বন্ধ হচ্ছে পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠান, আমানতকারীদের টাকা ফেরতে লাগবে পাঁচ হাজার কোটি
- আপডেট সময় : ০৫:৫৭:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
- / 93

দেশের পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা অবসায়নের প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। আগামী অর্থবছরের বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার পর জুলাই মাস থেকেই এ প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
বন্ধ বা অবসায়নের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৯৩ শতাংশ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন ধরে ঋণের অর্থ আদায় করতে ব্যর্থ হওয়ায় আমানতকারীদের টাকাও ফেরত দিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানগুলো। এমন পরিস্থিতিতে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ব্যাংক রেজুলেশন আইনের আওতায় এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা অবসায়ন করা হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন পরিচালককে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি আরও দুজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে।
তিনি আরও জানান, ব্যক্তি আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। গভর্নর বৈঠকে জানিয়েছেন, সরকার আগামী বাজেটে এই অর্থ বরাদ্দ রাখার আশ্বাস দিয়েছে। এরপরই অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরুর সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
ব্যাংক রেজুলেশন আইনে আর্থিক সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠান কীভাবে একীভূত, পুনর্গঠন বা বন্ধ করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা রয়েছে। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে পাওনাদারদের অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থাও আইনে উল্লেখ আছে।
গত বছরের মে মাসে উচ্চ খেলাপি ঋণ ও আমানত ফেরতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা সন্তোষজনক না হওয়ায় সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার ছিল ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, অতীতের নানা অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণেই এসব প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আলোচনায় রয়েছে।


























