ঢাকা ০৭:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
দুর্গাপূজায় ইলিশ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অনুরোধ ভারতের আমদানিকারকদের বাংলা-ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে আসছে সামঞ্জস্য, শিক্ষা ব্যবস্থায় অভিন্ন মানদণ্ডের উদ্যোগ দেশে সারের সংকট নেই, মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চলছে: কৃষিমন্ত্রী প্রভাব-প্রতিপত্তি না দেখে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দুদককে রাষ্ট্রপতির নির্দেশ প্রবাসীদের পাসপোর্ট-এনআইডি সেবা আরও দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ পদ্মায় দ্রুত বাড়ছে পানি, আগামী ১–২ দিনে চর ও নিচু এলাকায় বন্যার আশঙ্কা আশুলিয়ায় দম্পতি হত্যার ঘটনায় যুবক গ্রেফতার, আদালতে স্বীকারোক্তির দাবি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন ‘এক দেশ, এক কিউআর’ ব্যবস্থায় গতি বেড়েছে, প্রতিদিন লেনদেন ১২০ কোটি টাকা কিংদাওয়ে কার্গো জাহাজে ভয়াবহ আগুন, নিহত ২০

আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.২৬%, তবু মজুরি বৃদ্ধির চেয়ে ব্যয় বাড়ার চাপ বেশি

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 12

দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ আগস্টে কিছুটা কমেছে। এ মাসে পণ্য ও সেবার গড় মূল্যবৃদ্ধির হার নেমে এসেছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে। তবে একই সময়ে মানুষের মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল এর চেয়ে কম। ফলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে বড় ধরনের স্বস্তি ফেরেনি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানে তা শূন্য দশমিক ০৬ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। তবে গত বছরের একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। অর্থাৎ গত বছরের আগস্টের তুলনায় চলতি বছরের আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমেছে শূন্য দশমিক ০৩ শতাংশ পয়েন্ট।

মূল্যস্ফীতির এই সামান্য পতনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে খাদ্যপণ্যের দাম। আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ০২ শতাংশে। আগের মাসে এ হার ছিল ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। আর গত বছরের আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। ফলে মাসিক ও বার্ষিক—দুই হিসাবেই খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি উল্টো। আগস্টে এ খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। জুলাইয়ে যা ছিল ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ। গত বছরের আগস্টে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও সেবার মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও বেড়েছে।

অঞ্চলভেদেও মূল্যস্ফীতিতে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। আগস্টে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। জুলাইয়ে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ০১ শতাংশ। বিপরীতে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশে।

শহরাঞ্চলে আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২০ শতাংশ। জুলাইয়ে এটি ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। এ সময়ে শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

এদিকে মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি আগস্টে মজুরি বৃদ্ধির হারও কমেছে। বিবিএসের হিসাবে, জাতীয় পর্যায়ে আগস্টে মজুরি হার সূচকের পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। জুলাইয়ে এ হার ছিল ৮ দশমিক ২২ শতাংশ। গত বছরের আগস্টে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ।

অর্থাৎ আগস্টে মজুরি যে হারে বেড়েছে, মূল্যস্ফীতি ছিল তার চেয়ে শূন্য দশমিক ২১ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। ফলে গড় হিসাবে মানুষের আয় বৃদ্ধির তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার চাপ এখনো বেশি রয়েছে।

খাতভিত্তিক হিসাবে আগস্টে কৃষিতে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ। শিল্পে এ হার ৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ তিনটি প্রধান খাতের মধ্যে সেবা খাতেই মজুরি বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ছিল।

সব মিলিয়ে আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতিতে সামান্য স্বস্তি এলেও খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও সেবার মূল্যবৃদ্ধি এবং মজুরি বৃদ্ধির তুলনায় মূল্যস্ফীতির উচ্চ হার মানুষের ওপর ব্যয়ের চাপ পুরোপুরি কমেনি। বিবিএসের পরিসংখ্যান থেকে সাধারণ মানুষের আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে এই চাপের চিত্রই উঠে এসেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.২৬%, তবু মজুরি বৃদ্ধির চেয়ে ব্যয় বাড়ার চাপ বেশি

আপডেট সময় : ০৫:৩৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ আগস্টে কিছুটা কমেছে। এ মাসে পণ্য ও সেবার গড় মূল্যবৃদ্ধির হার নেমে এসেছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে। তবে একই সময়ে মানুষের মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল এর চেয়ে কম। ফলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ে বড় ধরনের স্বস্তি ফেরেনি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানে তা শূন্য দশমিক ০৬ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। তবে গত বছরের একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। অর্থাৎ গত বছরের আগস্টের তুলনায় চলতি বছরের আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমেছে শূন্য দশমিক ০৩ শতাংশ পয়েন্ট।

মূল্যস্ফীতির এই সামান্য পতনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে খাদ্যপণ্যের দাম। আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ০২ শতাংশে। আগের মাসে এ হার ছিল ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। আর গত বছরের আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। ফলে মাসিক ও বার্ষিক—দুই হিসাবেই খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি উল্টো। আগস্টে এ খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। জুলাইয়ে যা ছিল ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ। গত বছরের আগস্টে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও সেবার মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও বেড়েছে।

অঞ্চলভেদেও মূল্যস্ফীতিতে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। আগস্টে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। জুলাইয়ে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ০১ শতাংশ। বিপরীতে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশে।

শহরাঞ্চলে আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২০ শতাংশ। জুলাইয়ে এটি ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। এ সময়ে শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

এদিকে মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি আগস্টে মজুরি বৃদ্ধির হারও কমেছে। বিবিএসের হিসাবে, জাতীয় পর্যায়ে আগস্টে মজুরি হার সূচকের পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। জুলাইয়ে এ হার ছিল ৮ দশমিক ২২ শতাংশ। গত বছরের আগস্টে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ।

অর্থাৎ আগস্টে মজুরি যে হারে বেড়েছে, মূল্যস্ফীতি ছিল তার চেয়ে শূন্য দশমিক ২১ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। ফলে গড় হিসাবে মানুষের আয় বৃদ্ধির তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার চাপ এখনো বেশি রয়েছে।

খাতভিত্তিক হিসাবে আগস্টে কৃষিতে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ। শিল্পে এ হার ৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ তিনটি প্রধান খাতের মধ্যে সেবা খাতেই মজুরি বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ছিল।

সব মিলিয়ে আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতিতে সামান্য স্বস্তি এলেও খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও সেবার মূল্যবৃদ্ধি এবং মজুরি বৃদ্ধির তুলনায় মূল্যস্ফীতির উচ্চ হার মানুষের ওপর ব্যয়ের চাপ পুরোপুরি কমেনি। বিবিএসের পরিসংখ্যান থেকে সাধারণ মানুষের আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে এই চাপের চিত্রই উঠে এসেছে।