দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় আনার ওপর জোর, ঘোষণা ফ্যামিলি ও ফার্মার্স কার্ড
- আপডেট সময় : ০৭:৩৬:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
- / 106

আসন্ন জাতীয় বাজেটের মূল দর্শন হচ্ছে অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারায় যুক্ত করা—এমন মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাজধানীতে অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরাম (Economic Reporters Forum) আয়োজিত “বাজেট ২০২৬-২৭: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের বাজেট ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হয়েছে। তাই এবার বাজেটে দরিদ্র, নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী এবং গৃহিণীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীদের অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করা হবে, যেখানে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ থাকবে না।
একইভাবে কৃষকদের জন্য ফার্মার্স কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন করা হবে।
স্বাস্থ্য, সৃজনশীল অর্থনীতি ও পুঁজিবাজারে সংস্কার
স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষকে চিকিৎসা ব্যয়ে বড় চাপ বহন করতে হচ্ছে। এ কারণে ইউনিভার্সাল ও প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সম্প্রসারণে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও এনজিওদেরও যুক্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, কামার, কুমার, তাঁতি, ক্ষুদ্র কারুশিল্পী, থিয়েটার ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে “ক্রিয়েটিভ ইকোনমি” কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। দক্ষতা উন্নয়ন, ঋণ সহায়তা, ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং ও বাজারজাতকরণে তাদের সহায়তা দেওয়া হবে।
পুঁজিবাজার প্রসঙ্গে তিনি জানান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (Bangladesh Securities and Exchange Commission) পুনর্গঠন করা হচ্ছে এবং শিগগিরই নতুন কমিশন গঠন করা হবে, যা বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনবে।
তিনি বলেন, প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকার কাজ করছে এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।
ড্যাশবোর্ডে উন্নয়ন প্রকল্প নজরদারি
বাজেট বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ড্যাশবোর্ড ব্যবস্থা চালুর কথা জানান তিনি। এর মাধ্যমে প্রকল্প বিলম্ব ও দায়ী ব্যক্তিদের সহজে শনাক্ত করা যাবে।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব সংস্কার উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।
























