ঢাকা ০৬:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি, ব্যয় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশের মুরগির মাংসে অতিরিক্ত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল, আন্তর্জাতিক গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৩৬:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / 35

বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের পোলট্রি মুরগির মাংসে আন্তর্জাতিক নিরাপদ মানের তুলনায় অতিরিক্ত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে লন্ডনের রয়েল ভেটেরিনারি কলেজ (আরভিসি) পরিচালিত একটি গবেষণা। গবেষকদের মতে, মাংস উৎপাদনকারী প্রাণীতে নির্বিচারে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ ব্যবহারের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পোলট্রি নিউজ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় পরিচালিত এ গবেষণায় ২০২১-২২ সালে বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনাম থেকে সংগ্রহ করা মোট ৫৫৮টি মুরগির বুকের মাংসের নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণার নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে। সেখানে ৬৯ ধরনের ভেটেরিনারি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল শনাক্তের পরীক্ষা চালানো হয় এবং মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের খাদ্য নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়।

গবেষণায় ব্যবহৃত নমুনার একটি অংশ বিভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্র থেকে এবং বাকি অংশ বাজারজাতের উপযোগী পোলট্রি ফার্ম থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল।

পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, কয়েকটি নমুনায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের মাত্রা নিরাপদ সীমা অতিক্রম করেছে। বিক্রয়কেন্দ্র থেকে সংগৃহীত নমুনার ৩ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে আন্তর্জাতিক নিরাপদ মানের চেয়ে বেশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, ২০২১-২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে একই ধরনের পরীক্ষায় এই হার ছিল মাত্র ০.০৫ থেকে ০.০৯ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

গবেষকদের ধারণা, উন্নয়নশীল দেশগুলোর কিছু ক্ষেত্রে জবাইয়ের ঠিক আগ মুহূর্ত পর্যন্তও পোলট্রিতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ প্রয়োগ করা হতে পারে। এতে ওষুধের অবশিষ্টাংশ মাংসে থেকে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ।

গবেষণার অন্যতম গবেষক অধ্যাপক পেলিগ্যান্ড বলেন, এই গবেষণার মাধ্যমে ভেটেরিনারি খাতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অবশিষ্টাংশ নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়ক হবে।

উল্লেখ্য, ওয়ান হেলথ পোলট্রি হাব প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এ গবেষণায় অর্থায়ন করেছে ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন (UKRI) গ্লোবাল চ্যালেঞ্জেস রিসার্চ ফান্ড।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশের মুরগির মাংসে অতিরিক্ত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল, আন্তর্জাতিক গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য

আপডেট সময় : ০২:৩৬:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের পোলট্রি মুরগির মাংসে আন্তর্জাতিক নিরাপদ মানের তুলনায় অতিরিক্ত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে লন্ডনের রয়েল ভেটেরিনারি কলেজ (আরভিসি) পরিচালিত একটি গবেষণা। গবেষকদের মতে, মাংস উৎপাদনকারী প্রাণীতে নির্বিচারে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ ব্যবহারের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পোলট্রি নিউজ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় পরিচালিত এ গবেষণায় ২০২১-২২ সালে বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনাম থেকে সংগ্রহ করা মোট ৫৫৮টি মুরগির বুকের মাংসের নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণার নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে। সেখানে ৬৯ ধরনের ভেটেরিনারি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল শনাক্তের পরীক্ষা চালানো হয় এবং মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের খাদ্য নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়।

গবেষণায় ব্যবহৃত নমুনার একটি অংশ বিভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্র থেকে এবং বাকি অংশ বাজারজাতের উপযোগী পোলট্রি ফার্ম থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল।

পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, কয়েকটি নমুনায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের মাত্রা নিরাপদ সীমা অতিক্রম করেছে। বিক্রয়কেন্দ্র থেকে সংগৃহীত নমুনার ৩ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে আন্তর্জাতিক নিরাপদ মানের চেয়ে বেশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, ২০২১-২২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে একই ধরনের পরীক্ষায় এই হার ছিল মাত্র ০.০৫ থেকে ০.০৯ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

গবেষকদের ধারণা, উন্নয়নশীল দেশগুলোর কিছু ক্ষেত্রে জবাইয়ের ঠিক আগ মুহূর্ত পর্যন্তও পোলট্রিতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ প্রয়োগ করা হতে পারে। এতে ওষুধের অবশিষ্টাংশ মাংসে থেকে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ।

গবেষণার অন্যতম গবেষক অধ্যাপক পেলিগ্যান্ড বলেন, এই গবেষণার মাধ্যমে ভেটেরিনারি খাতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অবশিষ্টাংশ নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়ক হবে।

উল্লেখ্য, ওয়ান হেলথ পোলট্রি হাব প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এ গবেষণায় অর্থায়ন করেছে ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন (UKRI) গ্লোবাল চ্যালেঞ্জেস রিসার্চ ফান্ড।