চা শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে অগাস্টে বৈঠক, দৈনিক ৫০০ টাকার দাবি সংসদে
- আপডেট সময় : ০৫:৩৯:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
- / 73

চা শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি পুনর্নির্ধারণে আগামী অগাস্ট মাসে মজুরি বোর্ডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদে চা শ্রমিকদের দৈনিক সর্বনিম্ন মজুরি ৫০০ টাকা করার দাবিও উঠেছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের আলোচনায় মৌলভীবাজার-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম চা শ্রমিকদের দৈনিক সর্বনিম্ন মজুরি ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে আরও কয়েকজন সংসদ সদস্য বর্তমান মজুরিকে অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে তা বাড়ানোর দাবি জানান।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানসিলা জেবরিন বলেন, বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী দেশে বর্তমানে ১৬৮ থেকে ১৭০টি নিবন্ধিত চা বাগান রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চা বাগান মৌলভীবাজার জেলায়, যেখানে দেশের মোট চা উৎপাদনের প্রায় ৫০ শতাংশ উৎপাদিত হয়।
তিনি বিভিন্ন দেশের চা শ্রমিকদের মজুরির তুলনা তুলে ধরে বলেন, শ্রীলঙ্কায় দৈনিক মজুরি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, কেনিয়ায় ৪৮৩ টাকা, ভারতে ২৫৬ থেকে ৩৩০ টাকা হলেও বাংলাদেশে বর্তমানে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি মাত্র ১৭৮ টাকা।
আলোচনার জবাবে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সরকার চা শিল্পের টেকসই উন্নয়নের পাশাপাশি চা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং জীবনমান উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
তিনি জানান, শ্রম আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময় অন্তর চা খাতের মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে চা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পর্যালোচনা ও পুনর্নির্ধারণ করা হয়। এ প্রক্রিয়া ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, শুধু মজুরি বৃদ্ধি নয়, চা শ্রমিকদের উন্নত আবাসন, নিরাপদ পানীয় পানি, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, শিশুদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সরকার কাজ করছে। আগামী অগাস্ট মাসেই চা শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হবে।
এ সময় সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম জানতে চান, নতুন করে মজুরি কত টাকা বাড়ানো হবে।
জবাবে শ্রমমন্ত্রী বলেন, তিন বছর পরপর ৫ শতাংশ হারে মজুরি বৃদ্ধির একটি প্রচলিত রেওয়াজ রয়েছে। সে অনুযায়ী আগামী অগাস্টে মজুরি বোর্ডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সরকার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে, যাতে চা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা যায়।

























