ঢাকা ০৫:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এখনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা পায়নি ইসি আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেন অভিনেতা জাহের আলভী ‘ছাগল কাণ্ডে’ আলোচিত সাদিক এগ্রোর চেয়ারম্যান ইমরান গ্রেফতার, হত্যাচেষ্টা মামলায় কারাগারে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌর বিদ্যুতে জোর, প্রধানমন্ত্রীর তিন নির্দেশনা গ্যাস বিলে অনিয়মের মাধ্যমে ৯৮২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, ইউনাইটেড গ্রুপের বিরুদ্ধে দুদকের প্রাথমিক সত্যতা ‘৫ বছর ক্ষমতায় থাকতে দেব না’—এমন ভাষা শেখ হাসিনাও ব্যবহার করতেন: মির্জা ফখরুল ৫ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে কত মুনাফা? জেনে নিন কারা কিনতে পারবেন ও কী কী সুবিধা মিলবে জ্বালানির দাম বাড়তেই যুক্তরাজ্যে পেট্রোলপাম্পে চুরি বেড়েছে, প্রতিদিন উধাও ৩ কোটি টাকার বেশি জ্বালানি জর্জিনা রদ্রিগেজের হিব্রু ক্যাপশন ঘিরে তুমুল আলোচনা, প্রশ্নের মুখে রোনালদো পরিবার রামগোপাল ভার্মা-ঊর্মিলা কি গোপনে বিয়ে করেছিলেন? প্রবীণ সাংবাদিকের বিস্ফোরক দাবি

আওয়ামী লীগের করা আইনেই দলটির বিচার সম্ভব: চিফ প্রসিকিউটর

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৫:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
  • / 14

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, আওয়ামী লীগের প্রণীত আইনেই দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার করার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯—এই দুটি আইনেই সংগঠনের অপরাধের বিচার করার বিধান রয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগ দল হিসেবে বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়ের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। এসব অভিযোগের বিচার করার জন্য বিদ্যমান আইনেই প্রয়োজনীয় বিধান রয়েছে।

তিনি জানান, ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন প্রণয়ন করে। পরে ২০১০ সালে ওই আইনের অধীনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়। এরপর ২০১৩ সালে আইনটিতে সংশোধন এনে ‘অর্গানাইজেশন’ শব্দটি সংযোজন করা হয়, যা সংগঠনের বিরুদ্ধে বিচারিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে।

আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রণয়ন করে। ওই আইনে ব্যক্তি ছাড়াও কোনো সংগঠন অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা ব্যবহার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করেছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। ফলে দল নিষিদ্ধকরণ ও সংগঠনের বিচারসংক্রান্ত আইনগত কাঠামো আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ই তৈরি হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২০০৯ সালের পর আওয়ামী লীগ সরকার দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, নাগরিক স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।

তিনি জানান, এসব অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা যাচাই করছে। পাশাপাশি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় সম্ভাব্য অপরাধের বিষয়েও পৃথক তদন্তের সুযোগ রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রাথমিক অভিযোগের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগের করা আইনেই দলটির বিচার সম্ভব: চিফ প্রসিকিউটর

আপডেট সময় : ০৩:৫৫:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, আওয়ামী লীগের প্রণীত আইনেই দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার করার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯—এই দুটি আইনেই সংগঠনের অপরাধের বিচার করার বিধান রয়েছে।

রোববার (৫ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগ দল হিসেবে বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়ের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। এসব অভিযোগের বিচার করার জন্য বিদ্যমান আইনেই প্রয়োজনীয় বিধান রয়েছে।

তিনি জানান, ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন প্রণয়ন করে। পরে ২০১০ সালে ওই আইনের অধীনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হয়। এরপর ২০১৩ সালে আইনটিতে সংশোধন এনে ‘অর্গানাইজেশন’ শব্দটি সংযোজন করা হয়, যা সংগঠনের বিরুদ্ধে বিচারিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে।

আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রণয়ন করে। ওই আইনে ব্যক্তি ছাড়াও কোনো সংগঠন অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা ব্যবহার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করেছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। ফলে দল নিষিদ্ধকরণ ও সংগঠনের বিচারসংক্রান্ত আইনগত কাঠামো আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ই তৈরি হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২০০৯ সালের পর আওয়ামী লীগ সরকার দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, নাগরিক স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।

তিনি জানান, এসব অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা যাচাই করছে। পাশাপাশি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় সম্ভাব্য অপরাধের বিষয়েও পৃথক তদন্তের সুযোগ রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রাথমিক অভিযোগের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।