ঢাকা ০৮:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জামিনের দিনই আদালত প্রাঙ্গণে বিতর্কে পরীমনি, সাংবাদিকদের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনায় সমালোচনা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরির সুযোগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াই আবেদন করতে পারবেন ৩২ বছর বয়সীরা বাগেরহাটে হযরত খানজাহান আলীর (রহ.) মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসকদের ড্রেসআপ নেই, ডাক্তার নাকি দালাল বোঝা মুশকিল: দুদক চেয়ারম্যান সংসদ অধিবেশন ঘিরে ৮ নভেম্বর রাত থেকে সংসদ ভবন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ডিসেম্বরের মধ্যেই পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার আশ্বাস সরকারের হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ পারাপারে সহযোগিতার আশ্বাস ইরানের সাংবাদিকদের গ্রেফতারে আদালতের পূর্বানুমতির বিধান রাখার আলোচনা, সংশোধন হচ্ছে সাইবার সুরক্ষা আইন দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অর্থনীতি বাঁচাতে ‘মুক্ত বিনিয়োগ নীতি’ এখনই দরকার—আইনজীবী সমিতির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৯:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • / 115

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় অবিলম্বে ‘মুক্ত বিনিয়োগ নীতি’ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় আইনজীবী সমিতি। সংগঠনটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ মো. খসরুজ্জামান বলেন, এ ধরনের নীতি ছাড়া অর্থনীতিকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করার কার্যকর কোনো বিকল্প নেই।

শুক্রবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে ও বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে অর্থনীতিতে গতি ফিরবে।

তিনি জানান, গত ৩০ এপ্রিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠনটি অংশ নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছে। সেখানে দেশের অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের অর্থনীতির অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, মুদ্রাবাজারে তীব্র তারল্য সংকটের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি বাজেটে বড় অঙ্কের ঘাটতি এবং বৈদেশিক ঋণ বৃদ্ধি অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। সর্বশেষ হিসাবে দেশের বৈদেশিক ঋণ ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এ সময় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ঋণের কিস্তি পেতে রাজস্ব আয় বাড়ানোর শর্তের কথাও উল্লেখ করা হয়। তবে রাজস্ব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উদ্যোগগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন তিনি।

শাহ খসরুজ্জামান বলেন, বিদ্যমান করব্যবস্থা ও আইনি জটিলতার কারণে অনেক বিত্তশালী ব্যক্তি দেশে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হয়ে বিদেশে অর্থ স্থানান্তর করছেন। এ অবস্থায় পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে বাস্তবসম্মত ও আকর্ষণীয় নীতি গ্রহণ জরুরি।

তিনি প্রস্তাব করেন, নতুন বিনিয়োগে কর অব্যাহতি দেওয়া, নির্দিষ্ট হারে কর গ্রহণ করে বিনা প্রশ্নে অর্থ বৈধ করার সুযোগ সৃষ্টি এবং সব খাতে উন্মুক্ত বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা হলে মুদ্রাবাজারে তারল্য সংকট দ্রুত কমে আসবে।

তার মতে, নগদ অর্থের ওপর ৫ থেকে ৭ শতাংশ হারে কর নির্ধারণ করে বিনা প্রশ্নে অর্থ গ্রহণের সুযোগ দিলে স্বল্প সময়েই বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশে ফিরতে পারে। তবে করের হার এক অঙ্কের মধ্যে রাখতে হবে, নইলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, অর্থবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উধাও হয়ে যাওয়া এবং অনুৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণে দেশ অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং করদাতাদের ওপর চাপ না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণের নতুন পথ খুঁজে বের করার ওপর জোর দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বাঁচাতে ‘মুক্ত বিনিয়োগ নীতি’ এখনই দরকার—আইনজীবী সমিতির দাবি

আপডেট সময় : ০৫:৩৯:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় অবিলম্বে ‘মুক্ত বিনিয়োগ নীতি’ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় আইনজীবী সমিতি। সংগঠনটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ মো. খসরুজ্জামান বলেন, এ ধরনের নীতি ছাড়া অর্থনীতিকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করার কার্যকর কোনো বিকল্প নেই।

শুক্রবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে ও বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে অর্থনীতিতে গতি ফিরবে।

তিনি জানান, গত ৩০ এপ্রিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠনটি অংশ নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেছে। সেখানে দেশের অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের অর্থনীতির অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, মুদ্রাবাজারে তীব্র তারল্য সংকটের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি বাজেটে বড় অঙ্কের ঘাটতি এবং বৈদেশিক ঋণ বৃদ্ধি অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। সর্বশেষ হিসাবে দেশের বৈদেশিক ঋণ ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এ সময় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ঋণের কিস্তি পেতে রাজস্ব আয় বাড়ানোর শর্তের কথাও উল্লেখ করা হয়। তবে রাজস্ব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উদ্যোগগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন তিনি।

শাহ খসরুজ্জামান বলেন, বিদ্যমান করব্যবস্থা ও আইনি জটিলতার কারণে অনেক বিত্তশালী ব্যক্তি দেশে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হয়ে বিদেশে অর্থ স্থানান্তর করছেন। এ অবস্থায় পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে বাস্তবসম্মত ও আকর্ষণীয় নীতি গ্রহণ জরুরি।

তিনি প্রস্তাব করেন, নতুন বিনিয়োগে কর অব্যাহতি দেওয়া, নির্দিষ্ট হারে কর গ্রহণ করে বিনা প্রশ্নে অর্থ বৈধ করার সুযোগ সৃষ্টি এবং সব খাতে উন্মুক্ত বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা হলে মুদ্রাবাজারে তারল্য সংকট দ্রুত কমে আসবে।

তার মতে, নগদ অর্থের ওপর ৫ থেকে ৭ শতাংশ হারে কর নির্ধারণ করে বিনা প্রশ্নে অর্থ গ্রহণের সুযোগ দিলে স্বল্প সময়েই বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশে ফিরতে পারে। তবে করের হার এক অঙ্কের মধ্যে রাখতে হবে, নইলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, অর্থবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উধাও হয়ে যাওয়া এবং অনুৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণে দেশ অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং করদাতাদের ওপর চাপ না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণের নতুন পথ খুঁজে বের করার ওপর জোর দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।