ঢাকা ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি, ব্যয় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে চাপে বাংলাদেশ অর্থনীতি, আইএমএফের কাছে নতুন সহায়তা চাইল সরকার

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:২৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬
  • / 130

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। জ্বালানি সংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং রপ্তানি খাতে অনিশ্চয়তার মধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (International Monetary Fund) কাছে নতুন সহায়তা কর্মসূচির আবেদন করেছে বাংলাদেশ সরকার।

মঙ্গলবার আইএমএফের বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনা ও নীতিগত অগ্রাধিকার নিয়ে আইএমএফের কর্মকর্তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের টেকসই সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক সহনশীলতা বাড়ানো এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করতে আইএমএফ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

যদিও নতুন সহায়তার পরিমাণ এখনো নির্ধারণ হয়নি, তবে গত মার্চে সরকার জানিয়েছিল, ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার কাছ থেকে প্রায় ২০০ কোটি ডলার ঋণ চাওয়া হচ্ছে।

জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০০ ডলারে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধের আগে ছিল প্রায় ৬৬ ডলার।

বিশ্বের বড় অংশের তেল ও গ্যাস সরবরাহকারী হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে বাংলাদেশে, কারণ দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ জ্বালানি আমদানিনির্ভর এবং এর বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।

সংকট মোকাবিলায় সরকার কয়েকটি সার কারখানার উৎপাদন সাময়িক বন্ধ রেখেছে। পাশাপাশি গত ১৯ এপ্রিল জ্বালানির দাম ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এতে পেট্রোল, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

পোশাক শিল্পেও চাপ

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পও এই সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কাঁচামাল আমদানির বড় অংশ চীন থেকে এলেও তা মধ্যপ্রাচ্য ও লোহিত সাগর হয়ে বাংলাদেশে আসে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সমুদ্রপথে পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় আমদানি ব্যয় বেড়েছে।

স্কয়ার ডেনিমের পরিচালক সাইদ আহমেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী মৌসুমে কাজের অর্ডার ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

যুদ্ধ শুরুর পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বড় ব্র্যান্ডগুলোর জন্য তৈরি পোশাকের চালানও আটকে যায়।

বাড়ছে কাঁচামালের দাম ও বিদেশি ঋণ

সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামালের দামও বেড়েছে। বিশেষ করে রেজিনের দাম প্রতি টনে প্রায় ৯০০ ডলার থেকে বেড়ে ১,৫০০ থেকে ১,৬০০ ডলারে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে দেশের বিদেশি ঋণের পরিমাণও বাড়ছে। গত ডিসেম্বর শেষে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,১৩৫ কোটি ডলারে, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় বেশি।

বাংলাদেশ বর্তমানে আইএমএফের ৫৭০ কোটি ডলারের চলমান কর্মসূচির আওতায় রয়েছে, যা ২০২৩ সালে শুরু হয়েছিল এবং চার বছর মেয়াদি।

এদিকে গত সপ্তাহে বিশ্বব্যাংকও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ৩৫ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে চাপে বাংলাদেশ অর্থনীতি, আইএমএফের কাছে নতুন সহায়তা চাইল সরকার

আপডেট সময় : ০২:২৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। জ্বালানি সংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং রপ্তানি খাতে অনিশ্চয়তার মধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (International Monetary Fund) কাছে নতুন সহায়তা কর্মসূচির আবেদন করেছে বাংলাদেশ সরকার।

মঙ্গলবার আইএমএফের বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনা ও নীতিগত অগ্রাধিকার নিয়ে আইএমএফের কর্মকর্তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের টেকসই সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক সহনশীলতা বাড়ানো এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করতে আইএমএফ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

যদিও নতুন সহায়তার পরিমাণ এখনো নির্ধারণ হয়নি, তবে গত মার্চে সরকার জানিয়েছিল, ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার কাছ থেকে প্রায় ২০০ কোটি ডলার ঋণ চাওয়া হচ্ছে।

জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০০ ডলারে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধের আগে ছিল প্রায় ৬৬ ডলার।

বিশ্বের বড় অংশের তেল ও গ্যাস সরবরাহকারী হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে বাংলাদেশে, কারণ দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ জ্বালানি আমদানিনির্ভর এবং এর বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে।

সংকট মোকাবিলায় সরকার কয়েকটি সার কারখানার উৎপাদন সাময়িক বন্ধ রেখেছে। পাশাপাশি গত ১৯ এপ্রিল জ্বালানির দাম ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এতে পেট্রোল, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

পোশাক শিল্পেও চাপ

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পও এই সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কাঁচামাল আমদানির বড় অংশ চীন থেকে এলেও তা মধ্যপ্রাচ্য ও লোহিত সাগর হয়ে বাংলাদেশে আসে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সমুদ্রপথে পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় আমদানি ব্যয় বেড়েছে।

স্কয়ার ডেনিমের পরিচালক সাইদ আহমেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী মৌসুমে কাজের অর্ডার ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

যুদ্ধ শুরুর পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বড় ব্র্যান্ডগুলোর জন্য তৈরি পোশাকের চালানও আটকে যায়।

বাড়ছে কাঁচামালের দাম ও বিদেশি ঋণ

সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামালের দামও বেড়েছে। বিশেষ করে রেজিনের দাম প্রতি টনে প্রায় ৯০০ ডলার থেকে বেড়ে ১,৫০০ থেকে ১,৬০০ ডলারে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে দেশের বিদেশি ঋণের পরিমাণও বাড়ছে। গত ডিসেম্বর শেষে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,১৩৫ কোটি ডলারে, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় বেশি।

বাংলাদেশ বর্তমানে আইএমএফের ৫৭০ কোটি ডলারের চলমান কর্মসূচির আওতায় রয়েছে, যা ২০২৩ সালে শুরু হয়েছিল এবং চার বছর মেয়াদি।

এদিকে গত সপ্তাহে বিশ্বব্যাংকও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ৩৫ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে।