ঢাকা ০৫:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
অ্যাপভিত্তিক সিএনজি সেবা বন্ধের উদ্যোগে উদ্বেগ, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: ২৬ পণ্যে ‘ক্ষতিকর’ উপাদান, তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট ১০ আগস্ট প্রকাশ হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে একমত বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হতে নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতি মন্ত্রীর আহ্বান গুলশানের বাসায় ফিরছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতিতে সর্বনিম্ন ১০% শুল্ক পেল বাংলাদেশ, রপ্তানিতে বাড়ছে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা এআইকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী হরমুজ প্রণালি সংকটে বাংলাদেশে তীব্র সার সংকটের আশঙ্কা, সতর্ক করল ডব্লিউএফপি

অর্থনীতি বাঁচাতে ‘মুক্ত বিনিয়োগ নীতি’ এখনই দরকার—আইনজীবী সমিতির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৯:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • / 47

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় অবিলম্বে ‘মুক্ত বিনিয়োগ নীতি’ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় আইনজীবী সমিতি। সংগঠনটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ মো. খসরুজ্জামান বলেন, এ ধরনের নীতি ছাড়া অর্থনীতিকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করার কার্যকর কোনো বিকল্প নেই।

শুক্রবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে ও বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে অর্থনীতিতে গতি ফিরবে।

তিনি জানান, গত ৩০ এপ্রিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠনটি অংশ নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছে। সেখানে দেশের অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের অর্থনীতির অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, মুদ্রাবাজারে তীব্র তারল্য সংকটের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি বাজেটে বড় অঙ্কের ঘাটতি এবং বৈদেশিক ঋণ বৃদ্ধি অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। সর্বশেষ হিসাবে দেশের বৈদেশিক ঋণ ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এ সময় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ঋণের কিস্তি পেতে রাজস্ব আয় বাড়ানোর শর্তের কথাও উল্লেখ করা হয়। তবে রাজস্ব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উদ্যোগগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন তিনি।

শাহ খসরুজ্জামান বলেন, বিদ্যমান করব্যবস্থা ও আইনি জটিলতার কারণে অনেক বিত্তশালী ব্যক্তি দেশে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হয়ে বিদেশে অর্থ স্থানান্তর করছেন। এ অবস্থায় পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে বাস্তবসম্মত ও আকর্ষণীয় নীতি গ্রহণ জরুরি।

তিনি প্রস্তাব করেন, নতুন বিনিয়োগে কর অব্যাহতি দেওয়া, নির্দিষ্ট হারে কর গ্রহণ করে বিনা প্রশ্নে অর্থ বৈধ করার সুযোগ সৃষ্টি এবং সব খাতে উন্মুক্ত বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা হলে মুদ্রাবাজারে তারল্য সংকট দ্রুত কমে আসবে।

তার মতে, নগদ অর্থের ওপর ৫ থেকে ৭ শতাংশ হারে কর নির্ধারণ করে বিনা প্রশ্নে অর্থ গ্রহণের সুযোগ দিলে স্বল্প সময়েই বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশে ফিরতে পারে। তবে করের হার এক অঙ্কের মধ্যে রাখতে হবে, নইলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, অর্থবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উধাও হয়ে যাওয়া এবং অনুৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণে দেশ অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং করদাতাদের ওপর চাপ না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণের নতুন পথ খুঁজে বের করার ওপর জোর দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বাঁচাতে ‘মুক্ত বিনিয়োগ নীতি’ এখনই দরকার—আইনজীবী সমিতির দাবি

আপডেট সময় : ০৫:৩৯:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় অবিলম্বে ‘মুক্ত বিনিয়োগ নীতি’ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় আইনজীবী সমিতি। সংগঠনটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ মো. খসরুজ্জামান বলেন, এ ধরনের নীতি ছাড়া অর্থনীতিকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করার কার্যকর কোনো বিকল্প নেই।

শুক্রবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে ও বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে অর্থনীতিতে গতি ফিরবে।

তিনি জানান, গত ৩০ এপ্রিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠনটি অংশ নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছে। সেখানে দেশের অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের অর্থনীতির অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, মুদ্রাবাজারে তীব্র তারল্য সংকটের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি বাজেটে বড় অঙ্কের ঘাটতি এবং বৈদেশিক ঋণ বৃদ্ধি অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। সর্বশেষ হিসাবে দেশের বৈদেশিক ঋণ ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এ সময় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ঋণের কিস্তি পেতে রাজস্ব আয় বাড়ানোর শর্তের কথাও উল্লেখ করা হয়। তবে রাজস্ব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উদ্যোগগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন তিনি।

শাহ খসরুজ্জামান বলেন, বিদ্যমান করব্যবস্থা ও আইনি জটিলতার কারণে অনেক বিত্তশালী ব্যক্তি দেশে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হয়ে বিদেশে অর্থ স্থানান্তর করছেন। এ অবস্থায় পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে বাস্তবসম্মত ও আকর্ষণীয় নীতি গ্রহণ জরুরি।

তিনি প্রস্তাব করেন, নতুন বিনিয়োগে কর অব্যাহতি দেওয়া, নির্দিষ্ট হারে কর গ্রহণ করে বিনা প্রশ্নে অর্থ বৈধ করার সুযোগ সৃষ্টি এবং সব খাতে উন্মুক্ত বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা হলে মুদ্রাবাজারে তারল্য সংকট দ্রুত কমে আসবে।

তার মতে, নগদ অর্থের ওপর ৫ থেকে ৭ শতাংশ হারে কর নির্ধারণ করে বিনা প্রশ্নে অর্থ গ্রহণের সুযোগ দিলে স্বল্প সময়েই বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশে ফিরতে পারে। তবে করের হার এক অঙ্কের মধ্যে রাখতে হবে, নইলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, অর্থবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উধাও হয়ে যাওয়া এবং অনুৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণে দেশ অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং করদাতাদের ওপর চাপ না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণের নতুন পথ খুঁজে বের করার ওপর জোর দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।