ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি: স্পিকার
- আপডেট সময় : ০৪:৩৩:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 2

ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশ সরকারের বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো নীতিগত অবস্থান জানানো হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদা দিয়ে একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলায় চার দিনের সফর শেষে ঢাকায় ফেরার পথে ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে বাংলাদেশের রিজার্ভেশন রয়েছে। বিশেষ করে পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত আশ্রয় দিয়ে সেখানে বসে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছে, যা বাংলাদেশের দৃষ্টিতে সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণ নয়।
তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। তবে ভারতও যে একইভাবে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী, তার স্পষ্ট কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ভারতীয় সম্পর্ক সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণ ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে চায়।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিষয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, তারেক রহমান ব্যাপক জনপ্রিয়তা নিয়ে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছেন। গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও স্তরে ব্যাপক ধস নেমেছে। হত্যা, গুম, খুন ও মানিলন্ডারিং অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে এবং দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্পিকার বলেন, এমন পরিস্থিতি থেকে দেশকে উন্নয়নের পথে ফিরিয়ে আনতে অনেক সময় প্রয়োজন। সাত মাস এ কাজের জন্য খুবই অল্প সময়।
সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। বিশেষ করে আইনকানুনে অনেক পরিবর্তন ও সংস্কার প্রয়োজন, যা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছুটা জটিলতা রয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলো এখনো এ বিষয়ে পূর্ণ ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, সরকারি দল বিএনপি ও বিরোধী দল সমঝোতায় পৌঁছাতে পারলে গত ১৬-১৭ বছরের দুঃশাসন ও বঞ্চনা থেকে জনগণকে মুক্ত করা সম্ভব হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংসদের আগামী অধিবেশনে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে দুই পক্ষ একমত হয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পরিবর্তন আনতে পারলে দীর্ঘদিনের দুঃশাসন থেকে জনগণ মুক্তি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিরোধী দলের লংমার্চ প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, দেশে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ প্রয়োজন। এ জন্য বিরোধী দলকেও ধৈর্য ধরতে হবে। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সুন্দর বোঝাপড়া থাকলে দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারবে।
এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার, ভোলা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীরসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
























