃশ্যমানভাবে মামলাজট কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি জানান, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।

প্রি-কেস মেডিয়েশন বাস্তবায়নে জাইকা (JICA), জিআইজেড (GIZ) ও ইউএনডিপি (UNDP)-এর সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি উন্নয়ন সহযোগীদের ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারীদের জনসেবার মানসিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই কার্যক্রমে কোনো ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।

অনুষ্ঠান শেষে আইনমন্ত্রী একযোগে বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নাটোর, যশোর, শরীয়তপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইল জেলায় মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী এখন থেকে এসব জেলায় সাতটি নির্দিষ্ট আইনের আওতায় আদালতে মামলা করার আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেওয়া বাধ্যতামূলক হবে।