ঢাকা ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণে বড় উল্লম্ফন, ৩ মাসে বেড়েছে ৩১ হাজার কোটি টাকা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নরওয়ের জোরালো ভূমিকা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় আনার ওপর জোর, ঘোষণা ফ্যামিলি ও ফার্মার্স কার্ড কুরবানির চামড়া পাচারের শঙ্কা নেই: ট্যানারিতে রেকর্ড পরিমাণ চামড়া পৌঁছেছে দুপুরের মধ্যে ৮ জেলায় বজ্রবৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত ইরান যুদ্ধের প্রভাবে চাপে বাংলাদেশ অর্থনীতি, আইএমএফের কাছে নতুন সহায়তা চাইল সরকার ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হোক ঈদ: দেশবাসীসহ বিশ্ব মুসলিমকে ঈদ শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের ট্যাক্স ব্যবস্থায় বড় সংকট: ৭২ লাখ টিআইএন হোল্ডার রিটার্নই দেন না—ড. খান জহিরুল ইসলাম ঈদের আগে সুখবর: আইসিসি র‌্যাংকিংয়ে বড় লাফ বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের বাংলাদেশ ব্যাংকে ২৬ জন আইটি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আবেদন চলবে ২১ জুন পর্যন্ত

ইউরোপে সিফিলিস ও গনোরিয়ার ভয়াবহ উল্লম্ফন, সতর্কতা জারি স্বাস্থ্য সংস্থার

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
  • / 10
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইউরোপজুড়ে যৌনবাহিত রোগ সিফিলিস ও গনোরিয়ার সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (ECDC)। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দশকের মধ্যে এই দুই রোগের সংক্রমণ এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করা, সচেতনতার অভাব এবং নিরাপদ যৌন আচরণে অবহেলার কারণে এ ধরনের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইউরোপীয় দেশগুলোকে জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইউরোপে গনোরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজারের বেশি মানুষ, যা ২০১৫ সালের তুলনায় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে সিফিলিসে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৫ হাজারেরও বেশি মানুষ, যা এক দশক আগের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।

ECDC-এর সংক্রামক রোগ ইউনিটের প্রধান বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, এই রোগগুলো দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ্যত্বসহ গুরুতর শারীরিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসা ছাড়া সিফিলিস হৃদযন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জন্মগত সিফিলিসে আক্রান্ত নবজাতকের সংখ্যা সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা স্বাস্থ্য খাতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ইউরোপের মধ্যে স্পেনে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটিতে হাজার হাজার গনোরিয়া ও সিফিলিস রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমকামী পুরুষ ও পুরুষদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনকারী গোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি হলেও নারীদের মধ্যেও রোগটির বিস্তার বাড়ছে।

অন্যদিকে ক্ল্যামাইডিয়া এখনও ইউরোপে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া ব্যাকটেরিয়াজনিত যৌনরোগ হিসেবে রয়ে গেছে, যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর সংক্রমণ কিছুটা কমেছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গনোরিয়া ও সিফিলিস অনেক সময় শুরুতে উপসর্গহীন থাকে, ফলে রোগ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে এসব রোগ নিরাময় সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা নিরাপদ যৌন আচরণ, কনডম ব্যবহার এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন, যাতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ইউরোপে সিফিলিস ও গনোরিয়ার ভয়াবহ উল্লম্ফন, সতর্কতা জারি স্বাস্থ্য সংস্থার

আপডেট সময় : ০৪:০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

ইউরোপজুড়ে যৌনবাহিত রোগ সিফিলিস ও গনোরিয়ার সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (ECDC)। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দশকের মধ্যে এই দুই রোগের সংক্রমণ এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করা, সচেতনতার অভাব এবং নিরাপদ যৌন আচরণে অবহেলার কারণে এ ধরনের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইউরোপীয় দেশগুলোকে জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইউরোপে গনোরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজারের বেশি মানুষ, যা ২০১৫ সালের তুলনায় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে সিফিলিসে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৫ হাজারেরও বেশি মানুষ, যা এক দশক আগের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।

ECDC-এর সংক্রামক রোগ ইউনিটের প্রধান বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, এই রোগগুলো দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ্যত্বসহ গুরুতর শারীরিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসা ছাড়া সিফিলিস হৃদযন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জন্মগত সিফিলিসে আক্রান্ত নবজাতকের সংখ্যা সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা স্বাস্থ্য খাতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ইউরোপের মধ্যে স্পেনে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশটিতে হাজার হাজার গনোরিয়া ও সিফিলিস রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমকামী পুরুষ ও পুরুষদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনকারী গোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি হলেও নারীদের মধ্যেও রোগটির বিস্তার বাড়ছে।

অন্যদিকে ক্ল্যামাইডিয়া এখনও ইউরোপে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া ব্যাকটেরিয়াজনিত যৌনরোগ হিসেবে রয়ে গেছে, যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর সংক্রমণ কিছুটা কমেছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গনোরিয়া ও সিফিলিস অনেক সময় শুরুতে উপসর্গহীন থাকে, ফলে রোগ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে এসব রোগ নিরাময় সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা নিরাপদ যৌন আচরণ, কনডম ব্যবহার এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন, যাতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।