ঢাকা ১২:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
অ্যাপভিত্তিক সিএনজি সেবা বন্ধের উদ্যোগে উদ্বেগ, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: ২৬ পণ্যে ‘ক্ষতিকর’ উপাদান, তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট ১০ আগস্ট প্রকাশ হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে একমত বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হতে নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতি মন্ত্রীর আহ্বান গুলশানের বাসায় ফিরছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতিতে সর্বনিম্ন ১০% শুল্ক পেল বাংলাদেশ, রপ্তানিতে বাড়ছে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা এআইকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী হরমুজ প্রণালি সংকটে বাংলাদেশে তীব্র সার সংকটের আশঙ্কা, সতর্ক করল ডব্লিউএফপি

খাগড়াছড়িতে কমছে বন্যার পানি, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ; বিচ্ছিন্ন দীঘিনালা-লংগদু সড়ক

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:২০:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • / 10

টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পর খাগড়াছড়িতে বন্যার পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেও বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ও কবাখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে রয়েছে। একই সঙ্গে টানা তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে দীঘিনালা-লংগদু সড়কে যান চলাচল।

বন্যার কারণে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক পরিবার এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। পাশাপাশি বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শুক্রবার সকাল থেকে কয়েক দফা হালকা বৃষ্টি হলেও ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে অধিকাংশ বসতবাড়ি, দোকানপাট ও গ্রামীণ সড়ক এখনো জলমগ্ন থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

মেরুং বাজারের ব্যবসায়ী হারুণ অর রশিদ জানান, বাজারের কয়েকটি উঁচু দোকান ছাড়া প্রায় সব দোকানেই পানি ঢুকেছে। আশপাশের গ্রামের অধিকাংশ বাড়িঘর এখনো পানির নিচে রয়েছে। দীর্ঘদিন পানিবন্দি থাকায় মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

বন্যার পানিতে আমন ধানসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া কয়েকদিন ধরে ঘরবন্দি মানুষ নিরাপদ খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যের সংকটে ভুগছেন।

এদিকে সাজেক সড়কের কয়েকটি স্থানে এখনো পানি জমে থাকলেও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রায় দেড় শতাধিক পর্যটককে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। শুক্রবার সকালেও সেনাবাহিনীর স্কর্টে সাজেক থেকে ৩১১ জন পর্যটক খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

সাজেক কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক জিয়াউল হক যুবরাজ জানান, যেসব স্থানে সড়ক এখনো পানির নিচে রয়েছে সেখানে বাঁশের ভেলা ও নৌকার মাধ্যমে পর্যটকদের পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে নতুন কোনো পর্যটককে সাজেকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, নতুন করে কোনো এলাকা প্লাবিত হয়নি এবং আগের দিনের তুলনায় পানি কিছুটা কমেছে। তবে দীঘিনালা-লংগদু সড়ক যোগাযোগ এখনো বিচ্ছিন্ন রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে খাগড়াছড়ি সদর ও মহালছড়ি উপজেলার নিচু এলাকার বন্যা পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবার রাতে খাগড়াছড়ি পৌরসভার সবুজবাগ ও শালবাগান এলাকায় কয়েকটি ছোট আকারের পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে ২২টি পরিবারের সদস্যকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে প্রশাসন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

খাগড়াছড়িতে কমছে বন্যার পানি, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ; বিচ্ছিন্ন দীঘিনালা-লংগদু সড়ক

আপডেট সময় : ০৬:২০:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পর খাগড়াছড়িতে বন্যার পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেও বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ও কবাখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে রয়েছে। একই সঙ্গে টানা তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে দীঘিনালা-লংগদু সড়কে যান চলাচল।

বন্যার কারণে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক পরিবার এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। পাশাপাশি বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শুক্রবার সকাল থেকে কয়েক দফা হালকা বৃষ্টি হলেও ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে অধিকাংশ বসতবাড়ি, দোকানপাট ও গ্রামীণ সড়ক এখনো জলমগ্ন থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

মেরুং বাজারের ব্যবসায়ী হারুণ অর রশিদ জানান, বাজারের কয়েকটি উঁচু দোকান ছাড়া প্রায় সব দোকানেই পানি ঢুকেছে। আশপাশের গ্রামের অধিকাংশ বাড়িঘর এখনো পানির নিচে রয়েছে। দীর্ঘদিন পানিবন্দি থাকায় মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

বন্যার পানিতে আমন ধানসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া কয়েকদিন ধরে ঘরবন্দি মানুষ নিরাপদ খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যের সংকটে ভুগছেন।

এদিকে সাজেক সড়কের কয়েকটি স্থানে এখনো পানি জমে থাকলেও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রায় দেড় শতাধিক পর্যটককে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। শুক্রবার সকালেও সেনাবাহিনীর স্কর্টে সাজেক থেকে ৩১১ জন পর্যটক খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

সাজেক কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক জিয়াউল হক যুবরাজ জানান, যেসব স্থানে সড়ক এখনো পানির নিচে রয়েছে সেখানে বাঁশের ভেলা ও নৌকার মাধ্যমে পর্যটকদের পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে নতুন কোনো পর্যটককে সাজেকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, নতুন করে কোনো এলাকা প্লাবিত হয়নি এবং আগের দিনের তুলনায় পানি কিছুটা কমেছে। তবে দীঘিনালা-লংগদু সড়ক যোগাযোগ এখনো বিচ্ছিন্ন রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে খাগড়াছড়ি সদর ও মহালছড়ি উপজেলার নিচু এলাকার বন্যা পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবার রাতে খাগড়াছড়ি পৌরসভার সবুজবাগ ও শালবাগান এলাকায় কয়েকটি ছোট আকারের পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে ২২টি পরিবারের সদস্যকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে প্রশাসন।