হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ পারাপারে সহযোগিতার আশ্বাস ইরানের
- আপডেট সময় : ১০:৪৯:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / 2

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাংলাদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ পারাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ইরান। আগাম সমন্বয়ের ভিত্তিতে এ সহযোগিতা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকায় ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আশ্বাস দেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, হরমুজ প্রণালিতে সংঘটিত হামলার ঘটনাগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বাংলাদেশসহ অন্য কোনো দেশের জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারে না। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের নিদর্শন হিসেবে আগাম সমন্বয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ পারাপারে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
বাংলাদেশের জনগণকে ‘মুসলিম ভাই-বোন’ হিসেবে উল্লেখ করে বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে তাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান জালিল রাহিমি। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচলে সহযোগিতার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ ও মূল্যবৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী। তবে সংকটের এই সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে আগাম সমন্বয়ের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাংলাদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে পারাপারে ইরান সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশের জনগণের অবস্থানে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান যৌক্তিক। ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশের মানুষের মনোভাব ও সমর্থনে তারা খুশি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে জালিল রাহিমি বলেন, তাদের সঙ্গে সমঝোতার অর্থ আত্মসমর্পণ, যা ইরান কখনো মেনে নেবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কোনো ধরনের হামলা চালালে পূর্ণ শক্তিতে জবাব দিতে ইরান প্রস্তুত। তবে ইরান নিজে থেকে কোনো যুদ্ধ বা সংঘাত চায় না।
মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো বিরোধ নেই বলেও দাবি করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, আরব দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে ইরানের ওপর হামলা না হলে দেশগুলোর ওপর ইরান কখনো আক্রমণ করবে না।
পবিত্র মক্কা ও মদিনাকে ইরানের ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি পশ্চিমা হস্তক্ষেপ ছাড়াই আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘মক্কা চুক্তি’ গঠনের প্রস্তাব দেন।
এ সময় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন জালিল রাহিমি। তিনি বলেন, এ দ্বন্দ্ব ইরানের ইসলামি বিপ্লবেরও আগের। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে ইয়েমেনের হুথি, ফিলিস্তিনের হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের হাশদ আল-শাবির প্রতি ইরানের শক্তিশালী রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক সমর্থন রয়েছে।



















