ঢাকা ০১:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি, ব্যয় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার

বক্স অফিস কাঁপাচ্ছে ‘মাইকেল’

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৬:০৭:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / 224

সংগীতাঙ্গনের কিংবদন্তি মাইকেল জ্যাকসন–কে ঘিরে নির্মিত জীবনীভিত্তিক সিনেমা মাইকেল মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে দারুণ সাড়া ফেলেছে। সমালোচকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও দর্শকদের আগ্রহে সিনেমাটি প্রথম দিন থেকেই ঝড় তুলেছে।

গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তির প্রথম দিনেই ছবিটি প্রায় ৩৯ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার আয় করে। সপ্তাহান্তে এই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় ৯৫ থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে, যা সংগীতভিত্তিক জীবনীচিত্রের ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড গড়ার পথে। এর আগে বোহেমিয়ান র্যাপসোডি ও স্ট্রেইট আউটা কম্পটন যে মানদণ্ড তৈরি করেছিল, সেটিও ছাড়িয়ে গেছে এই সিনেমা।

শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও সিনেমাটি সমানভাবে সাফল্য পাচ্ছে। ৮০টির বেশি দেশে মুক্তি পেয়ে প্রথম সপ্তাহেই বিশ্বব্যাপী আয় ২০০ মিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছে। মহামারির পর লায়নসগেট–এর জন্য এটি সবচেয়ে বড় সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ছবিটি পরিচালনা করেছেন অ্যান্টনি ফুকোয়া, যিনি এর আগে দ্য ইকুয়ালাইজার–এর মতো চলচ্চিত্রে সাফল্য পেয়েছেন। প্রযোজনায় ছিলেন গ্রাহাম কিং, যিনি আগেও সফল সংগীতভিত্তিক সিনেমা উপহার দিয়েছেন।

এ সিনেমায় মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তার ভাতিজা জাফর জ্যাকসন। তার অভিনয় ইতোমধ্যে দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে—বিশেষ করে নাচ, ভঙ্গি ও কণ্ঠে মাইকেলের ছোঁয়া তুলে ধরার দক্ষতা নজর কেড়েছে।

যদিও সমালোচকদের একাংশের মতে, সিনেমাটিতে শিল্পীর জীবনের বিতর্কিত কিছু অধ্যায় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকের অভিযোগগুলো খুব গভীরে দেখানো হয়নি। তবে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ছিল একেবারেই ভিন্ন। অনেকের কাছে এটি শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং এক ধরনের অভিজ্ঞতা—যা দর্শককে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বিলি জিন বা থ্রিলার–এর সময়ের স্মৃতিতে।

সিনেমাটি নির্মাণ ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। মাঝপথে আইনি জটিলতা ও পুনরায় দৃশ্যধারণের কারণে বাজেট বেড়ে প্রায় ১৫৫ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। ১৯৯৩ সালের একটি অভিযোগ শুরুতে গল্পে থাকলেও পরে আইনি কারণে তা বাদ দিতে হয়। ফলে নির্মাতারা গল্পের ফোকাস সরিয়ে আনেন তার পারিবারিক সম্পর্কের দিকে, বিশেষ করে বাবা জো জ্যাকসন–এর সঙ্গে সম্পর্ককে কেন্দ্র করে, যা ছবির আবেগঘন দিককে আরও গভীর করেছে।

এই সাফল্যের পেছনে কয়েকটি বিষয় বড় ভূমিকা রেখেছে—মাইকেল জ্যাকসনের বিশ্বজোড়া জনপ্রিয়তা, দর্শকদের জন্য তৈরি ‘ফ্যানমুখী’ উপস্থাপন, এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা। সব মিলিয়ে বলা যায়, এই সিনেমা শুধু একজন শিল্পীর গল্প নয়, বরং একটি যুগকে নতুন করে জীবন্ত করে তুলেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বক্স অফিস কাঁপাচ্ছে ‘মাইকেল’

আপডেট সময় : ০৬:০৭:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

সংগীতাঙ্গনের কিংবদন্তি মাইকেল জ্যাকসন–কে ঘিরে নির্মিত জীবনীভিত্তিক সিনেমা মাইকেল মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে দারুণ সাড়া ফেলেছে। সমালোচকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও দর্শকদের আগ্রহে সিনেমাটি প্রথম দিন থেকেই ঝড় তুলেছে।

গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তির প্রথম দিনেই ছবিটি প্রায় ৩৯ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার আয় করে। সপ্তাহান্তে এই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় ৯৫ থেকে ১০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে, যা সংগীতভিত্তিক জীবনীচিত্রের ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড গড়ার পথে। এর আগে বোহেমিয়ান র্যাপসোডি ও স্ট্রেইট আউটা কম্পটন যে মানদণ্ড তৈরি করেছিল, সেটিও ছাড়িয়ে গেছে এই সিনেমা।

শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও সিনেমাটি সমানভাবে সাফল্য পাচ্ছে। ৮০টির বেশি দেশে মুক্তি পেয়ে প্রথম সপ্তাহেই বিশ্বব্যাপী আয় ২০০ মিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছে। মহামারির পর লায়নসগেট–এর জন্য এটি সবচেয়ে বড় সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ছবিটি পরিচালনা করেছেন অ্যান্টনি ফুকোয়া, যিনি এর আগে দ্য ইকুয়ালাইজার–এর মতো চলচ্চিত্রে সাফল্য পেয়েছেন। প্রযোজনায় ছিলেন গ্রাহাম কিং, যিনি আগেও সফল সংগীতভিত্তিক সিনেমা উপহার দিয়েছেন।

এ সিনেমায় মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তার ভাতিজা জাফর জ্যাকসন। তার অভিনয় ইতোমধ্যে দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে—বিশেষ করে নাচ, ভঙ্গি ও কণ্ঠে মাইকেলের ছোঁয়া তুলে ধরার দক্ষতা নজর কেড়েছে।

যদিও সমালোচকদের একাংশের মতে, সিনেমাটিতে শিল্পীর জীবনের বিতর্কিত কিছু অধ্যায় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকের অভিযোগগুলো খুব গভীরে দেখানো হয়নি। তবে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ছিল একেবারেই ভিন্ন। অনেকের কাছে এটি শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং এক ধরনের অভিজ্ঞতা—যা দর্শককে ফিরিয়ে নিয়ে যায় বিলি জিন বা থ্রিলার–এর সময়ের স্মৃতিতে।

সিনেমাটি নির্মাণ ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। মাঝপথে আইনি জটিলতা ও পুনরায় দৃশ্যধারণের কারণে বাজেট বেড়ে প্রায় ১৫৫ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। ১৯৯৩ সালের একটি অভিযোগ শুরুতে গল্পে থাকলেও পরে আইনি কারণে তা বাদ দিতে হয়। ফলে নির্মাতারা গল্পের ফোকাস সরিয়ে আনেন তার পারিবারিক সম্পর্কের দিকে, বিশেষ করে বাবা জো জ্যাকসন–এর সঙ্গে সম্পর্ককে কেন্দ্র করে, যা ছবির আবেগঘন দিককে আরও গভীর করেছে।

এই সাফল্যের পেছনে কয়েকটি বিষয় বড় ভূমিকা রেখেছে—মাইকেল জ্যাকসনের বিশ্বজোড়া জনপ্রিয়তা, দর্শকদের জন্য তৈরি ‘ফ্যানমুখী’ উপস্থাপন, এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা। সব মিলিয়ে বলা যায়, এই সিনেমা শুধু একজন শিল্পীর গল্প নয়, বরং একটি যুগকে নতুন করে জীবন্ত করে তুলেছে।