ঢাকা ১২:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৬৮ বাংলাদেশি এসএসসির খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি করা পরীক্ষকদের শাস্তি হবে: শিক্ষামন্ত্রী গুজরাট থেকে বাংলাদেশে আসছে ইলিশ, এবার উল্টো রপ্তানির অনুমতি চাইছে ভারত ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি: স্পিকার ডিএজি নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে রুমিন ফারহানার আবেদন নিজ কার্যালয় থেকেই চিকিৎসক-নার্সদের হাজিরা মনিটর করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেভরনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘুষের অভিযোগের তদন্তের পরই বদলি শিক্ষা কর্মকর্তা, উঠছে প্রশ্ন আদানির গোড্ডা কেন্দ্রের ৮০০ মেগাওয়াট ইউনিট থেকে ফের বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ

আরও তিন দিন বৃষ্টির আভাস, চার বিভাগে বন্যা পরিস্থিতির শঙ্কা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:১৩:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • / 65

দেশজুড়ে টানা প্রায় পাঁচ দিন ধরে চলা বৃষ্টির প্রবণতা শুক্রবারও অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ সরে গেলেও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে শনিবার এমনকি রোববার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ এলাকায় থেমে থেমে বৃষ্টি হতে পারে।

টানা বৃষ্টির কারণে দেশের অন্তত চারটি বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম বিভাগে পাহাড়ধসে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং অনেক এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা বিরাজ করছে।

আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা জানান, প্রথমদিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে বৃষ্টিপাত শুরু হলেও বর্তমানে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবেই সারা দেশে বৃষ্টির প্রবণতা বজায় রয়েছে। তার ভাষ্য, শুক্রবার দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে এবং এই পরিস্থিতি রোববার পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবারও বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে, যদিও তখন বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, কোনো এলাকায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে তাকে ভারী বৃষ্টি এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি হলে অতি ভারী বৃষ্টি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

গত চার দিনে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ২১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। অন্যদিকে শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত রাজধানী ঢাকায় ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, শুক্রবারও দেশের প্রায় সব এলাকাতেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হতে পারে এবং কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে টানা বর্ষণে চট্টগ্রামসহ অন্তত ছয়টি জেলায় লাখো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। চট্টগ্রাম নগরের বেশিরভাগ এলাকায় জলাবদ্ধতা কমলেও শমসেরপাড়াসহ কয়েকটি এলাকায় এখনো পানি জমে রয়েছে। রেলপথে পানি জমে থাকায় শুক্রবার পর্যন্ত কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার আবু জাফর মজুমদার। এছাড়া পাহাড়ধস ও বন্যার পানির কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কসহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আরও তিন দিন বৃষ্টির আভাস, চার বিভাগে বন্যা পরিস্থিতির শঙ্কা

আপডেট সময় : ০৬:১৩:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

দেশজুড়ে টানা প্রায় পাঁচ দিন ধরে চলা বৃষ্টির প্রবণতা শুক্রবারও অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ সরে গেলেও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে শনিবার এমনকি রোববার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ এলাকায় থেমে থেমে বৃষ্টি হতে পারে।

টানা বৃষ্টির কারণে দেশের অন্তত চারটি বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম বিভাগে পাহাড়ধসে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং অনেক এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা বিরাজ করছে।

আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা জানান, প্রথমদিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে বৃষ্টিপাত শুরু হলেও বর্তমানে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবেই সারা দেশে বৃষ্টির প্রবণতা বজায় রয়েছে। তার ভাষ্য, শুক্রবার দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে এবং এই পরিস্থিতি রোববার পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবারও বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে, যদিও তখন বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, কোনো এলাকায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে তাকে ভারী বৃষ্টি এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি হলে অতি ভারী বৃষ্টি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

গত চার দিনে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ২১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। অন্যদিকে শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত রাজধানী ঢাকায় ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, শুক্রবারও দেশের প্রায় সব এলাকাতেই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হতে পারে এবং কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে টানা বর্ষণে চট্টগ্রামসহ অন্তত ছয়টি জেলায় লাখো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। চট্টগ্রাম নগরের বেশিরভাগ এলাকায় জলাবদ্ধতা কমলেও শমসেরপাড়াসহ কয়েকটি এলাকায় এখনো পানি জমে রয়েছে। রেলপথে পানি জমে থাকায় শুক্রবার পর্যন্ত কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার আবু জাফর মজুমদার। এছাড়া পাহাড়ধস ও বন্যার পানির কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কসহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।