ঢাকা ০৫:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
ই-রিকশা চলাচলে নতুন বিধিমালা: নিবন্ধন বাধ্যতামূলক, সর্বোচ্চ গতি ২৫ কিমি পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে ৬ সদস্যের নতুন বোর্ড গঠন এইচএসসি ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু, ফি ১৫০ টাকা পোশাক শ্রমিকদের দাবি ঘিরে রোববার গঠন হচ্ছে নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের লাশ উদ্ধার: বাবার হত্যা মামলা, বন্ধুর ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন এইচএসসি পাস করা সব শিক্ষার্থীই উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ পাবেন: শিক্ষামন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি, ব্যয় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ই-রিকশা চলাচলে নতুন বিধিমালা: নিবন্ধন বাধ্যতামূলক, সর্বোচ্চ গতি ২৫ কিমি

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:১৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • / 1

সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন ‘ই-রিকশা চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে সরকার। রোববার (১ নভেম্বর) সকালে সচিবালয়ে এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে রাস্তায় চলাচলকারী ই-রিকশাগুলোর কাঠামো বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত নকশা অনুযায়ী সংশোধন করে অনুমোদন নিতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষরসহ ফিটনেস সার্টিফিকেট গ্রহণ বাধ্যতামূলক। নতুন ই-রিকশার নিবন্ধন ও নবায়নের ক্ষেত্রেও বুয়েটের প্রযুক্তিগত মানদণ্ড অনুসরণ এবং ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষর নিতে হবে। নিবন্ধন বা নবায়ন ছাড়া কোনো ই-রিকশা সড়কে চলাচল করতে পারবে না।

মীর শাহে আলম বলেন, একজন ব্যক্তি নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন মিলিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার মালিক হতে পারবেন। ই-রিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ জোনভিত্তিক এলাকা, রুট এবং ই-রিকশার নির্দিষ্ট রং নির্ধারণ করবে। এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশনে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালানো যাবে না। পাশাপাশি প্রতিটি ই-রিকশায় কিউআর কোডযুক্ত ইউনিক নম্বর প্লেট প্রদর্শন করতে হবে।

যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় সর্বোচ্চ গতি থাকবে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার। চালক ছাড়া ই-রিকশার আকার ও ধারণক্ষমতা অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুই বা চারজন যাত্রী পরিবহন করতে পারবেন।

বিধিমালা অনুযায়ী, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার টাকা। এক বছর পর ফিটনেস পরীক্ষার মাধ্যমে ৪ হাজার টাকা দিয়ে নিবন্ধন নবায়ন করতে হবে। অন্যদিকে, চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং এক বছর পর ফিটনেসসহ নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া কিউআর কোডসহ ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদর্শনের জন্য সিটি করপোরেশন ১ হাজার টাকা ফি নিতে পারবে। প্রতিটি ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ বছর। এ সময়সীমা শেষ হলে সংশ্লিষ্ট ই-রিকশার নিবন্ধন বাতিল করা হবে।

চার্জিং স্টেশন ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, পর্যাপ্ত চার্জিং স্টেশনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ও নেট মিটারিং ব্যবস্থা ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। অবৈধ উপায়ে অথবা গ্রিডের বিদ্যুৎ চুরি করে ব্যাটারি চার্জ করলে প্রচলিত আইনে কঠোর শাস্তির বিধান থাকবে। পাশাপাশি পুরোনো ও অকার্যকর ব্যাটারি যত্রতত্র ফেলে না রেখে পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় পাঠানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, অবৈধ ই-রিকশার চলাচল নিরুৎসাহিত করা হবে। আপাতত বিদ্যমান ব্যবস্থায় এগুলো চলাচল করলেও পর্যায়ক্রমে অনিবন্ধিত ই-রিকশা বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে হঠাৎ করে সব ই-রিকশা বন্ধ করা হবে না।

এ সময় এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ই-রিকশা চলাচলে নতুন বিধিমালা: নিবন্ধন বাধ্যতামূলক, সর্বোচ্চ গতি ২৫ কিমি

আপডেট সময় : ০৩:১৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন ‘ই-রিকশা চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে সরকার। রোববার (১ নভেম্বর) সকালে সচিবালয়ে এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে রাস্তায় চলাচলকারী ই-রিকশাগুলোর কাঠামো বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত নকশা অনুযায়ী সংশোধন করে অনুমোদন নিতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষরসহ ফিটনেস সার্টিফিকেট গ্রহণ বাধ্যতামূলক। নতুন ই-রিকশার নিবন্ধন ও নবায়নের ক্ষেত্রেও বুয়েটের প্রযুক্তিগত মানদণ্ড অনুসরণ এবং ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষর নিতে হবে। নিবন্ধন বা নবায়ন ছাড়া কোনো ই-রিকশা সড়কে চলাচল করতে পারবে না।

মীর শাহে আলম বলেন, একজন ব্যক্তি নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন মিলিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার মালিক হতে পারবেন। ই-রিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ জোনভিত্তিক এলাকা, রুট এবং ই-রিকশার নির্দিষ্ট রং নির্ধারণ করবে। এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশনে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালানো যাবে না। পাশাপাশি প্রতিটি ই-রিকশায় কিউআর কোডযুক্ত ইউনিক নম্বর প্লেট প্রদর্শন করতে হবে।

যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় সর্বোচ্চ গতি থাকবে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার। চালক ছাড়া ই-রিকশার আকার ও ধারণক্ষমতা অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুই বা চারজন যাত্রী পরিবহন করতে পারবেন।

বিধিমালা অনুযায়ী, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার টাকা। এক বছর পর ফিটনেস পরীক্ষার মাধ্যমে ৪ হাজার টাকা দিয়ে নিবন্ধন নবায়ন করতে হবে। অন্যদিকে, চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং এক বছর পর ফিটনেসসহ নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া কিউআর কোডসহ ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদর্শনের জন্য সিটি করপোরেশন ১ হাজার টাকা ফি নিতে পারবে। প্রতিটি ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ বছর। এ সময়সীমা শেষ হলে সংশ্লিষ্ট ই-রিকশার নিবন্ধন বাতিল করা হবে।

চার্জিং স্টেশন ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, পর্যাপ্ত চার্জিং স্টেশনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ও নেট মিটারিং ব্যবস্থা ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। অবৈধ উপায়ে অথবা গ্রিডের বিদ্যুৎ চুরি করে ব্যাটারি চার্জ করলে প্রচলিত আইনে কঠোর শাস্তির বিধান থাকবে। পাশাপাশি পুরোনো ও অকার্যকর ব্যাটারি যত্রতত্র ফেলে না রেখে পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় পাঠানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, অবৈধ ই-রিকশার চলাচল নিরুৎসাহিত করা হবে। আপাতত বিদ্যমান ব্যবস্থায় এগুলো চলাচল করলেও পর্যায়ক্রমে অনিবন্ধিত ই-রিকশা বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে হঠাৎ করে সব ই-রিকশা বন্ধ করা হবে না।

এ সময় এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।