ঢাকা ১১:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
অ্যাপভিত্তিক সিএনজি সেবা বন্ধের উদ্যোগে উদ্বেগ, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: ২৬ পণ্যে ‘ক্ষতিকর’ উপাদান, তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট ১০ আগস্ট প্রকাশ হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে একমত বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হতে নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতি মন্ত্রীর আহ্বান গুলশানের বাসায় ফিরছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতিতে সর্বনিম্ন ১০% শুল্ক পেল বাংলাদেশ, রপ্তানিতে বাড়ছে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা এআইকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী হরমুজ প্রণালি সংকটে বাংলাদেশে তীব্র সার সংকটের আশঙ্কা, সতর্ক করল ডব্লিউএফপি

চট্টগ্রামে বন্যায় ১৪ হাজার হেক্টর কৃষিজমি তলিয়ে, ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১০ হাজার পুকুর ও চিংড়ি ঘের

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • / 7

চট্টগ্রামে টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষি ও মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জেলার ১৫টি উপজেলার ১৫৩টি ইউনিয়নে প্রায় ১৪ হাজার ২৯৭ হেক্টর কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১০ হাজার পুকুর, দিঘি ও চিংড়ি ঘের। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ৮ হাজার ৭৬৮ হেক্টর আউশ ধান, ৬২১ দশমিক ৬৬ হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ৪ হাজার ৯০৭ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজির আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে ১৪ হাজার ২৯৬ দশমিক ৬৬ হেক্টর কৃষিজমির ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে।

গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে চন্দনাইশে ৮৩০ হেক্টর, সীতাকুণ্ডে ৭০০ হেক্টর, সন্দ্বীপে ৬০০ হেক্টর, ফটিকছড়িতে ৪৭৫ হেক্টর, সাতকানিয়ায় ৪৬০ হেক্টর এবং বাঁশখালীতে ৪০০ হেক্টর জমির সবজি আবাদ নষ্ট হয়েছে। পানি নেমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে।

উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সীতাকুণ্ড ও সন্দ্বীপের কৃষকরা। বাঁশখালীতে ২ হাজার ১৫০ হেক্টর, চন্দনাইশে ২ হাজার ১২০ হেক্টর, সীতাকুণ্ডে ১ হাজার ৫০০ হেক্টর এবং সন্দ্বীপে ১ হাজার হেক্টর আউশ ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

অন্যদিকে জেলা মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, বন্যার কারণে জেলার ১৫৩টি ইউনিয়নে ৯ হাজার ৯৩৩টি পুকুর ও দিঘি, ৩২০টি চিংড়ি ঘের এবং প্রায় ৪ হাজার ১১২ হেক্টর জলাশয়ের মাছচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মৎস্য খাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালী উপজেলায়। সেখানে ২ হাজার ৫০০টি পুকুর, ৩১০টি চিংড়ি ঘের এবং প্রায় ১ হাজার ৯৭০ হেক্টর জলাশয়ের মাছ ভেসে গেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষতি হয়েছে সাতকানিয়ায়, যেখানে ৪৬৬ হেক্টর জলাশয়ের মাছচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব করা হবে। তবে প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, কৃষি ও মৎস্য খাতে ক্ষতির পরিমাণ শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে বন্যায় ১৪ হাজার হেক্টর কৃষিজমি তলিয়ে, ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১০ হাজার পুকুর ও চিংড়ি ঘের

আপডেট সময় : ০৫:৪৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামে টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কৃষি ও মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জেলার ১৫টি উপজেলার ১৫৩টি ইউনিয়নে প্রায় ১৪ হাজার ২৯৭ হেক্টর কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১০ হাজার পুকুর, দিঘি ও চিংড়ি ঘের। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ৮ হাজার ৭৬৮ হেক্টর আউশ ধান, ৬২১ দশমিক ৬৬ হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ৪ হাজার ৯০৭ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজির আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে ১৪ হাজার ২৯৬ দশমিক ৬৬ হেক্টর কৃষিজমির ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে।

গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে চন্দনাইশে ৮৩০ হেক্টর, সীতাকুণ্ডে ৭০০ হেক্টর, সন্দ্বীপে ৬০০ হেক্টর, ফটিকছড়িতে ৪৭৫ হেক্টর, সাতকানিয়ায় ৪৬০ হেক্টর এবং বাঁশখালীতে ৪০০ হেক্টর জমির সবজি আবাদ নষ্ট হয়েছে। পানি নেমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে।

উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সীতাকুণ্ড ও সন্দ্বীপের কৃষকরা। বাঁশখালীতে ২ হাজার ১৫০ হেক্টর, চন্দনাইশে ২ হাজার ১২০ হেক্টর, সীতাকুণ্ডে ১ হাজার ৫০০ হেক্টর এবং সন্দ্বীপে ১ হাজার হেক্টর আউশ ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

অন্যদিকে জেলা মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, বন্যার কারণে জেলার ১৫৩টি ইউনিয়নে ৯ হাজার ৯৩৩টি পুকুর ও দিঘি, ৩২০টি চিংড়ি ঘের এবং প্রায় ৪ হাজার ১১২ হেক্টর জলাশয়ের মাছচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মৎস্য খাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালী উপজেলায়। সেখানে ২ হাজার ৫০০টি পুকুর, ৩১০টি চিংড়ি ঘের এবং প্রায় ১ হাজার ৯৭০ হেক্টর জলাশয়ের মাছ ভেসে গেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষতি হয়েছে সাতকানিয়ায়, যেখানে ৪৬৬ হেক্টর জলাশয়ের মাছচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব করা হবে। তবে প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, কৃষি ও মৎস্য খাতে ক্ষতির পরিমাণ শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।