ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি, ব্যয় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার

চট্টগ্রামে বন্যায় ১৪ হাজার হেক্টর কৃষিজমি তলিয়ে, ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১০ হাজার পুকুর ও চিংড়ি ঘের

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • / 122

চট্টগ্রামে টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষি ও মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জেলার ১৫টি উপজেলার ১৫৩টি ইউনিয়নে প্রায় ১৪ হাজার ২৯৭ হেক্টর কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১০ হাজার পুকুর, দিঘি ও চিংড়ি ঘের। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ৮ হাজার ৭৬৮ হেক্টর আউশ ধান, ৬২১ দশমিক ৬৬ হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ৪ হাজার ৯০৭ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজির আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে ১৪ হাজার ২৯৬ দশমিক ৬৬ হেক্টর কৃষিজমির ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে।

গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে চন্দনাইশে ৮৩০ হেক্টর, সীতাকুণ্ডে ৭০০ হেক্টর, সন্দ্বীপে ৬০০ হেক্টর, ফটিকছড়িতে ৪৭৫ হেক্টর, সাতকানিয়ায় ৪৬০ হেক্টর এবং বাঁশখালীতে ৪০০ হেক্টর জমির সবজি আবাদ নষ্ট হয়েছে। পানি নেমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে।

উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সীতাকুণ্ড ও সন্দ্বীপের কৃষকরা। বাঁশখালীতে ২ হাজার ১৫০ হেক্টর, চন্দনাইশে ২ হাজার ১২০ হেক্টর, সীতাকুণ্ডে ১ হাজার ৫০০ হেক্টর এবং সন্দ্বীপে ১ হাজার হেক্টর আউশ ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

অন্যদিকে জেলা মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, বন্যার কারণে জেলার ১৫৩টি ইউনিয়নে ৯ হাজার ৯৩৩টি পুকুর ও দিঘি, ৩২০টি চিংড়ি ঘের এবং প্রায় ৪ হাজার ১১২ হেক্টর জলাশয়ের মাছচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মৎস্য খাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালী উপজেলায়। সেখানে ২ হাজার ৫০০টি পুকুর, ৩১০টি চিংড়ি ঘের এবং প্রায় ১ হাজার ৯৭০ হেক্টর জলাশয়ের মাছ ভেসে গেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষতি হয়েছে সাতকানিয়ায়, যেখানে ৪৬৬ হেক্টর জলাশয়ের মাছচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব করা হবে। তবে প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, কৃষি ও মৎস্য খাতে ক্ষতির পরিমাণ শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে বন্যায় ১৪ হাজার হেক্টর কৃষিজমি তলিয়ে, ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১০ হাজার পুকুর ও চিংড়ি ঘের

আপডেট সময় : ০৫:৪৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামে টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষি ও মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জেলার ১৫টি উপজেলার ১৫৩টি ইউনিয়নে প্রায় ১৪ হাজার ২৯৭ হেক্টর কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১০ হাজার পুকুর, দিঘি ও চিংড়ি ঘের। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ৮ হাজার ৭৬৮ হেক্টর আউশ ধান, ৬২১ দশমিক ৬৬ হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ৪ হাজার ৯০৭ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজির আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে ১৪ হাজার ২৯৬ দশমিক ৬৬ হেক্টর কৃষিজমির ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে।

গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে চন্দনাইশে ৮৩০ হেক্টর, সীতাকুণ্ডে ৭০০ হেক্টর, সন্দ্বীপে ৬০০ হেক্টর, ফটিকছড়িতে ৪৭৫ হেক্টর, সাতকানিয়ায় ৪৬০ হেক্টর এবং বাঁশখালীতে ৪০০ হেক্টর জমির সবজি আবাদ নষ্ট হয়েছে। পানি নেমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে।

উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সীতাকুণ্ড ও সন্দ্বীপের কৃষকরা। বাঁশখালীতে ২ হাজার ১৫০ হেক্টর, চন্দনাইশে ২ হাজার ১২০ হেক্টর, সীতাকুণ্ডে ১ হাজার ৫০০ হেক্টর এবং সন্দ্বীপে ১ হাজার হেক্টর আউশ ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

অন্যদিকে জেলা মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, বন্যার কারণে জেলার ১৫৩টি ইউনিয়নে ৯ হাজার ৯৩৩টি পুকুর ও দিঘি, ৩২০টি চিংড়ি ঘের এবং প্রায় ৪ হাজার ১১২ হেক্টর জলাশয়ের মাছচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মৎস্য খাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালী উপজেলায়। সেখানে ২ হাজার ৫০০টি পুকুর, ৩১০টি চিংড়ি ঘের এবং প্রায় ১ হাজার ৯৭০ হেক্টর জলাশয়ের মাছ ভেসে গেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষতি হয়েছে সাতকানিয়ায়, যেখানে ৪৬৬ হেক্টর জলাশয়ের মাছচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব করা হবে। তবে প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, কৃষি ও মৎস্য খাতে ক্ষতির পরিমাণ শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।