আইনি পরিস্থিতিতে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ করতে পারে পুলিশ: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
- আপডেট সময় : ০৫:৪৩:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- / 2

পুলিশের আইনি ক্ষমতার মধ্যে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কাউকে হত্যা করার মতো প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের অধিকার রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে এ ধরনের বলপ্রয়োগ অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়া মেনে এবং পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন উপদেষ্টা। এ সময় তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, পুলিশের বলপ্রয়োগের আইনি অধিকার রয়েছে। নির্দিষ্ট আইনি পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগও করতে পারে পুলিশ। তবে তা অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকে এবং আনুপাতিক বলপ্রয়োগের মাধ্যমে হতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পুলিশ শেখ হাসিনার আমলের পুলিশের মতো হবে না বলে তিনি আগে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছিলেন। একজন নাগরিক এবং সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি হিসেবে তিনি মনে করেন, কোনো অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা সরকার কীভাবে মোকাবিলা করবে, সেটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলপ্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, কিছু ঘটনায় ভুলভ্রান্তি বা অসংগতির সম্ভাবনা থাকতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে কোনো নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় কাজ করার কারণে পুরোনো চর্চা নতুন ব্যবস্থাতেও থেকে যেতে পারে। এ ধরনের পরিবর্তনের জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পুলিশ ও সেনাবাহিনীর দায়িত্বের পার্থক্য তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, সেনাবাহিনী যখন শত্রুপক্ষের সঙ্গে মোকাবিলা করে, তখন তাদের লক্ষ্য থাকে শত্রুকে প্রতিহত করা। কিন্তু পুলিশ যখন সাধারণ মানুষের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে, তখন তারা নিজেদের দেশের জনগণের মুখোমুখি হয়। তাই অস্ত্র তাক করা কিংবা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে পুলিশকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের কাছে প্রাণঘাতী অস্ত্র থাকলেও কোথায় এবং কীভাবে তা ব্যবহার করলে কম ক্ষয়ক্ষতির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, সেই প্রশিক্ষণ ও চর্চা গড়ে তুলতে হবে। বর্তমান সরকারের অধীনে পুলিশ এ ধরনের চর্চা করবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। এ জন্য আরও কিছুটা সময় দেওয়ার আহ্বান জানান উপদেষ্টা।
প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের আইনি সীমা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কাউকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে গুলি চালানোর বিধান থাকতে পারে। তবে সেটি কেবল আইন নির্ধারিত পরিস্থিতিতেই প্রয়োগযোগ্য।
এ প্রসঙ্গে জুলাই আন্দোলনে আবু সাঈদের মৃত্যুর উদাহরণ টানেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, আবু সাঈদ দুই হাত ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি পুলিশের জন্য কোনো হুমকি তৈরি করেছিলেন কি না, তার আশপাশে অন্য আন্দোলনকারী ছিলেন কি না কিংবা কেউ পুলিশকে ইট-পাটকেল ছুড়েছিলেন কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর গুরুত্বপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে কেন গুলি চালানো হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
পুলিশের কাছে প্রাণঘাতী অস্ত্র থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, পুলিশের কাছে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত অস্ত্র থাকা প্রয়োজন নেই। তবে রিভলভারের মতো অস্ত্রও প্রাণঘাতী। বিশেষ কোনো পরিস্থিতিতে পুলিশকে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করতে হতে পারে। কিন্তু সেই ব্যবহার অবশ্যই আইনি নিয়ম মেনে এবং পরিস্থিতির যথার্থতা বিবেচনা করে হতে হবে।
শেখ হাসিনা সরকারের সময় পুলিশের বলপ্রয়োগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তখন অনেক ক্ষেত্রে সামান্য বলপ্রয়োগ, লাঠিচার্জ কিংবা কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব ছিল। কিন্তু কোথাও কোথাও শর্টগান ব্যবহারের পরিবর্তে প্রাণঘাতী অস্ত্রের গুলিতে মানুষ মারা হয়েছে। এ ধরনের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে বলপ্রয়োগ ও মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, এসব বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য করা উচিত নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের বক্তব্য ও অভিযোগ ছড়াচ্ছে। তবে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে নিরপেক্ষ ও প্রকৃত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা ও বক্তব্যের প্রতি অতিরিক্ত গুরুত্ব না দেওয়ার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে শ্রমিকদের জীবন কঠিন হয়ে উঠেছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।
তিনি আরও বলেন, কারিগরি দিক বিবেচনায় গার্মেন্টস খাতের মজুরি কমিশন গঠনের বিষয়টি নিয়মিত সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। সাধারণত পাঁচ বছর পরপর মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়। ২০২৩ সালে সর্বশেষ মজুরি সংশোধন হয়েছিল। সে হিসাবে ২০২৬ সালে নতুন মজুরি কমিশন গঠনের কথা ছিল না।
এর আগে ২০০৬, ২০১০, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩ সালে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। এরপর ২০২৬ সালে আবারও মজুরি কমিশন গঠন করা হয়েছে।




















