ঢাকা ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণে বড় উল্লম্ফন, ৩ মাসে বেড়েছে ৩১ হাজার কোটি টাকা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নরওয়ের জোরালো ভূমিকা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় আনার ওপর জোর, ঘোষণা ফ্যামিলি ও ফার্মার্স কার্ড কুরবানির চামড়া পাচারের শঙ্কা নেই: ট্যানারিতে রেকর্ড পরিমাণ চামড়া পৌঁছেছে দুপুরের মধ্যে ৮ জেলায় বজ্রবৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত ইরান যুদ্ধের প্রভাবে চাপে বাংলাদেশ অর্থনীতি, আইএমএফের কাছে নতুন সহায়তা চাইল সরকার ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হোক ঈদ: দেশবাসীসহ বিশ্ব মুসলিমকে ঈদ শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের ট্যাক্স ব্যবস্থায় বড় সংকট: ৭২ লাখ টিআইএন হোল্ডার রিটার্নই দেন না—ড. খান জহিরুল ইসলাম ঈদের আগে সুখবর: আইসিসি র‌্যাংকিংয়ে বড় লাফ বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের বাংলাদেশ ব্যাংকে ২৬ জন আইটি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আবেদন চলবে ২১ জুন পর্যন্ত

বাংলাদেশের ট্যাক্স ব্যবস্থায় বড় সংকট: ৭২ লাখ টিআইএন হোল্ডার রিটার্নই দেন না—ড. খান জহিরুল ইসলাম

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৯:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
  • / 11
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ ড. খান জহিরুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের কর ব্যবস্থা গভীর সংকটে রয়েছে। দেশের টিআইএন হোল্ডারদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষ কর রিটার্নই দাখিল করেন না, যা রাজস্ব আহরণে বড় বাধা তৈরি করছে।

সম্প্রতি একটি উচ্চপর্যায়ের সেমিনারে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক দুর্বলতা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যক্রম, এনবিআর সংস্কার এবং বিভিন্ন দুর্নীতির প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।

ড. খান জহিরুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশে মোট টিআইএন হোল্ডার প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ হলেও এর মধ্যে প্রায় ৭২ লাখ মানুষ কোনো আয়কর রিটার্নই জমা দেন না। পাশাপাশি আরও প্রায় ৪৬ লাখ মানুষ রিটার্ন দাখিল করলেও কর পরিশোধ করেন না।

তিনি আরও বলেন, যারা কর দেন তাদের বড় অংশই ন্যূনতম আয়সীমার নিচে থাকায় কার্যত করযোগ্য নয়। ফলে বাস্তবে মাত্র ১৫ থেকে ১৬ লাখ মানুষই করযোগ্য আয়ের ভিত্তিতে কর প্রদান করছেন, যা মোট টিআইএনধারীর মাত্র প্রায় ৪ শতাংশ।

কর ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ট্যাক্স-টু-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৬.৬ শতাংশ, যা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম নিম্ন। তুলনামূলকভাবে ভারতের ক্ষেত্রে এটি প্রায় ১৮ শতাংশ, ভিয়েতনামে প্রায় ১৯ শতাংশ এবং উন্নত দেশগুলোতে ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত।

তিনি বলেন, রাজস্ব আয় বাড়াতে হলে করদাতার সংখ্যা বাড়িয়ে ট্যাক্স বেইস সম্প্রসারণ করা জরুরি। তার মতে, করযোগ্য জনগোষ্ঠীর অংশ বর্তমানে ৪ শতাংশ থেকে কমপক্ষে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন।

এনবিআর সংস্কার প্রসঙ্গে ড. খান জহিরুল ইসলাম বলেন, রাজস্ব প্রশাসনে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, এনবিআর সংস্কারের কথা উঠলেই অনেক সময় প্রতিরোধ তৈরি হয় এবং দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে জটিলতা সৃষ্টি হয়।

তিনি আরও দাবি করেন, গত বছর এনবিআরের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৪৬ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে মামলা হয়েছে, যেখানে কর ফাঁকির জন্য নথিপত্র জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে।

কর আদায় ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে হলে উৎসে কর কাটা এবং কর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাংলাদেশের ট্যাক্স ব্যবস্থায় বড় সংকট: ৭২ লাখ টিআইএন হোল্ডার রিটার্নই দেন না—ড. খান জহিরুল ইসলাম

আপডেট সময় : ০৫:৫৯:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ ড. খান জহিরুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের কর ব্যবস্থা গভীর সংকটে রয়েছে। দেশের টিআইএন হোল্ডারদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষ কর রিটার্নই দাখিল করেন না, যা রাজস্ব আহরণে বড় বাধা তৈরি করছে।

সম্প্রতি একটি উচ্চপর্যায়ের সেমিনারে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক দুর্বলতা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যক্রম, এনবিআর সংস্কার এবং বিভিন্ন দুর্নীতির প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।

ড. খান জহিরুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশে মোট টিআইএন হোল্ডার প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ হলেও এর মধ্যে প্রায় ৭২ লাখ মানুষ কোনো আয়কর রিটার্নই জমা দেন না। পাশাপাশি আরও প্রায় ৪৬ লাখ মানুষ রিটার্ন দাখিল করলেও কর পরিশোধ করেন না।

তিনি আরও বলেন, যারা কর দেন তাদের বড় অংশই ন্যূনতম আয়সীমার নিচে থাকায় কার্যত করযোগ্য নয়। ফলে বাস্তবে মাত্র ১৫ থেকে ১৬ লাখ মানুষই করযোগ্য আয়ের ভিত্তিতে কর প্রদান করছেন, যা মোট টিআইএনধারীর মাত্র প্রায় ৪ শতাংশ।

কর ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ট্যাক্স-টু-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৬.৬ শতাংশ, যা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম নিম্ন। তুলনামূলকভাবে ভারতের ক্ষেত্রে এটি প্রায় ১৮ শতাংশ, ভিয়েতনামে প্রায় ১৯ শতাংশ এবং উন্নত দেশগুলোতে ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত।

তিনি বলেন, রাজস্ব আয় বাড়াতে হলে করদাতার সংখ্যা বাড়িয়ে ট্যাক্স বেইস সম্প্রসারণ করা জরুরি। তার মতে, করযোগ্য জনগোষ্ঠীর অংশ বর্তমানে ৪ শতাংশ থেকে কমপক্ষে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন।

এনবিআর সংস্কার প্রসঙ্গে ড. খান জহিরুল ইসলাম বলেন, রাজস্ব প্রশাসনে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, এনবিআর সংস্কারের কথা উঠলেই অনেক সময় প্রতিরোধ তৈরি হয় এবং দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে জটিলতা সৃষ্টি হয়।

তিনি আরও দাবি করেন, গত বছর এনবিআরের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৪৬ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে মামলা হয়েছে, যেখানে কর ফাঁকির জন্য নথিপত্র জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে।

কর আদায় ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে হলে উৎসে কর কাটা এবং কর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।