কারিগরি শিক্ষায় ৮,৪৮৬ শিক্ষক পদ শূন্য, ২,২০৪ পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে
- আপডেট সময় : ০৪:০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
- / 18

দেশের কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনুমোদিত শিক্ষক পদের অর্ধেকেরও বেশি বর্তমানে শূন্য রয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক। তিনি জানান, মোট ১৫ হাজার ৮৪৪টি অনুমোদিত পদের মধ্যে বর্তমানে ৮ হাজার ৪৮৬টি পদ খালি রয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ২০৪টি পদে নিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) রিকুইজিশন পাঠানো হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই সংসদ সদস্যের পৃথক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষামন্ত্রী জানান, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৭ হাজার ৭৪ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। ফলে অনুমোদিত জনবলের তুলনায় ৮ হাজার ৪৮৬টি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ইনস্ট্রাক্টর (৯ম গ্রেড) এবং জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর (১০ম গ্রেড) পদে বিসিএস (ক্যাডার ও নন-ক্যাডার) পরীক্ষার মাধ্যমে পিএসসি নিয়োগ দিয়ে থাকে। বর্তমানে ২ হাজার ২০৪টি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য পিএসসিতে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ৪৫তম বিসিএসের মাধ্যমে ৯৭ জন ক্যাডার এবং ৩৪৯ জন নন-ক্যাডার শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলে তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে।
পদোন্নতির বিষয়ে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় পদোন্নতিযোগ্য ৪ হাজার ১৩১টি শিক্ষক ও কর্মচারীর পদে পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির সাধারণ ধারার শিক্ষার্থীদের জন্য ‘কারিগরি শিক্ষা’ নামে নতুন একটি পাঠ্যপুস্তক চালু করা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্র, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, কর্মসংস্থান এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা লাভ করবে।
এছাড়া একই শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে নতুন একটি পাঠ্যপুস্তকও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বইটি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা, আত্মপ্রকাশের সক্ষমতা এবং বহুমাত্রিক প্রতিভা বিকাশে সহায়ক হবে বলে জানান মন্ত্রী।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলার কারণে যাদের বেতন-ভাতার বকেয়া সৃষ্টি হয়েছে, তাদের আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে বিধি অনুযায়ী বকেয়া এমপিও পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সংসদে তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশে মোট ১৭৪টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৫৬টি সরকারি, ১১৬টি বেসরকারি এবং ২টি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়।
























