বৃষ্টি-বন্যার প্রভাবে ঢাকার বাজারে কাঁচামরিচ, শসা ও ধনেপাতার দাম ঊর্ধ্বমুখী
- আপডেট সময় : ০৫:৪২:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
- / 14

সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর কাঁচাবাজারে কাঁচামরিচ, শসা ও ধনেপাতাসহ কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। বিক্রেতারা টানা বৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বন্যার কারণে সরবরাহ কমে যাওয়াকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও, অনেক ক্রেতার অভিযোগ—এটি বাড়তি দাম নেওয়ার অজুহাত।
শুক্রবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচাবাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট এবং কারওয়ান বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা এনজিও কর্মী মোহাম্মদ ওসমান বলেন, সপ্তাহে সপ্তাহে জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও মানুষের আয় সে হারে বাড়ে না। দাম বেশি হওয়ায় তিনি শসা না কিনে শুধু কাঁচামরিচ কিনেছেন এবং আপাতত ডিম ও আলু দিয়েই সংসার চালানোর পরিকল্পনা করছেন।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের সামনে ভ্রাম্যমাণভাবে সবজি বিক্রি করা আবদুল গণি জানান, বর্তমানে কাঁচামরিচ, শসা ও ধনেপাতার দাম আড়তেই অনেক বেশি। গত সপ্তাহে যেখানে পাঁচ কেজির এক পাল্লা কাঁচামরিচ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। ধনেপাতার কেজি আড়তে ৯০ টাকা থেকে বেড়ে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, দাম বেশি হওয়ায় শসা আনেননি। তবে কাঁচামরিচ ও ধনেপাতা সীমিত পরিমাণে এনে বিক্রি করছেন। বর্তমানে কাঁচামরিচ ও ধনেপাতা উভয়ই খুচরা বাজারে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, কাঁচকলা, পটল, বেগুন ও অন্যান্য সবজির আড়তদর প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, বৃষ্টির প্রভাব থাকলেও এসব পণ্যের দাম তেমন বাড়েনি।
কারওয়ান বাজারের আড়তদার ইসহাক মোল্লা বলেন, কাঁচামরিচ, শসা ও ধনেপাতা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। বন্যা ও টানা বৃষ্টির কারণে কয়েক দিন ধরে এসব পণ্যের সরবরাহ কমে গেছে। ফলে আড়তেই দাম বেড়েছে। বর্তমানে দেশি শসা ৮০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে এগুলোর দাম আরও ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি রাখা হচ্ছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কিছু খুচরা বিক্রেতা বৃষ্টির অজুহাতে আরও কয়েকটি সবজির দামও কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি নিচ্ছেন। বর্তমানে করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
জাত ও মানভেদে বেগুনের দাম কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১২০ টাকায় পৌঁছেছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় গড়ে ২০ টাকা বেশি। তবে পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, আড়তে বেগুনের দাম বাড়েনি।
এদিকে সজনের কেজি ১৬০ থেকে ২০০ টাকা এবং ধুন্দল ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পেঁপে ৩০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা কেজি দরে আগের মতোই রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে এসব পণ্য তুলনামূলকভাবে ১০ থেকে ১৫ টাকা কম দামে পাওয়া যাচ্ছে।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের খুচরা বিক্রেতা জানে আলম বলেন, বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সরবরাহ কমে গেছে, অনেক জায়গায় পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে এবং দ্রুত পণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পাইকারি দাম বেড়েছে। এর প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে।
তবে আলু, পেঁয়াজ, ডিম, মাছ ও মাংসের বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৪০ টাকা, ফার্মের লাল ডিমের ডজন ১৩০ টাকা এবং সাদা ডিমের ডজন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির বাজারেও আগের সপ্তাহের দামই বহাল রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি ১৬৫ টাকা, সোনালি কক ৩৩০ টাকা এবং সোনালি হাইব্রিড ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের কেজি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে রয়েছে।
মাছের বাজারে পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ও পাঙ্গাস ২০০ টাকা এবং চাষের কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
























