ঢাকা ০৪:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
ডিসেম্বরের মধ্যেই পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার আশ্বাস সরকারের হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ পারাপারে সহযোগিতার আশ্বাস ইরানের সাংবাদিকদের গ্রেফতারে আদালতের পূর্বানুমতির বিধান রাখার আলোচনা, সংশোধন হচ্ছে সাইবার সুরক্ষা আইন দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর আইনি পরিস্থিতিতে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ করতে পারে পুলিশ: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ৭ নভেম্বর ছয় ঘণ্টা টোল ফ্রি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে: তারেক রহমান চার মাসে রেমিট্যান্সে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, দেশে এলো ১১৬৮ কোটি ডলার যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই পর্তুগাল অনূর্ধ্ব-১৭ দলে প্রথমবার ডাক পেলেন রোনালদো-পুত্র

হালাল সনদ নিতে ঘুষের অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের ক্ষোভে উঠে এলো দুর্নীতি ও অতিরিক্ত ব্যয়ের চিত্র

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:২৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • / 89

হালাল পণ্যের সনদ (সার্টিফিকেশন) পেতে ঘুষ, অতিরিক্ত অর্থ দাবি এবং নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতার অভিযোগ তুলেছেন দেশের ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, কখনও পরিদর্শনের জন্য গাড়ি সরবরাহ করতে বলা হয়, আবার কখনও উৎপাদন বা রপ্তানিকৃত পণ্যের পরিমাণের ভিত্তিতে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে বিদেশে রপ্তানির জন্য ভারত, থাইল্যান্ড বা সিঙ্গাপুর থেকেও নতুন করে হালাল সনদ নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) আয়োজিত ‘হালাল পণ্যের রপ্তানি সম্ভাবনা’ বিষয়ক এক কর্মশালায় এসব অভিযোগ তুলে ধরেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ।

স্বাগত বক্তব্যে আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে হালাল পণ্য রপ্তানির পরিমাণ মাত্র ৮৫ কোটি ডলার। অথচ ২০২৫ সালে বৈশ্বিক হালাল পণ্যের বাজারের আকার ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার এবং ২০৩৪ সালে তা বেড়ে ৯ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিবছর এ খাতের প্রবৃদ্ধি ১২ শতাংশেরও বেশি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বিএসটিআই পৃথকভাবে হালাল সনদ প্রদান করছে। ফলে একই পণ্যের জন্য একাধিক প্রক্রিয়ার কারণে ব্যবসায়ীদের ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। মালয়েশিয়ার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, হালাল অর্থনীতিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে দেশটি বৈশ্বিক বাজারে উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছে।

ইজি প্রসেস ফুডের চেয়ারম্যান ও বিসিআই পরিচালক জিয়া হায়দার মিঠু অভিযোগ করেন, হালাল সনদের জন্য আবেদন করলে পরিদর্শনে আসা কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করতে বলা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়, যা ব্যবসার ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে সনদ নেওয়ার পর উৎপাদনের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত ফি দিতে হয়। তিনি হালাল সনদ প্রদানের প্রক্রিয়াকে সহজ ও বিনামূল্যে করার দাবি জানান।

বোম্বে সুইটসের মহাব্যবস্থাপক খুরশীদ আহমাদ ফরহাদ বলেন, সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশ বাংলাদেশের হালাল সনদ গ্রহণ করে না। ফলে রপ্তানিকারকদের ভারত, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশ থেকে নতুন করে সনদ সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যা সময় ও ব্যয় দুটোই বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কর্মশালায় ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব একটি বড় সমস্যা। এ সমস্যা দূর করে হালাল পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

এ সময় এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের মহাপরিচালক মোহা. আমিনুল ইসলাম, অ্যাসোসিয়েশন অব টেস্টিং ল্যাব বাংলাদেশের সভাপতি আহাশান হাবিবসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

হালাল সনদ নিতে ঘুষের অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের ক্ষোভে উঠে এলো দুর্নীতি ও অতিরিক্ত ব্যয়ের চিত্র

আপডেট সময় : ০৫:২৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

হালাল পণ্যের সনদ (সার্টিফিকেশন) পেতে ঘুষ, অতিরিক্ত অর্থ দাবি এবং নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতার অভিযোগ তুলেছেন দেশের ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, কখনও পরিদর্শনের জন্য গাড়ি সরবরাহ করতে বলা হয়, আবার কখনও উৎপাদন বা রপ্তানিকৃত পণ্যের পরিমাণের ভিত্তিতে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে বিদেশে রপ্তানির জন্য ভারত, থাইল্যান্ড বা সিঙ্গাপুর থেকেও নতুন করে হালাল সনদ নিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) আয়োজিত ‘হালাল পণ্যের রপ্তানি সম্ভাবনা’ বিষয়ক এক কর্মশালায় এসব অভিযোগ তুলে ধরেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ।

স্বাগত বক্তব্যে আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে হালাল পণ্য রপ্তানির পরিমাণ মাত্র ৮৫ কোটি ডলার। অথচ ২০২৫ সালে বৈশ্বিক হালাল পণ্যের বাজারের আকার ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার এবং ২০৩৪ সালে তা বেড়ে ৯ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিবছর এ খাতের প্রবৃদ্ধি ১২ শতাংশেরও বেশি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বিএসটিআই পৃথকভাবে হালাল সনদ প্রদান করছে। ফলে একই পণ্যের জন্য একাধিক প্রক্রিয়ার কারণে ব্যবসায়ীদের ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। মালয়েশিয়ার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, হালাল অর্থনীতিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে দেশটি বৈশ্বিক বাজারে উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছে।

ইজি প্রসেস ফুডের চেয়ারম্যান ও বিসিআই পরিচালক জিয়া হায়দার মিঠু অভিযোগ করেন, হালাল সনদের জন্য আবেদন করলে পরিদর্শনে আসা কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করতে বলা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়, যা ব্যবসার ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে সনদ নেওয়ার পর উৎপাদনের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত ফি দিতে হয়। তিনি হালাল সনদ প্রদানের প্রক্রিয়াকে সহজ ও বিনামূল্যে করার দাবি জানান।

বোম্বে সুইটসের মহাব্যবস্থাপক খুরশীদ আহমাদ ফরহাদ বলেন, সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশ বাংলাদেশের হালাল সনদ গ্রহণ করে না। ফলে রপ্তানিকারকদের ভারত, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশ থেকে নতুন করে সনদ সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যা সময় ও ব্যয় দুটোই বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কর্মশালায় ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব একটি বড় সমস্যা। এ সমস্যা দূর করে হালাল পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

এ সময় এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের মহাপরিচালক মোহা. আমিনুল ইসলাম, অ্যাসোসিয়েশন অব টেস্টিং ল্যাব বাংলাদেশের সভাপতি আহাশান হাবিবসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।